Hi

০১:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোদাগাড়ীতে পৌনে ৪ লাখ টাকার সিসি ক্যামেরা অচল

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:৪২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ জন দেখেছে

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পৌনে ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো সিসি ক্যামেরাগুলো এখন পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া ২০টি ক্যামেরা স্থাপনের এ প্রকল্প কয়েক মাসের ব্যবধানেই অকার্যকর হয়ে পড়ায় চুরি ও ছিনতাই রোধে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। এর মাধ্যমে গোদাগাড়ী পৌর শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডাইংপাড়া বাজারের প্রধান পয়েন্টগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের যৌথ উদ্যোগ নেয় থানা পুলিশ ও পৌরসভা।

পৌরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোদাগাড়ী মডেল থানার তৎকালীন ওসি রুহুল আমিনকে সভাপতি ও ডাইংপাড়া বণিক সমিতির সভাপতি আসাদুজ্জামান মিলনকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরের ৫ টন চালের টিআর বরাদ্দের মাধ্যমে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই ‘এ ওয়ান কম্পিউটার সেলস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ক্যামেরা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়। থানা পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে এসব ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা ছিল। পৌরসভা থেকে জানা যায়, বর্তমানে এসব ক্যামেরা তদারকি করার মতো নির্দিষ্ট কোনো জনবলও নেই। ক্যামেরা সচল থাকলে যে কোনো অপরাধের রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন সহজ হয়।

তবে প্রকল্পের নথিপত্র এবং বাস্তবের মধ্যে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নথিতে ২০টি ক্যামেরা স্থাপনের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে মাত্র ১৭টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়া প্রতিটির দর প্রায় ৬ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে ৪ মেগাপিক্সেলের ‘ইউএনভি’ ব্র্যান্ডের ক্যামেরা এবং ১৬ টাকা দরে ২২০০ মিটার ক্যাবলের ব্যয় দেখিয়ে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। সরঞ্জামের জন্য এক বছরের ওয়ারেন্টি থাকলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সেগুলো বিকল হয়ে যাওয়ায় মান ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া ২ হাজার ২০০ মিটার কেবলের প্রতি মিটারের দাম ১৬ টাকা ধরে দুটি ভাউচারের মাধ্যমে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ-রক্ষা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন বিশ্বাস এ ঘটনাকে সরকারি অর্থের স্পষ্ট অপচয় হিসেবে বর্ণনা করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অপরদিকে গোদাগাড়ী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জানান, হাজারো মানুষের সমাগম ও সহস্রাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় ডাইংপাড়া বাজারকে পুনরায় সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা জরুরি। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার ধরনা দিলেও মেলেনি কোনো সুরাহা।

এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী মডেল থানার বর্তমান ওসি সুজন মিঞা জানান, তিনি নতুন দায়িত্বে এলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সিসি ক্যামেরার গুরুত্ব অপরিসীম। অন্যদিকে, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ইসরাত জাহান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তিনি জানান, প্রকল্পের কারিগরি বা অন্যান্য ত্রুটি এবং অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করে দ্রুতই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে পুলিশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার হুঁশিয়ারি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গোদাগাড়ীতে পৌনে ৪ লাখ টাকার সিসি ক্যামেরা অচল

আপডেট : ১১:৪২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পৌনে ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো সিসি ক্যামেরাগুলো এখন পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া ২০টি ক্যামেরা স্থাপনের এ প্রকল্প কয়েক মাসের ব্যবধানেই অকার্যকর হয়ে পড়ায় চুরি ও ছিনতাই রোধে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। এর মাধ্যমে গোদাগাড়ী পৌর শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডাইংপাড়া বাজারের প্রধান পয়েন্টগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের যৌথ উদ্যোগ নেয় থানা পুলিশ ও পৌরসভা।

পৌরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোদাগাড়ী মডেল থানার তৎকালীন ওসি রুহুল আমিনকে সভাপতি ও ডাইংপাড়া বণিক সমিতির সভাপতি আসাদুজ্জামান মিলনকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরের ৫ টন চালের টিআর বরাদ্দের মাধ্যমে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই ‘এ ওয়ান কম্পিউটার সেলস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ক্যামেরা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়। থানা পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে এসব ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা ছিল। পৌরসভা থেকে জানা যায়, বর্তমানে এসব ক্যামেরা তদারকি করার মতো নির্দিষ্ট কোনো জনবলও নেই। ক্যামেরা সচল থাকলে যে কোনো অপরাধের রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন সহজ হয়।

তবে প্রকল্পের নথিপত্র এবং বাস্তবের মধ্যে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নথিতে ২০টি ক্যামেরা স্থাপনের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে মাত্র ১৭টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়া প্রতিটির দর প্রায় ৬ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে ৪ মেগাপিক্সেলের ‘ইউএনভি’ ব্র্যান্ডের ক্যামেরা এবং ১৬ টাকা দরে ২২০০ মিটার ক্যাবলের ব্যয় দেখিয়ে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। সরঞ্জামের জন্য এক বছরের ওয়ারেন্টি থাকলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সেগুলো বিকল হয়ে যাওয়ায় মান ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া ২ হাজার ২০০ মিটার কেবলের প্রতি মিটারের দাম ১৬ টাকা ধরে দুটি ভাউচারের মাধ্যমে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ-রক্ষা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন বিশ্বাস এ ঘটনাকে সরকারি অর্থের স্পষ্ট অপচয় হিসেবে বর্ণনা করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অপরদিকে গোদাগাড়ী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জানান, হাজারো মানুষের সমাগম ও সহস্রাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় ডাইংপাড়া বাজারকে পুনরায় সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা জরুরি। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার ধরনা দিলেও মেলেনি কোনো সুরাহা।

এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী মডেল থানার বর্তমান ওসি সুজন মিঞা জানান, তিনি নতুন দায়িত্বে এলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সিসি ক্যামেরার গুরুত্ব অপরিসীম। অন্যদিকে, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ইসরাত জাহান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তিনি জানান, প্রকল্পের কারিগরি বা অন্যান্য ত্রুটি এবং অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করে দ্রুতই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।