আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় কৌশল চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ ও বিভেদ নিরসনে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যেসব এলাকায় একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী, সেখানে আলোচনার মাধ্যমে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। এই লক্ষ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যারা স্থানীয় নেতাদের সাথে সমন্বয় করে সমস্যা সমাধান করবেন। জনগণের কাছে ভুল বার্তা এড়াতে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর জোর দিয়েছে নীতিনির্ধারণী ফোরাম। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই বৈঠক শুরু হয়৷ এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপরও অনেক জায়গায় একাধিক প্রার্থী নির্বাচন করতে চাইবেন। এছাড়া বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷ দলে দ্বন্ধ ও বিভেদ দূর করে ঐক্য বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি৷ এছাড়াও বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা। এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের জানান, পূজা মণ্ডপে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূজা যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তা নিয়ে বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন মণ্ডপে স্থানীয় নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে এবং পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদেরও যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা ঠেকাতে সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে উৎসবটি সবাই আনন্দঘন পরিবেশে উপভোগ করতে পারেন। বৈঠকে বলা হয়, শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেটা দেখবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ এর সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সবাই মিলেমিশে যাতে এই উৎসব উদযাপন করতে পারেন, কেউ যাতে কোনো ধরণের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা করতে না পারে- সেজন্য সতর্ক থাকার জন্য ইতিমধ্যে বিএনপির নেতা কর্মীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোচনায় গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। রিজভী বলেন, সরকার তার দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সব ধরনের অপপ্রচার ও নীলনকশা প্রতিহত করতে সক্ষম হবে এবং দলের নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে সবসময় সজাগ দৃষ্টি রাখবেন। এছাড়া বৈঠকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার উপায় এবং দলের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়েও নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেছেন। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে নেতাকর্মীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 
























