Hi

০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবাইকে নিয়ে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে সব নাগরিককে এক কাতারে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সুখী, সমৃদ্ধ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ দেশের সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় দেশের মানুষ ধর্ম-পরিচয় ভুলে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়েও গণতন্ত্রের ওপর যখনই আঘাত এসেছে, মানুষ তার অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই আন্দোলনে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে এবং স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। সেদিনও মানুষের পরিচয় ছিল কেবল নাগরিক, কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়নি। সবার মূল লক্ষ্য ছিল কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। স্বাধীনতার পরও বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্রের ওপর হুমকি এসেছে। গুলিবিদ্ধ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, কেউ পথে প্রাণ হারিয়েছেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, এই দেশ সবার। এখানে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু বিভাজন মুখ্য নয়। দেশের আইনে সব নাগরিকের অধিকার সমান এবং রাষ্ট্র সেই অধিকার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। সবার অংশগ্রহণ ছাড়া একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব নয়। এর আগে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ স্থানীয় নেতারা। দেশের আইনে একজনের জন্য যা প্রযোজ্য, অন্যজনের জন্যও তা-ই প্রযোজ্য।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এবারের দুর্গাপূজা কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নয়, বরং এটি জাতীয় ঐক্যের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তিনি মনে করেন, নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে কোনো দেশ আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তর হতে পারে না। অতীতে ভিন্নমত প্রকাশ ও ব্যবসার নিরাপত্তায় যে সংকট ছিল, তা কাটিয়ে সব ধর্মের মানুষের এই অংশগ্রহণ এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, বৈষম্যহীন ও বিভাজনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি উপস্থিত সবাইকে কোনো রাজনৈতিক দলের ‘ভোটব্যাংক’ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার সবার জন্য সমান। যার যার ধর্মীয় আচার ও সংস্কৃতি পালনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং সেটি নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব।

রাত ৮টা ২০ মিনিটে জেএম সেন হলে পৌঁছালে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাত ১০টায় প্রধানমন্ত্রী নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে চট্টগ্রাম বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সাথে এক সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন, যার সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কার্যকরী সেক্রেটারি বিপ্লব দে পার্থ এবং হিন্। এতে পাঁচ শতাধিক ডেলিগেট উপস্থিত ছিলেন।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সবাইকে নিয়ে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৬:০০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে সব নাগরিককে এক কাতারে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সুখী, সমৃদ্ধ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ দেশের সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় দেশের মানুষ ধর্ম-পরিচয় ভুলে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়েও গণতন্ত্রের ওপর যখনই আঘাত এসেছে, মানুষ তার অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই আন্দোলনে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে এবং স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। সেদিনও মানুষের পরিচয় ছিল কেবল নাগরিক, কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়নি। সবার মূল লক্ষ্য ছিল কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। স্বাধীনতার পরও বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্রের ওপর হুমকি এসেছে। গুলিবিদ্ধ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, কেউ পথে প্রাণ হারিয়েছেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, এই দেশ সবার। এখানে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু বিভাজন মুখ্য নয়। দেশের আইনে সব নাগরিকের অধিকার সমান এবং রাষ্ট্র সেই অধিকার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। সবার অংশগ্রহণ ছাড়া একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব নয়। এর আগে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ স্থানীয় নেতারা। দেশের আইনে একজনের জন্য যা প্রযোজ্য, অন্যজনের জন্যও তা-ই প্রযোজ্য।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এবারের দুর্গাপূজা কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নয়, বরং এটি জাতীয় ঐক্যের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তিনি মনে করেন, নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে কোনো দেশ আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তর হতে পারে না। অতীতে ভিন্নমত প্রকাশ ও ব্যবসার নিরাপত্তায় যে সংকট ছিল, তা কাটিয়ে সব ধর্মের মানুষের এই অংশগ্রহণ এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, বৈষম্যহীন ও বিভাজনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি উপস্থিত সবাইকে কোনো রাজনৈতিক দলের ‘ভোটব্যাংক’ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার সবার জন্য সমান। যার যার ধর্মীয় আচার ও সংস্কৃতি পালনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং সেটি নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব।

রাত ৮টা ২০ মিনিটে জেএম সেন হলে পৌঁছালে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাত ১০টায় প্রধানমন্ত্রী নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে চট্টগ্রাম বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সাথে এক সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন, যার সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কার্যকরী সেক্রেটারি বিপ্লব দে পার্থ এবং হিন্। এতে পাঁচ শতাধিক ডেলিগেট উপস্থিত ছিলেন।