Hi

০৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের জামালপুরে শেষ বিদায়

ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস মোড়ে রাজিব পরিবহনের একটি বাসের সাথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে প্রাণ হারানো সাতজনের মরদেহ জামালপুরে তাদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়। শুক্রবার দুপুরে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ময়নাতদন্ত শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর রাতে এবং শনিবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। রাত পেরিয়ে সকাল হলেও শোকের ভার কাটেনি পরিবারগুলোর।

নিহতদের মধ্যে রানাগাছা ইউনিয়নের দড়ি হামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তার মা রশিদা বেগম (৮৫), লেবুর মেয়ে মর্জিনা বেগম (২৫) এবং মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিলান। পরিবারের চারজনকে একত্রে হারানোর শোক কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনেরা। মোফাজ্জল হোসেন লেবু ও তার মা রশিদা বেগমের জানাজা বাড়ির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মর্জিনা বেগম ও তার শিশুসন্তান মিলানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় রানাগাছা ইউনিয়নের ঘোড়ার কান্দা গ্রামে, যা মর্জিনার শ্বশুরবাড়ি। সেখানে জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি সমাহিত করা হয়েছে। এদিকে একই দুর্ঘটনায় নিহত সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুজন মিয়ার মরদেহও শুক্রবার রাতে তার বাড়িতে পৌঁছে। স্থানীয় বীর গোবিন্দি গ্রামের বাসিন্দা সুজনের জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

শরিফপুর ইউনিয়নের বাদেচাঁন্দি গ্রামের বাসিন্দা আকরাম হোসেন (৪৯) ও তার স্ত্রী মমতা বেগমও (৩৯) এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহও শুক্রবার রাতে বাড়িতে পৌঁছালে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন হয়। স্থানীয়রা জানান, আকরাম নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং তার স্ত্রী মমতা ভালুকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। প্রায় এক মাস আগে বাড়িতে আসা এই দম্পতি শুক্রবার নতুন কর্মস্থলে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। অনেকেই শেষবারের মতো স্বজনদের মুখ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। রেখে গেছে স্বজনদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

নিহতদের জানাজায় স্থানীয়দের বিপুল উপস্থিতি ও শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়। জানাজায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি। তারা জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে বাস চালানো বন্ধ, চালকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি এবং যানবাহনের ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স যাচাইয়ের আহ্বান জানান। তাদের দাবি, প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একটি সড়ক দুর্ঘটনা একসঙ্গে নিভিয়ে দিয়েছে সাতটি প্রাণ।

দুর্ঘটনার শিকার অটোরিকশাটি শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া বাইপাস মোড়ের গন্দ্রপা এলাকায় রাজিব পরিবহনের বাসটির সাথে সংঘর্ষে দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয়দের প্রশ্ন, বারবার প্রাণহানির পরও কার্যকর পদক্ষেপ কেন নেওয়া হচ্ছে না?

জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন দড়ি হামিদপুরের ভাটিপাড়া গ্রামে জানাজায় উপস্থিত হয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং মৃত্যুর মিছিল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেছেন।

জনপ্রিয়

ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হসপিটালে বিশ্ব হার্ট দিবসের মাসব্যাপী কর্মসূচি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের জামালপুরে শেষ বিদায়

আপডেট : ০৩:৪২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস মোড়ে রাজিব পরিবহনের একটি বাসের সাথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে প্রাণ হারানো সাতজনের মরদেহ জামালপুরে তাদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়। শুক্রবার দুপুরে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ময়নাতদন্ত শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর রাতে এবং শনিবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। রাত পেরিয়ে সকাল হলেও শোকের ভার কাটেনি পরিবারগুলোর।

নিহতদের মধ্যে রানাগাছা ইউনিয়নের দড়ি হামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তার মা রশিদা বেগম (৮৫), লেবুর মেয়ে মর্জিনা বেগম (২৫) এবং মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিলান। পরিবারের চারজনকে একত্রে হারানোর শোক কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনেরা। মোফাজ্জল হোসেন লেবু ও তার মা রশিদা বেগমের জানাজা বাড়ির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মর্জিনা বেগম ও তার শিশুসন্তান মিলানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় রানাগাছা ইউনিয়নের ঘোড়ার কান্দা গ্রামে, যা মর্জিনার শ্বশুরবাড়ি। সেখানে জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি সমাহিত করা হয়েছে। এদিকে একই দুর্ঘটনায় নিহত সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুজন মিয়ার মরদেহও শুক্রবার রাতে তার বাড়িতে পৌঁছে। স্থানীয় বীর গোবিন্দি গ্রামের বাসিন্দা সুজনের জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

শরিফপুর ইউনিয়নের বাদেচাঁন্দি গ্রামের বাসিন্দা আকরাম হোসেন (৪৯) ও তার স্ত্রী মমতা বেগমও (৩৯) এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহও শুক্রবার রাতে বাড়িতে পৌঁছালে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন হয়। স্থানীয়রা জানান, আকরাম নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং তার স্ত্রী মমতা ভালুকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। প্রায় এক মাস আগে বাড়িতে আসা এই দম্পতি শুক্রবার নতুন কর্মস্থলে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। অনেকেই শেষবারের মতো স্বজনদের মুখ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। রেখে গেছে স্বজনদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

নিহতদের জানাজায় স্থানীয়দের বিপুল উপস্থিতি ও শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়। জানাজায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি। তারা জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে বাস চালানো বন্ধ, চালকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি এবং যানবাহনের ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স যাচাইয়ের আহ্বান জানান। তাদের দাবি, প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একটি সড়ক দুর্ঘটনা একসঙ্গে নিভিয়ে দিয়েছে সাতটি প্রাণ।

দুর্ঘটনার শিকার অটোরিকশাটি শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া বাইপাস মোড়ের গন্দ্রপা এলাকায় রাজিব পরিবহনের বাসটির সাথে সংঘর্ষে দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয়দের প্রশ্ন, বারবার প্রাণহানির পরও কার্যকর পদক্ষেপ কেন নেওয়া হচ্ছে না?

জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন দড়ি হামিদপুরের ভাটিপাড়া গ্রামে জানাজায় উপস্থিত হয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং মৃত্যুর মিছিল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেছেন।