Hi

০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফোডেনের হ্যাটট্রিকে ম্যান সিটির জয়

চ্যাম্পিয়নস লিগে মঙ্গলবার রাতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুলের ম্যাচে। পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হারের ক্ষত মুছে ম্যানচেস্টার সিটি এইকে এথেন্সকে ৫-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে। অন্যদিকে, অ্যানফিল্ডে ভিলারিয়ালের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪-৩ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে লিভারপুল। চ্যাম্পিয়নস লিগে একই রাতে দেখা গেল দুই রকম গল্প। ম্যানচেস্টার সিটি জিতেছে ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকে, প্রায় বিনা চাপে, ৫-১ গোলে। লিভারপুল দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে ভিয়ারিয়ালকে হারিয়েছে ৪-৩ গোলে। গত সপ্তাহেই ঘরের মাঠে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল দলটি। সেই ধাক্কা কাটিয়ে জয়ে ফিরতে এনজো মারেসকার দল দল বেছে নিল এইকে এথেন্সকে। ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে জয়ী দল থেকে এই ম্যাচে ছয়টি পরিবর্তন এনেছিলেন ইরাওলা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী ম্যানচেস্টার সিটি এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লাগার পর এলিয়ট অ্যান্ডারসনের গোলে এগিয়ে যায়। উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনল পিএসজি। গ্রীষ্মে দলে আসা এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে বল জালে ঠেলে দেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন।

এরপর ফিল ফোডেনের নৈপুণ্যে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় সিটি। রিকো লুইসের পাস থেকে দারুণ শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফোডেন। বিরতির পর স্ট্যাভ্রোস পিলিওস এথেন্সের হয়ে একটি গোল শোধ দিলেও তা সিটির জয় ঠেকাতে পারেনি। ফোডেনের পাস থেকে রায়ান শেরকি গোল করার পর ফোডেন নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ম্যাচে একটি গোল করানোর পাশাপাশি তিন গোল করে ইতিহাদে নিজের রাত স্মরণীয় করে রাখেন এই ইংলিশ তারকা। ১১ মিনিট পর কাছ থেকে জাল খুঁজে নিয়ে পূরণ করেন নিজের হ্যাটট্রিকও। একটু পরে অ্যালানের শট আটকে যায় পোস্টে। লক্ষ্যে রাখা প্রথম শটেই সিটির রক্ষণ ভেদ করেন স্ট্যাভ্রোস পিলিওস। প্রথম স্পর্শেই বল পাঠান পোস্টের কোনায়।

লিভারপুলের ম্যাচটি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত পরিস্থিতির। ম্যাচের আধা ঘণ্টার মধ্যেই জর্জেস মিকাউতাদজে ও সের্হি কার্দোনার গোলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে আন্দোনি ইরাওলার দল। ভার্জিল ফন ডাইকের একটি ভুল ও রক্ষণভাগের দুর্বলতায় গোল দুটি হজম করে স্বাগতিকরা। তবে ৩৬ মিনিটে কনস্তান্তিনোস সিমিকাসের কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার হেডে ব্যবধান কমালে লিভারপুলের ম্যাচে ফেরার পথ প্রশস্ত হয়। বিরতির ঠিক আগে রিও এনগুমোহার চমৎকার চিপ থেকে রোনাল্ড আরাউহো সমতা ফেরান। সেখানে নায়ক লিভারপুলের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ১৮ বছর বয়সী রিও এনগুমোহা। অ্যানফিল্ডের ছবি ছিল একেবারে আলাদা।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে লিভারপুল পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে। এনগুমোহার নিখুঁত পাস থেকে ম্যাক অ্যালিস্টার দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। কিছুক্ষণ পরেই ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস বাঁ পায়ের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ক্লাবের হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করে ব্যবধান ৪-২ করেন। শেষ দিকে তানি ওলুওয়াসেই ভিলারিয়ালের হয়ে আরও একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। আলেক্সান্দার ইসাক, ব্র্যাডলি বারকোলা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসকে রেখেছিলেন বেঞ্চে।

এই দুই ম্যাচে ইংলিশ জায়ান্টদের পারফরম্যান্স চ্যাম্পিয়নস লিগের লড়াইয়ে তাদের অবস্থানকে আবারও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করল। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া লিভারপুলের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা ফুটবল ভক্তদের জন্য ছিল বড় প্রাপ্তি। অন্যদিকে, ফোডেনের একক নৈপুণ্য ম্যানচেস্টার সিটির আক্রমণের ধার আবারও প্রমাণ করল।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ফোডেনের হ্যাটট্রিকে ম্যান সিটির জয়

আপডেট : ০৬:১৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

চ্যাম্পিয়নস লিগে মঙ্গলবার রাতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুলের ম্যাচে। পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হারের ক্ষত মুছে ম্যানচেস্টার সিটি এইকে এথেন্সকে ৫-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে। অন্যদিকে, অ্যানফিল্ডে ভিলারিয়ালের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪-৩ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে লিভারপুল। চ্যাম্পিয়নস লিগে একই রাতে দেখা গেল দুই রকম গল্প। ম্যানচেস্টার সিটি জিতেছে ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকে, প্রায় বিনা চাপে, ৫-১ গোলে। লিভারপুল দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে ভিয়ারিয়ালকে হারিয়েছে ৪-৩ গোলে। গত সপ্তাহেই ঘরের মাঠে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল দলটি। সেই ধাক্কা কাটিয়ে জয়ে ফিরতে এনজো মারেসকার দল দল বেছে নিল এইকে এথেন্সকে। ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে জয়ী দল থেকে এই ম্যাচে ছয়টি পরিবর্তন এনেছিলেন ইরাওলা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী ম্যানচেস্টার সিটি এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লাগার পর এলিয়ট অ্যান্ডারসনের গোলে এগিয়ে যায়। উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনল পিএসজি। গ্রীষ্মে দলে আসা এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে বল জালে ঠেলে দেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন।

এরপর ফিল ফোডেনের নৈপুণ্যে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় সিটি। রিকো লুইসের পাস থেকে দারুণ শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফোডেন। বিরতির পর স্ট্যাভ্রোস পিলিওস এথেন্সের হয়ে একটি গোল শোধ দিলেও তা সিটির জয় ঠেকাতে পারেনি। ফোডেনের পাস থেকে রায়ান শেরকি গোল করার পর ফোডেন নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ম্যাচে একটি গোল করানোর পাশাপাশি তিন গোল করে ইতিহাদে নিজের রাত স্মরণীয় করে রাখেন এই ইংলিশ তারকা। ১১ মিনিট পর কাছ থেকে জাল খুঁজে নিয়ে পূরণ করেন নিজের হ্যাটট্রিকও। একটু পরে অ্যালানের শট আটকে যায় পোস্টে। লক্ষ্যে রাখা প্রথম শটেই সিটির রক্ষণ ভেদ করেন স্ট্যাভ্রোস পিলিওস। প্রথম স্পর্শেই বল পাঠান পোস্টের কোনায়।

লিভারপুলের ম্যাচটি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত পরিস্থিতির। ম্যাচের আধা ঘণ্টার মধ্যেই জর্জেস মিকাউতাদজে ও সের্হি কার্দোনার গোলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে আন্দোনি ইরাওলার দল। ভার্জিল ফন ডাইকের একটি ভুল ও রক্ষণভাগের দুর্বলতায় গোল দুটি হজম করে স্বাগতিকরা। তবে ৩৬ মিনিটে কনস্তান্তিনোস সিমিকাসের কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার হেডে ব্যবধান কমালে লিভারপুলের ম্যাচে ফেরার পথ প্রশস্ত হয়। বিরতির ঠিক আগে রিও এনগুমোহার চমৎকার চিপ থেকে রোনাল্ড আরাউহো সমতা ফেরান। সেখানে নায়ক লিভারপুলের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ১৮ বছর বয়সী রিও এনগুমোহা। অ্যানফিল্ডের ছবি ছিল একেবারে আলাদা।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে লিভারপুল পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে। এনগুমোহার নিখুঁত পাস থেকে ম্যাক অ্যালিস্টার দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। কিছুক্ষণ পরেই ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস বাঁ পায়ের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ক্লাবের হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করে ব্যবধান ৪-২ করেন। শেষ দিকে তানি ওলুওয়াসেই ভিলারিয়ালের হয়ে আরও একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। আলেক্সান্দার ইসাক, ব্র্যাডলি বারকোলা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসকে রেখেছিলেন বেঞ্চে।

এই দুই ম্যাচে ইংলিশ জায়ান্টদের পারফরম্যান্স চ্যাম্পিয়নস লিগের লড়াইয়ে তাদের অবস্থানকে আবারও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করল। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া লিভারপুলের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা ফুটবল ভক্তদের জন্য ছিল বড় প্রাপ্তি। অন্যদিকে, ফোডেনের একক নৈপুণ্য ম্যানচেস্টার সিটির আক্রমণের ধার আবারও প্রমাণ করল।