Hi

০৯:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর্মস্থলে অনুপস্থিতি: ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করল সরকার

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৯:২৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ জন দেখেছে

অসদাচরণ ও দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলাসহ বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে পুলিশের ছয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে সোমবার পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এবং অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন।

তালিকায় থাকা অন্য চার কর্মকর্তা হলেন—সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল, সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক উপ কমিশনার রাজীব দাস, এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর আওতায় এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের গুরুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে মো. আসাদুজ্জামান ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সারদায় যোগ দেওয়ার চার দিন পর ছুটিতে যান এবং আর কর্মস্থলে ফেরেননি। এটিইউর কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে, আরিফুর রহমান মণ্ডল ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এবং পলাশ রঞ্জন দে একই বছরের ১২ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।

এ ছাড়া রাজীব দাস চিকিৎসার কথা বলে থাইল্যান্ড গিয়ে ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তা করেননি। অন্যদিকে মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর এসব কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কর্তৃপক্ষ কোনো সাড়া পায়নি। তাদের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি সরকারি বিধি অনুযায়ী শৃঙ্খলা পরিপন্থি এবং পলায়ন হিসেবে গণ্য হয়েছে।

তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সুষ্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। ফলে সরকারি শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮-এর ৪(৩)(ঘ) ধারা অনুযায়ী তাদের সবাইকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বরখাস্তের আদেশে আসাদুজ্জামানের বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৭ অগাস্ট তাকে পুলিশ একাডেমি সারদায় সংযুক্ত করা হলে ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি যোগ দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই দিনই তিনি ২১ সেপ্টেম্বর পযর্ন্ত চার দিনের ছুটি নিয়ে চলে যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটিইউ’র সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনের বিষয়ে বলা হয়েছে এ ইউনিটে কর্মরত থাকাকালে তাকে বরিশাল রেঞ্জে বদলি করলে ২০২৪ সালে ২ ডিসেম্বর যোগ দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্ত এরপরে তিনি আর কাজে যোগ দেননি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আরিফুর রহমান সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত করার পর তিনি ৯ সেপ্টেম্বর যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কোনো অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে ১২ অক্টোবর তিনি চিকিৎসার জন্য ২০ দিনের ছুটি নিয়ে থাইল্যান্ড যান।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কর্মস্থলে অনুপস্থিতি: ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করল সরকার

আপডেট : ০৯:২৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অসদাচরণ ও দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলাসহ বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে পুলিশের ছয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে সোমবার পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এবং অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন।

তালিকায় থাকা অন্য চার কর্মকর্তা হলেন—সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল, সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক উপ কমিশনার রাজীব দাস, এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর আওতায় এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের গুরুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে মো. আসাদুজ্জামান ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সারদায় যোগ দেওয়ার চার দিন পর ছুটিতে যান এবং আর কর্মস্থলে ফেরেননি। এটিইউর কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে, আরিফুর রহমান মণ্ডল ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এবং পলাশ রঞ্জন দে একই বছরের ১২ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।

এ ছাড়া রাজীব দাস চিকিৎসার কথা বলে থাইল্যান্ড গিয়ে ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তা করেননি। অন্যদিকে মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর এসব কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কর্তৃপক্ষ কোনো সাড়া পায়নি। তাদের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি সরকারি বিধি অনুযায়ী শৃঙ্খলা পরিপন্থি এবং পলায়ন হিসেবে গণ্য হয়েছে।

তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সুষ্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। ফলে সরকারি শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮-এর ৪(৩)(ঘ) ধারা অনুযায়ী তাদের সবাইকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বরখাস্তের আদেশে আসাদুজ্জামানের বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৭ অগাস্ট তাকে পুলিশ একাডেমি সারদায় সংযুক্ত করা হলে ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি যোগ দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই দিনই তিনি ২১ সেপ্টেম্বর পযর্ন্ত চার দিনের ছুটি নিয়ে চলে যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটিইউ’র সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনের বিষয়ে বলা হয়েছে এ ইউনিটে কর্মরত থাকাকালে তাকে বরিশাল রেঞ্জে বদলি করলে ২০২৪ সালে ২ ডিসেম্বর যোগ দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্ত এরপরে তিনি আর কাজে যোগ দেননি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আরিফুর রহমান সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত করার পর তিনি ৯ সেপ্টেম্বর যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কোনো অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে ১২ অক্টোবর তিনি চিকিৎসার জন্য ২০ দিনের ছুটি নিয়ে থাইল্যান্ড যান।