Hi

০২:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪৩ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন, তবুও তৃপ্ত নন কোচ

উয়েফা নেশনস লিগে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের অজেয় যাত্রা ৪৩ ম্যাচ পর্যন্ত নিয়ে গেল স্পেন। ইউরোপীয় ফুটবলে বর্তমান সময়ের অন্যতম শক্তিশালী এই দলটির জয়ের ধারা অব্যাহত থাকলেও, দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে মোটেও আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না। তার মতে, বিশ্বজয়ী এই দলের উন্নতির ক্ষুধা এখনও মেটেনি এবং তারা প্রতিদিন আরও ভালো খেলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে। কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগে দিনকে দিন নিয়ন্ত্রণহীন এলপিজির বাজার।

আন্তর্জাতিক বিরতির এই চার ম্যাচের সবগুলো জিতে ‘এ৩’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করল স্পেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের চেয়ে তারা এখন তিন পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার পর দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের পরপরই টানা চার ম্যাচে জয়ের গৌরব অর্জন করল ‘লা রোহা’রা। ২০২৪ সালের মার্চে কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে হারের পর আর কোনো দলের কাছে পরাজয় মানেনি স্পেন। যেভাবে আম বিপ্লব ঘটাচ্ছেন বাংলাদেশের কৃষকরা। চার খেলায় পুরো নম্বর পেয়ে পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে থাকা ইংল্যান্ডের চেয়ে তিন পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে তারা। ২০২৪ সালের মার্চে কলম্বিয়ার সঙ্গে এক প্রীতি ম্যাচে পরাস্ত হওয়ার পর আর হারের মুখ দেখেনি তারা। শুধু আজকের ম্যাচে নয়, পুরো পথচলাতেই তারা দেখিয়েছে যে জয়ের জন্যই মাঠে নামে।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ দে লা ফুয়েন্তে তার শিষ্যদের জয়ী মানসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের জয়ের আকাঙ্ক্ষা অপরিসীম এবং তারা কখনোই তৃপ্ত হয়ে বসে থাকে না। সবসময় আরও বেশি অর্জন করতে চাওয়া একদল ফুটবলারকে পাশে পাওয়া যেকোনো কোচের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতার। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর লক্ষ্য কেবল উন্নতির দিকেই রয়েছে বলে জানান তিনি।

ম্যাচের শুরুর দিকে স্পেন বেশ চাপে ছিল। স্পিলটে আয়োজিত এই ম্যাচের ১৭তম মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক ক্রোয়েশিয়া। ইংল্যান্ডের কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া ক্রোটরা এদিন শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক। প্রথমার্ধের কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে কোচ বলেন, প্রথম অর্ধে আমাদের কিছুটা ভুগতে হয়েছিল, তবে দ্বিতীয়ার্ধে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে আমরা খেলায় ফিরি এবং গোল করার সুযোগ তৈরি করি। ‘মেসি আমাদের ফুটবল উপভোগ করতে শিখিয়েছে’।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা মিকেল মেরিনোর নৈপুণ্যে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৬১তম মিনিটে সমতা ফেরানোর পর ৮৯তম মিনিটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন আর্সেনাল মিডফিল্ডার মেরিনো। এটি তার অসাধারণ ফর্মের প্রতিফলন। উল্লেখযোগ্য যে, জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ পাঁচটি গোল বা তার মধ্যে চারটিই এসেছে ৮৮ মিনিট বা তার পরবর্তী সময়ে। এর আগে গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষেও শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোল করেছিলেন তিনি।

মেরিনোর ভূয়সী প্রশংসা করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, বিশ্বের যেকোনো বড় ক্লাবে খেলার যোগ্যতা তার আছে। প্রতিটি পজিশনে বর্তমান স্পেনে বিশ্বের সেরা ফুটবলাররাই রয়েছেন এবং মেরিনো সেই মানেরই একজন খেলোয়াড়। কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য ধরে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে জয় তুলে নেওয়ার এই মানসিকতাকেই স্পেনের বর্তমান সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন কোচ। দেশ ঘোরার নেশা থেকে ‘আনসিন বাংলাদেশ’, আরও যা আছে এই ওয়েবসাইটে।

ম্যাচটিতে ক্রোয়েশিয়ার ইভান পেরিসিচ গোল পেলেও পরবর্তীতে তাকে মাঠ ছাড়তে হয় দুই হলুদ কার্ডের জটিলতায়। এই ঘটনা ম্যাচটির মোড় ঘুরিয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। স্পেনের কোচ আরও যোগ করেন, সবসময় এমন একটি দলের মুখোমুখি হওয়া কঠিন যারা সহজে হার মানে না, তবে শেষ পর্যন্ত জয়ী হওয়ার তাড়না আমাদের দলকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইলেকট্রনের চলাচল থেকে জিন এডিটিং, রসায়নে নোবেলের সম্ভাব্য দাবিদার যারা।

বিশ্ব ফুটবলে স্পেনের এই দীর্ঘ অপরাজিত থাকার যাত্রা কেবল দলের সামর্থ্য নয়, বরং তাদের ধারাবাহিক উন্নতির মানসিকতাকে ফুটিয়ে তুলছে। কোচ দে লা ফুয়েন্তের নেতৃত্বাধীন দলটি এখন পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে মরিয়া।

জনপ্রিয়

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ: রাজনৈতিক নেতৃত্বের নীরবতা নিয়ে উদ্বেগ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

৪৩ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন, তবুও তৃপ্ত নন কোচ

আপডেট : ০১:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

উয়েফা নেশনস লিগে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের অজেয় যাত্রা ৪৩ ম্যাচ পর্যন্ত নিয়ে গেল স্পেন। ইউরোপীয় ফুটবলে বর্তমান সময়ের অন্যতম শক্তিশালী এই দলটির জয়ের ধারা অব্যাহত থাকলেও, দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে মোটেও আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না। তার মতে, বিশ্বজয়ী এই দলের উন্নতির ক্ষুধা এখনও মেটেনি এবং তারা প্রতিদিন আরও ভালো খেলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে। কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগে দিনকে দিন নিয়ন্ত্রণহীন এলপিজির বাজার।

আন্তর্জাতিক বিরতির এই চার ম্যাচের সবগুলো জিতে ‘এ৩’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করল স্পেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের চেয়ে তারা এখন তিন পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার পর দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের পরপরই টানা চার ম্যাচে জয়ের গৌরব অর্জন করল ‘লা রোহা’রা। ২০২৪ সালের মার্চে কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে হারের পর আর কোনো দলের কাছে পরাজয় মানেনি স্পেন। যেভাবে আম বিপ্লব ঘটাচ্ছেন বাংলাদেশের কৃষকরা। চার খেলায় পুরো নম্বর পেয়ে পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে থাকা ইংল্যান্ডের চেয়ে তিন পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে তারা। ২০২৪ সালের মার্চে কলম্বিয়ার সঙ্গে এক প্রীতি ম্যাচে পরাস্ত হওয়ার পর আর হারের মুখ দেখেনি তারা। শুধু আজকের ম্যাচে নয়, পুরো পথচলাতেই তারা দেখিয়েছে যে জয়ের জন্যই মাঠে নামে।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ দে লা ফুয়েন্তে তার শিষ্যদের জয়ী মানসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের জয়ের আকাঙ্ক্ষা অপরিসীম এবং তারা কখনোই তৃপ্ত হয়ে বসে থাকে না। সবসময় আরও বেশি অর্জন করতে চাওয়া একদল ফুটবলারকে পাশে পাওয়া যেকোনো কোচের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতার। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর লক্ষ্য কেবল উন্নতির দিকেই রয়েছে বলে জানান তিনি।

ম্যাচের শুরুর দিকে স্পেন বেশ চাপে ছিল। স্পিলটে আয়োজিত এই ম্যাচের ১৭তম মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক ক্রোয়েশিয়া। ইংল্যান্ডের কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া ক্রোটরা এদিন শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক। প্রথমার্ধের কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে কোচ বলেন, প্রথম অর্ধে আমাদের কিছুটা ভুগতে হয়েছিল, তবে দ্বিতীয়ার্ধে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে আমরা খেলায় ফিরি এবং গোল করার সুযোগ তৈরি করি। ‘মেসি আমাদের ফুটবল উপভোগ করতে শিখিয়েছে’।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা মিকেল মেরিনোর নৈপুণ্যে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৬১তম মিনিটে সমতা ফেরানোর পর ৮৯তম মিনিটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন আর্সেনাল মিডফিল্ডার মেরিনো। এটি তার অসাধারণ ফর্মের প্রতিফলন। উল্লেখযোগ্য যে, জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ পাঁচটি গোল বা তার মধ্যে চারটিই এসেছে ৮৮ মিনিট বা তার পরবর্তী সময়ে। এর আগে গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষেও শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোল করেছিলেন তিনি।

মেরিনোর ভূয়সী প্রশংসা করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, বিশ্বের যেকোনো বড় ক্লাবে খেলার যোগ্যতা তার আছে। প্রতিটি পজিশনে বর্তমান স্পেনে বিশ্বের সেরা ফুটবলাররাই রয়েছেন এবং মেরিনো সেই মানেরই একজন খেলোয়াড়। কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য ধরে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে জয় তুলে নেওয়ার এই মানসিকতাকেই স্পেনের বর্তমান সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন কোচ। দেশ ঘোরার নেশা থেকে ‘আনসিন বাংলাদেশ’, আরও যা আছে এই ওয়েবসাইটে।

ম্যাচটিতে ক্রোয়েশিয়ার ইভান পেরিসিচ গোল পেলেও পরবর্তীতে তাকে মাঠ ছাড়তে হয় দুই হলুদ কার্ডের জটিলতায়। এই ঘটনা ম্যাচটির মোড় ঘুরিয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। স্পেনের কোচ আরও যোগ করেন, সবসময় এমন একটি দলের মুখোমুখি হওয়া কঠিন যারা সহজে হার মানে না, তবে শেষ পর্যন্ত জয়ী হওয়ার তাড়না আমাদের দলকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইলেকট্রনের চলাচল থেকে জিন এডিটিং, রসায়নে নোবেলের সম্ভাব্য দাবিদার যারা।

বিশ্ব ফুটবলে স্পেনের এই দীর্ঘ অপরাজিত থাকার যাত্রা কেবল দলের সামর্থ্য নয়, বরং তাদের ধারাবাহিক উন্নতির মানসিকতাকে ফুটিয়ে তুলছে। কোচ দে লা ফুয়েন্তের নেতৃত্বাধীন দলটি এখন পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে মরিয়া।