Hi

০৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় ও জনস্বার্থে গৃহীত পদক্ষেপ জানালেন

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৪:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ জন দেখেছে

দেশের বিদ্যমান সীমিত সম্পদের যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বমূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে তেল পাচারের ঝুঁকি রোধ করা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোতে বাজেটের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এই অর্থনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও ভর্তুকি সমন্বয়

জ্বালানি খাতে ভর্তুকি হ্রাস করা একটি অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয় বলে মন্তব্য করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট খাতে রাষ্ট্রের সমস্ত সম্পদ নিবেদিত রাখা সম্ভব নয়। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের দেশে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের লক্ষ্য হলো সীমিত সম্পদকে সঠিকভাবে বণ্টন করা, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি না হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্তের চাপে নয়, বরং দেশের সামাজিক কল্যাণ এবং নিজস্ব অগ্রাধিকার বিবেচনা করেই সরকার এই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যের পার্থক্য সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের ঝুঁকি তৈরি করে। সেই ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যেই বাজার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা হয়। তবে সরকার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন। এ কারণে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান

  • সরকার মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর সৃষ্ট চাপ লাঘব করতে টিসিবির খাদ্য সহায়তা এবং ওএমএস কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণ করছে।
  • বর্তমানে ৪১ লাখ পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাচ্ছে, আগামী অর্থবছরে এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
  • সাময়িক জ্বালানি সংকট কেটে গেলে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
  • ফ্যামিলি কার্ড ও সরকারি সহায়তার মাধ্যমে বাজারে চাহিদা তৈরি করা হবে, যা দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য সহায়ক হবে।

পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও জনগণের প্রত্যাশা

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বিগত শাসনামলে পুলিশকে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই দমন-পীড়নের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বাহিনীকে প্রকৃত জনবান্ধব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি স্বীকার করেন যে মাঠপর্যায়ে বর্তমানে পুলিশের মনোবলে কিছুটা ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে পুলিশ সদস্যরা যদি জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা পান, তবে খুব দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসবে এবং জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে কোনো একটি খাতকে পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক রাখতে রাষ্ট্র তার সমস্ত সম্পদ শুধু সেখানেই নিবেদিত করতে পারে না।

জনপ্রিয়

কুয়েত বিমানবন্দরে বিপুল মাদকসহ বাংলাদেশি আটক

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় ও জনস্বার্থে গৃহীত পদক্ষেপ জানালেন

আপডেট : ০৪:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের বিদ্যমান সীমিত সম্পদের যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বমূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে তেল পাচারের ঝুঁকি রোধ করা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোতে বাজেটের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এই অর্থনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও ভর্তুকি সমন্বয়

জ্বালানি খাতে ভর্তুকি হ্রাস করা একটি অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয় বলে মন্তব্য করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট খাতে রাষ্ট্রের সমস্ত সম্পদ নিবেদিত রাখা সম্ভব নয়। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের দেশে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের লক্ষ্য হলো সীমিত সম্পদকে সঠিকভাবে বণ্টন করা, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি না হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্তের চাপে নয়, বরং দেশের সামাজিক কল্যাণ এবং নিজস্ব অগ্রাধিকার বিবেচনা করেই সরকার এই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যের পার্থক্য সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের ঝুঁকি তৈরি করে। সেই ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যেই বাজার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা হয়। তবে সরকার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন। এ কারণে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান

  • সরকার মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর সৃষ্ট চাপ লাঘব করতে টিসিবির খাদ্য সহায়তা এবং ওএমএস কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণ করছে।
  • বর্তমানে ৪১ লাখ পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাচ্ছে, আগামী অর্থবছরে এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
  • সাময়িক জ্বালানি সংকট কেটে গেলে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
  • ফ্যামিলি কার্ড ও সরকারি সহায়তার মাধ্যমে বাজারে চাহিদা তৈরি করা হবে, যা দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য সহায়ক হবে।

পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও জনগণের প্রত্যাশা

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বিগত শাসনামলে পুলিশকে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই দমন-পীড়নের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বাহিনীকে প্রকৃত জনবান্ধব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি স্বীকার করেন যে মাঠপর্যায়ে বর্তমানে পুলিশের মনোবলে কিছুটা ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে পুলিশ সদস্যরা যদি জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা পান, তবে খুব দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসবে এবং জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে কোনো একটি খাতকে পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক রাখতে রাষ্ট্র তার সমস্ত সম্পদ শুধু সেখানেই নিবেদিত করতে পারে না।