Hi

০৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলি মানচিত্রে ভুলবশত প্রকাশ গাজার সামরিক স্থাপনার ছবি

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৯:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ জন দেখেছে

ইসরায়েলের সরকারি মানচিত্র বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘গভম্যাপ’-এ ভুলবশত গাজা উপত্যকার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাধারণত সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে গাজা ও পশ্চিম তীরের সামরিক ঘাঁটির চিত্র এখানে অস্পষ্ট রাখা হয়, তবে সম্প্রতি এই নিরাপত্তা বলয় সাময়িকভাবে উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি সোমবার প্রথমবারের মতো একটি এক্স অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। যদিও পরবর্তীতে মানচিত্রের ওই অংশগুলো পুনরায় ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের জন্য স্পষ্ট ছবি প্রকাশ পাওয়ার ঘটনাটি ছিল ব্যতিক্রমী। আরেক এক্স ব্যবহারকারী ছবিগুলোর সংরক্ষিত সংস্করণ প্রকাশ করেন। একইভাবে গাজা সিটির শুযাইয়া এলাকায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবন ও রাস্তাঘাটের চিত্রও উঠে এসেছে।

প্রকাশিত ছবিগুলোতে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। এসব ছবি ২০২৫ সালের হওয়ায় বর্তমানের বাস্তব পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, সামরিক বাফার জোনের ভেতরে অন্তত ১১টি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা বিদ্যমান। পাশাপাশি গাজা সিটির জাইতুন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বের কার্নি ক্রসিং ও পূর্ব জাবালিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক যানবাহন ও মাটির তৈরি প্রতিবন্ধকগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা গেছে। ছবিগুলো ২০২৫ সালের হওয়ায় সামরিক স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা এতে প্রতিফলিত নাও হতে পারে।

মিডল ইস্ট আই সরাসরি ছবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে না পারলেও, এসব তথ্যের সঙ্গে গাজার সামরিক উপস্থিতি ও ধ্বংসের আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনের সামঞ্জস্য রয়েছে। সিবিসি নিউজের পৃথক এক প্রতিবেদনেও ধ্বংসস্তূপ অপসারণ করে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি তৈরির বিষয়টি উঠে এসেছে। এ বিষয়ে ফোরেনসিক আর্কিটেকচারের গবেষক জুলিয়া নুয়েনো গিতার্তের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সংগৃহীত তথ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ার অন্তত ৪৩টি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সামরিক প্রয়োজনীয়তা মেটাতেই তারা গাজায় স্থাপনা ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছে। তাদের ভাষ্যমতে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক আইন ও সামরিক নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। যদিও এই স্যাটেলাইট চিত্রগুলো গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতির নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইসরায়েলি মানচিত্রে ভুলবশত প্রকাশ গাজার সামরিক স্থাপনার ছবি

আপডেট : ০৯:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের সরকারি মানচিত্র বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘গভম্যাপ’-এ ভুলবশত গাজা উপত্যকার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাধারণত সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে গাজা ও পশ্চিম তীরের সামরিক ঘাঁটির চিত্র এখানে অস্পষ্ট রাখা হয়, তবে সম্প্রতি এই নিরাপত্তা বলয় সাময়িকভাবে উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি সোমবার প্রথমবারের মতো একটি এক্স অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। যদিও পরবর্তীতে মানচিত্রের ওই অংশগুলো পুনরায় ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের জন্য স্পষ্ট ছবি প্রকাশ পাওয়ার ঘটনাটি ছিল ব্যতিক্রমী। আরেক এক্স ব্যবহারকারী ছবিগুলোর সংরক্ষিত সংস্করণ প্রকাশ করেন। একইভাবে গাজা সিটির শুযাইয়া এলাকায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবন ও রাস্তাঘাটের চিত্রও উঠে এসেছে।

প্রকাশিত ছবিগুলোতে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। এসব ছবি ২০২৫ সালের হওয়ায় বর্তমানের বাস্তব পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, সামরিক বাফার জোনের ভেতরে অন্তত ১১টি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা বিদ্যমান। পাশাপাশি গাজা সিটির জাইতুন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বের কার্নি ক্রসিং ও পূর্ব জাবালিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক যানবাহন ও মাটির তৈরি প্রতিবন্ধকগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা গেছে। ছবিগুলো ২০২৫ সালের হওয়ায় সামরিক স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা এতে প্রতিফলিত নাও হতে পারে।

মিডল ইস্ট আই সরাসরি ছবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে না পারলেও, এসব তথ্যের সঙ্গে গাজার সামরিক উপস্থিতি ও ধ্বংসের আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনের সামঞ্জস্য রয়েছে। সিবিসি নিউজের পৃথক এক প্রতিবেদনেও ধ্বংসস্তূপ অপসারণ করে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি তৈরির বিষয়টি উঠে এসেছে। এ বিষয়ে ফোরেনসিক আর্কিটেকচারের গবেষক জুলিয়া নুয়েনো গিতার্তের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সংগৃহীত তথ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ার অন্তত ৪৩টি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সামরিক প্রয়োজনীয়তা মেটাতেই তারা গাজায় স্থাপনা ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছে। তাদের ভাষ্যমতে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক আইন ও সামরিক নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। যদিও এই স্যাটেলাইট চিত্রগুলো গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতির নতুন দিক উন্মোচন করেছে।