Hi

১২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাওরাঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা: শিক্ষকসংকটে ব্যাহত পাঠদান

হাওরবেষ্টিত দুর্গম জনপদের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাজীবন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। বছরের অধিকাংশ সময় পানিবেষ্টিত থাকায় বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। সামান্য অসাবধানতায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই সাঁকো পার হয়েই তাদের স্কুলে পৌঁছাতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যখন হাওরের পানি বেড়ে যায়, তখন এই যাতায়াত ব্যবস্থা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, যা অনেক অভিভাবকের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে এই অঞ্চলের শিশুদের।

বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষকসংকট পাঠদান কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই বিদ্যালয়ে মোট ছয়টি শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুইজন। দীর্ঘদিন ধরে পদগুলো শূন্য পড়ে থাকার কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ১০৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র দুইজন শিক্ষক হওয়ায় প্রতিটি শ্রেণিতে পাঠদান প্রক্রিয়া ঠিকমতো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষকরা ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও জনবল সংকটের কারণে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই শূন্যপদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

শিক্ষাবিদদের মতে, হাওর অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও প্রতিকূলতার কথা মাথায় রেখে বিশেষ শিক্ষা পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সঠিক শিক্ষক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে। এছাড়া, নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নেরও সময় এসেছে। স্থানীয় শিক্ষা অফিস বিষয়টি অবগত থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

পরিশেষে, রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত হাওর অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা। সাঁকো নয়, বরং নিরাপদ যাতায়াতের জন্য কালভার্ট বা স্থায়ী ব্রিজের দাবি দীর্ঘদিনের। শিক্ষার আলো প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। শিশুদের নিরাপত্তা ও উন্নত পাঠদান নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা মাঝপথেই ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা অগ্রগতির জন্য একটি বড় বাধা।

জনপ্রিয়

হাওরাঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা: শিক্ষকসংকটে ব্যাহত পাঠদান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

হাওরাঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা: শিক্ষকসংকটে ব্যাহত পাঠদান

আপডেট : ১০:২০:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

হাওরবেষ্টিত দুর্গম জনপদের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাজীবন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। বছরের অধিকাংশ সময় পানিবেষ্টিত থাকায় বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। সামান্য অসাবধানতায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই সাঁকো পার হয়েই তাদের স্কুলে পৌঁছাতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যখন হাওরের পানি বেড়ে যায়, তখন এই যাতায়াত ব্যবস্থা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, যা অনেক অভিভাবকের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে এই অঞ্চলের শিশুদের।

বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষকসংকট পাঠদান কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই বিদ্যালয়ে মোট ছয়টি শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুইজন। দীর্ঘদিন ধরে পদগুলো শূন্য পড়ে থাকার কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ১০৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র দুইজন শিক্ষক হওয়ায় প্রতিটি শ্রেণিতে পাঠদান প্রক্রিয়া ঠিকমতো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষকরা ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও জনবল সংকটের কারণে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই শূন্যপদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

শিক্ষাবিদদের মতে, হাওর অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও প্রতিকূলতার কথা মাথায় রেখে বিশেষ শিক্ষা পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সঠিক শিক্ষক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে। এছাড়া, নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নেরও সময় এসেছে। স্থানীয় শিক্ষা অফিস বিষয়টি অবগত থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

পরিশেষে, রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত হাওর অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা। সাঁকো নয়, বরং নিরাপদ যাতায়াতের জন্য কালভার্ট বা স্থায়ী ব্রিজের দাবি দীর্ঘদিনের। শিক্ষার আলো প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। শিশুদের নিরাপত্তা ও উন্নত পাঠদান নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা মাঝপথেই ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা অগ্রগতির জন্য একটি বড় বাধা।