Hi

০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ বিনিয়োগের আহ্বান স্পিকারের

বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে সুইডেনের অভিজ্ঞ কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রবিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকসের সঙ্গে আয়োজিত সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই আহ্বান জানান। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সুইডেন দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। দুই দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এ দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জীবন দিতেও পিছপা হয়নি।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোটাধিকার নিয়ে স্পিকার বলেন, গত ১৭ বছরের শাসনামলে মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছে। বর্তমানে জনগণ যাতে স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি তিনি সুইডিশ রাষ্ট্রদূতকে সংবিধান সংস্কার কমিটির চলমান কার্যক্রম ও অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস সুইডেনের সংসদীয় কাঠামোর বর্ণনা দিয়ে জানান, সুইডেনের পার্লামেন্টে মোট ৩৪৯টি আসন রয়েছে এবং সংসদ সদস্যরা জনগণের সরাসরি ভোটে চার বছরের জন্য নির্বাচিত হন। সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হওয়া সত্ত্বেও দেশটির প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা নির্বাচিত পার্লামেন্ট ও সরকারের হাতেই ন্যস্ত থাকে। সুইডেনের এককক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদীয় কাঠামোর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাদৃশ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে সুইডিশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের সংসদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চায়ের দোকান চালিয়ে ২৫ বছর ধরে সংসার সামলাচ্ছেন স্বপ্না আক্তার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ বিনিয়োগের আহ্বান স্পিকারের

আপডেট : ০৬:১৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে সুইডেনের অভিজ্ঞ কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রবিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকসের সঙ্গে আয়োজিত সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই আহ্বান জানান। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সুইডেন দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। দুই দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এ দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জীবন দিতেও পিছপা হয়নি।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোটাধিকার নিয়ে স্পিকার বলেন, গত ১৭ বছরের শাসনামলে মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছে। বর্তমানে জনগণ যাতে স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি তিনি সুইডিশ রাষ্ট্রদূতকে সংবিধান সংস্কার কমিটির চলমান কার্যক্রম ও অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস সুইডেনের সংসদীয় কাঠামোর বর্ণনা দিয়ে জানান, সুইডেনের পার্লামেন্টে মোট ৩৪৯টি আসন রয়েছে এবং সংসদ সদস্যরা জনগণের সরাসরি ভোটে চার বছরের জন্য নির্বাচিত হন। সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হওয়া সত্ত্বেও দেশটির প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা নির্বাচিত পার্লামেন্ট ও সরকারের হাতেই ন্যস্ত থাকে। সুইডেনের এককক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদীয় কাঠামোর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাদৃশ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে সুইডিশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের সংসদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।