গত ১৭ অক্টোবর রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন দয়াগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে আলোচনায় আসা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। তার দাবি, ওই ঘটনায় তিনি কোনো ভুল করেননি, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নিরাপত্তার খাতিরে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল সেদিন করিনি। তার কারণে যাতে প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়ে যায়, সে কারণেই এ কথা বলেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, ওই অভিযানে আমার দ্বারা কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকলে আমি তার জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি। তবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, অস্ত্রটি শুধুমাত্র যতটুকু সময় প্রয়োজন ছিল ততটুকুই আমার হাতে ছিল, পরবর্তীতে আর তা দৃশ্যমান হয়নি। অভিযানে মাদকাসক্তদের হাতে অস্ত্র আছে কি না, সেটি নিশ্চিত করতেই তিনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান।
ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, এর আগে থানাকে অবহিত করেই তিনি অভিযানে গিয়েছিলেন।
তার কাছে থাকা অস্ত্রটি লাইসেন্সকৃত এবং সবসময়ই তার কোমরে থাকে। তিনি জানান, ঘটনার দিন প্রধানমন্ত্রী ১৩টি উন্নয়নমূলক জায়গা পরিদর্শন করেছিলেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কিন্তু তার এই অস্ত্রকাণ্ডের ঘটনাটি গণমাধ্যমে এমনভাবে প্রচার হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীর সেই কর্মকাণ্ডগুলো ঢাকা পড়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর কাজের মর্যাদা রক্ষার্থেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। এ বিষয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানা ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিছু সত্য, কিছুটা অতিরঞ্জিত নানা ধরনের খবর প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘এরপর রাতে দেখতে পান একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে এবং গণমাধ্যমে বিভিন্ন শিরোনামে প্রতিবেদন হয়েছে।
ইশরাক হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তিনি নিজের পদত্যাগের আগ্রহের বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তিনি তাতে সম্মতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে এলাকাভিত্তিক মাদক নির্মূল এবং জাতীয় জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কাজে মনোনিবেশ করতে বলেছেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, পদ ছাড়লেও মাদকের বিরুদ্ধে তার এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। এ সময় তার অনুসারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। আমি তাকে বলেছি পুরো সময়টাতে ঢাকা-৬ আসন, পার্শ্ববর্তী এলাকা, পরবর্তী সময়ে আরও যদি এলাকা থাকে, সেখানকার মাদক নির্মূল এবং আমাদের জাতীয় জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি সদয় সম্মত হয়েছেন এবং আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন-‘‘ঠিক আছে যাও, এলাকা ঠিক করে এলাকায় কাজ কর।’’।
উল্লেখ্য যে, ঘটনার দিন ইশরাকের সঙ্গে থাকা অন্যদের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে তিনি পিস্তল উঁচিয়ে চিৎকার করছেন এবং তার সঙ্গীরা একজনকে লাথি মারছেন। একজন ব্যক্তিকে ভিডিওতে ‘গুলি করে দেব’ বলে বলতেও শোনা যায়। পিস্তলটি ভিডিওর কিছু অংশে অস্পষ্ট রাখা হলেও অন্যান্য অংশে সেটি স্পষ্ট ছিল।
এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও অস্বস্তির সৃষ্টি হয়। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়। সরকারি উচ্চপর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, রবিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে ডেকে পাঠান এবং পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এ নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।
সোমবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে সমর্থকদের নিয়ে ইশরাক হোসেন সংবাদ সম্মেলন করতে প্রবেশ করেন। বেলা ২টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শুরু করেন। এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি পুরো ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং গত কয়েক দিন ধরে চলা বিতর্কের অবসান ঘটাতে নিজের যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, ‘‘আজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করতে এসেছি, যা গত দুই-তিন ধরে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আমি আজকে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি মূলত ওই দিন ঠিক কী ঘটেছিল, সেটির বিস্তারিত তুলে ধরতে।’’।
রিপোর্টার নাম: 























