Hi

০৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদরাসায় শারীরিক শাস্তি গ্রহণযোগ্য নয়: মিজানুর রহমান আজহারী

মাদরাসায় শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি, নির্যাতন কিংবা শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুপযুক্ত স্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন ইসলামি চিন্তাবিদ ড. মিজানুর রহমান আজহারী। রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। নিজেদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে জবাবদিহি ও সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়াই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

আজহারী উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাদরাসাকেন্দ্রিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা জনমনে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এসব বিষয়ে দায়িত্বশীল আলেম ও মাদরাসা পরিচালনাকারীদের খোলামেলা আলোচনার পাশাপাশি আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিজেদের ভুল নিজেরাই সংশোধন না করলে পুরো মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা অযাচিত চাপের মুখে পড়তে পারে, যা দ্বীনি শিক্ষার ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলবে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বহু আলেম, আলেমা ও দ্বীনদার প্রজন্ম গড়ে উঠেছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরের সূত্র টেনে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনেক মাদরাসা ও হিফজখানা চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরার অভাব ও যথাযথ তদারকির ঘাটতি থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ধর্মীয় শিক্ষার মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বেত্রাঘাত কিংবা যে কোনো ধরনের অতিরিক্ত শাস্তি, যা শিশুর মনে ভয় বা অপমান তৈরি করে, তা কখনোই শিক্ষার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রজ্ঞা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান থাকলেই হবে না, বরং শিশুদের মনস্তত্ত্ব বুঝে বয়সোপযোগী আচরণ করার দক্ষতাও থাকতে হবে।

প্রতিটি মাদরাসায় শিশু সুরক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে আজহারী বলেন, শিক্ষার্থীদের নির্ভয়ে অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকতে হবে। গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এছাড়া শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আচরণের একটি সুস্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন। অভিযোগের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বাইরে থাকা নয়। বরং এখানে নিয়মিত তদারকি, মানসম্মত পাঠ্যক্রম এবং দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সবশেষে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এসব সংস্কারের মূল লক্ষ্য মাদরাসা শিক্ষাকে দুর্বল করা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার মান রক্ষার মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষার মর্যাদা সুসংহত করা। তাই মাদরাসা শিক্ষাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ, শক্তিশালী ও আস্থাশীল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।

রাজবাড়ীতে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত এক

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মাদরাসায় শারীরিক শাস্তি গ্রহণযোগ্য নয়: মিজানুর রহমান আজহারী

আপডেট : ০২:০১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

মাদরাসায় শাসনের নামে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি, নির্যাতন কিংবা শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুপযুক্ত স্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন ইসলামি চিন্তাবিদ ড. মিজানুর রহমান আজহারী। রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। নিজেদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে জবাবদিহি ও সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়াই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

আজহারী উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাদরাসাকেন্দ্রিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা জনমনে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এসব বিষয়ে দায়িত্বশীল আলেম ও মাদরাসা পরিচালনাকারীদের খোলামেলা আলোচনার পাশাপাশি আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিজেদের ভুল নিজেরাই সংশোধন না করলে পুরো মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা অযাচিত চাপের মুখে পড়তে পারে, যা দ্বীনি শিক্ষার ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলবে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বহু আলেম, আলেমা ও দ্বীনদার প্রজন্ম গড়ে উঠেছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরের সূত্র টেনে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনেক মাদরাসা ও হিফজখানা চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরার অভাব ও যথাযথ তদারকির ঘাটতি থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ধর্মীয় শিক্ষার মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বেত্রাঘাত কিংবা যে কোনো ধরনের অতিরিক্ত শাস্তি, যা শিশুর মনে ভয় বা অপমান তৈরি করে, তা কখনোই শিক্ষার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রজ্ঞা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান থাকলেই হবে না, বরং শিশুদের মনস্তত্ত্ব বুঝে বয়সোপযোগী আচরণ করার দক্ষতাও থাকতে হবে।

প্রতিটি মাদরাসায় শিশু সুরক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে আজহারী বলেন, শিক্ষার্থীদের নির্ভয়ে অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকতে হবে। গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এছাড়া শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আচরণের একটি সুস্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন। অভিযোগের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বাইরে থাকা নয়। বরং এখানে নিয়মিত তদারকি, মানসম্মত পাঠ্যক্রম এবং দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সবশেষে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এসব সংস্কারের মূল লক্ষ্য মাদরাসা শিক্ষাকে দুর্বল করা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার মান রক্ষার মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষার মর্যাদা সুসংহত করা। তাই মাদরাসা শিক্ষাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ, শক্তিশালী ও আস্থাশীল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।