Hi

১০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য

ফেসবুকে ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সি এক শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আনোজান শিবারাসা নামের ওই যুবকের পরিবার বর্তমানে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে এবং তার জীবন রক্ষায় সৌদি সরকারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আবেদন জানিয়েছে। আনোজানের মা রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলেকে ক্ষমা করে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কায় এ ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে; দেশটির রাজনৈতিক দল, সরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন আনোজানের সাজা মওকুফের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো সময়সূচি প্রকাশ করেনি, তবে অতীতে পরিবার বা দূতাবাসকে না জানিয়ে সাজা কার্যকরের নজির রয়েছে। কবে সাজা কার্যকর হবে, তা-ও জানা যায়নি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি প্রক্রিয়া

  • সূত্রপাত: জুন মাসের শেষের দিকে শ্রীলঙ্কায় একটি ধর্মীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের সূত্রপাত।
  • বিতর্কিত মন্তব্য: হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নিয়ে একটি ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় অনলাইনে ধর্মীয় বিবাদ শুরু হয়। এক ব্যক্তি হিন্দু দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করলে, তার প্রতিক্রিয়ায় আনোজান তামিল ভাষায় মহানবী (সা.)-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
  • প্রাথমিক রায়: আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট তাকে শুরুতে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেছিল, যা পরে আপিল আদালত মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে।
  • আইনি পরিবর্তন: ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি প্রসিকিউশন সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনে বিচারের আবেদন করলে আদালত সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

আনোজান ক্ষমা চেয়ে মন্তব্যটি মুছে ফেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করলেও তার স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। জুলাই মাসে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার ব্যক্তিগত ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়। আনোজানের ভাই হামসিদান শিবারাসার ভাষ্যমতে, শুরুতে বিষয়টি সৌদি আরবে কেউ জানতেন না। শ্রীলঙ্কার কিছু ব্যক্তি তার ভাইয়ের কর্মস্থলে ই-মেইল পাঠানোর পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং আনোজানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নিযুক্ত রয়েছেন। ২১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করে পরিবার তার প্রাণভিক্ষার আবেদন জানায়। শ্রীলঙ্কা থেকে একটি চার সদস্যের আইনি প্রতিনিধিদল সৌদি আইনজীবীদের সঙ্গে মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য দেশটিতে যাচ্ছে। ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে আনোজানের কোনো যোগাযোগ নেই। তার সাজা কমানোর আবেদন করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয় বলে জানান শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও মানবাধিকার উদ্বেগ

  • মানবাধিকার উদ্বেগ: সৌদি আরবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের দায়ে কঠোর সাজার ইতিহাস রয়েছে, যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
  • আগের নজির: ২০২৩ সালে সৌদি নাগরিক ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আল-গামদিকে একই অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও পরে তা ৩০ বছরের কারাদণ্ডে পরিবর্তিত হয়।
  • শ্রমিক পরিস্থিতি: আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যমতে, সৌদি আরবে ১ কোটির বেশি বিদেশি শ্রমিক কর্মরত।
  • আইনি ঝুঁকি: মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা ও পর্যাপ্ত আইনি প্রতিনিধিত্বের অভাবে স্বল্প আয়ের অভিবাসী শ্রমিকরা দেশটির বিচারব্যবস্থায় বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়েন।

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঘটনা

  • ইরানি সেনাবাহিনীর কাছে আধুনিক সমরাস্ত্রের বিশাল মজুদ রয়েছে: মুখপাত্র।
  • ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় একই পরিবারের ৬ সদস্য নিহত।
  • লোহিত সাগরে জরুরি সংকেত পাঠিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার নিখোঁজ।
  • সময় নষ্টের যুগ শেষ, শর্ত না মানলে হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি: গালিবাফ।
  • ইরান থেকে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি হ্রাস।
  • গাজার ধ্বংসস্তূপের ছবি প্রকাশ করে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নিন্দা।
  • বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান রাষ্ট্রপতির।
  • সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে ‘পিচ্চি রাজা’ কাণ্ড।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আনোজানকে সহায়তার জন্য সব ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। সৌদি আরবে থাকা দুটি আইনি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে আনোজানের মামলাটি পরিচালনা করছে। কারাবন্দি আনোজানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। সৌদির কারাগারে সাধারণ বন্দিদের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় দূতাবাস ও কারাগার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছে পরিবারটি। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার সংস্থাগুলো এই সাজার বিষয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য

আপডেট : ০৯:৪০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ফেসবুকে ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সি এক শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আনোজান শিবারাসা নামের ওই যুবকের পরিবার বর্তমানে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে এবং তার জীবন রক্ষায় সৌদি সরকারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আবেদন জানিয়েছে। আনোজানের মা রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলেকে ক্ষমা করে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কায় এ ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে; দেশটির রাজনৈতিক দল, সরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন আনোজানের সাজা মওকুফের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো সময়সূচি প্রকাশ করেনি, তবে অতীতে পরিবার বা দূতাবাসকে না জানিয়ে সাজা কার্যকরের নজির রয়েছে। কবে সাজা কার্যকর হবে, তা-ও জানা যায়নি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি প্রক্রিয়া

  • সূত্রপাত: জুন মাসের শেষের দিকে শ্রীলঙ্কায় একটি ধর্মীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের সূত্রপাত।
  • বিতর্কিত মন্তব্য: হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নিয়ে একটি ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় অনলাইনে ধর্মীয় বিবাদ শুরু হয়। এক ব্যক্তি হিন্দু দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করলে, তার প্রতিক্রিয়ায় আনোজান তামিল ভাষায় মহানবী (সা.)-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
  • প্রাথমিক রায়: আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট তাকে শুরুতে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেছিল, যা পরে আপিল আদালত মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে।
  • আইনি পরিবর্তন: ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি প্রসিকিউশন সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনে বিচারের আবেদন করলে আদালত সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

আনোজান ক্ষমা চেয়ে মন্তব্যটি মুছে ফেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করলেও তার স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। জুলাই মাসে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার ব্যক্তিগত ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়। আনোজানের ভাই হামসিদান শিবারাসার ভাষ্যমতে, শুরুতে বিষয়টি সৌদি আরবে কেউ জানতেন না। শ্রীলঙ্কার কিছু ব্যক্তি তার ভাইয়ের কর্মস্থলে ই-মেইল পাঠানোর পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং আনোজানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নিযুক্ত রয়েছেন। ২১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করে পরিবার তার প্রাণভিক্ষার আবেদন জানায়। শ্রীলঙ্কা থেকে একটি চার সদস্যের আইনি প্রতিনিধিদল সৌদি আইনজীবীদের সঙ্গে মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য দেশটিতে যাচ্ছে। ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে আনোজানের কোনো যোগাযোগ নেই। তার সাজা কমানোর আবেদন করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয় বলে জানান শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও মানবাধিকার উদ্বেগ

  • মানবাধিকার উদ্বেগ: সৌদি আরবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের দায়ে কঠোর সাজার ইতিহাস রয়েছে, যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
  • আগের নজির: ২০২৩ সালে সৌদি নাগরিক ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আল-গামদিকে একই অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও পরে তা ৩০ বছরের কারাদণ্ডে পরিবর্তিত হয়।
  • শ্রমিক পরিস্থিতি: আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যমতে, সৌদি আরবে ১ কোটির বেশি বিদেশি শ্রমিক কর্মরত।
  • আইনি ঝুঁকি: মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা ও পর্যাপ্ত আইনি প্রতিনিধিত্বের অভাবে স্বল্প আয়ের অভিবাসী শ্রমিকরা দেশটির বিচারব্যবস্থায় বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়েন।

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঘটনা

  • ইরানি সেনাবাহিনীর কাছে আধুনিক সমরাস্ত্রের বিশাল মজুদ রয়েছে: মুখপাত্র।
  • ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় একই পরিবারের ৬ সদস্য নিহত।
  • লোহিত সাগরে জরুরি সংকেত পাঠিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার নিখোঁজ।
  • সময় নষ্টের যুগ শেষ, শর্ত না মানলে হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি: গালিবাফ।
  • ইরান থেকে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি হ্রাস।
  • গাজার ধ্বংসস্তূপের ছবি প্রকাশ করে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নিন্দা।
  • বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান রাষ্ট্রপতির।
  • সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে ‘পিচ্চি রাজা’ কাণ্ড।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আনোজানকে সহায়তার জন্য সব ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। সৌদি আরবে থাকা দুটি আইনি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে আনোজানের মামলাটি পরিচালনা করছে। কারাবন্দি আনোজানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। সৌদির কারাগারে সাধারণ বন্দিদের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় দূতাবাস ও কারাগার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছে পরিবারটি। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার সংস্থাগুলো এই সাজার বিষয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।