Hi

০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের সাফ সভাপতি নির্বাচিত কাজী সালাহউদ্দিন

ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কংগ্রেসে বাংলাদেশের কিংবদন্তি ফুটবলার কাজী সালাহউদ্দিন আবারও সংস্থাটির সভাপতি হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এই নিয়ে তিনি টানা অষ্টমবারের মতো সাফের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হলেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে তার দীর্ঘস্থায়ী কর্তৃত্বের ইঙ্গিত বহন করে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) থেকে ১৬ বছরের দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালেও আঞ্চলিক ফুটবলে তার নেতৃত্ব অক্ষুণ্ণ থাকল।

কাজী সালাহউদ্দিনের পুনঃনির্বাচিত হওয়ার পথ সুগম হয়েছিল মূলত সাফের গঠনতন্ত্রে আনা সংশোধনের মাধ্যমে। পূর্বে সাফের সংবিধানে ৭০ বছরের বয়সসীমা এবং সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের বাধ্যবাধকতা ছিল। এই দুটি বিধান তুলে নেওয়ার ফলেই সালাহউদ্দিনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ২০০৯ সাল থেকে টানা ১৭ বছর তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করছেন, এবং নতুন মেয়াদেও তার নেতৃত্ব বজায় থাকল। এই সংশোধনী আঞ্চলিক ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামোতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে, যা ব্যক্তিগত নেতৃত্বকে দীর্ঘায়িত করার সুযোগ করে দিয়েছে।

যদিও দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাফুফের বর্তমান কমিটি কাজী সালাহউদ্দিনকে সমর্থন দিতে আগ্রহী ছিল না, তিনি বাফুফের সমর্থনের উপর নির্ভর না করে নিজস্ব কৌশল অবলম্বন করেন। নেপাল ও ভুটান ফুটবল ফেডারেশনের প্রস্তাব ও অকুণ্ঠ সমর্থনে তিনি তার প্রার্থিতা নিশ্চিত করেন। একক প্রার্থী হওয়ায় তার জয় আগেই নিশ্চিত ছিল এবং থিম্পুর কংগ্রেস ছিল কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা। এই ঘটনা আঞ্চলিক ফুটবলে ব্যক্তিগত প্রভাব ও আন্তঃদেশীয় সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরে।

নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থিম্পু থেকে কাজী সালাহউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, নেপাল ও ভুটানের সমর্থন তার প্রার্থিতার মূল ভিত্তি ছিল। তিনি বলেন, “অন্যদের আমার ওপর আস্থা ছিল বলেই আর কোনো মনোনয়ন পত্র জমা পড়েনি। তাই আবারও নির্বাচিত হতে পেরেছি। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।” সাফের কার্যক্রমের পরিধি গত কয়েক বছরে অনেকটাই বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার প্রধান কাজ হবে এই গতি ধরে রাখা এবং সাফকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তার লক্ষ্য, আঞ্চলিক ফুটবলের মানোন্নয়ন, যুব ফুটবলের প্রসার এবং বাণিজ্যিক দিক থেকে সাফকে আরও শক্তিশালী করা।

একই কংগ্রেসে বাফুফের বর্তমান সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরেফকে সাফের নতুন নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক ফুটবলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে। দিনের শেষের দিকে সাফের আসন্ন চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে নেপালকে এই ড্র থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। কংগ্রেসে নেপালকে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার জন্য। যদি এই সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়, তবে নেপাল টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাবে এবং স্বাগতিক বাংলাদেশের গ্রুপে যুক্ত হবে বলে নিয়ম রয়েছে।

কাজী সালাহউদ্দিন আশাবাদী, নেপাল যথাসময়ে নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হবে এবং আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সাফের আসরে অংশ নিতে পারবে। এর আগে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি বাফুফে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। এটি স্পষ্ট করে যে, তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের উন্নয়নে মনোনিবেশ করতে চান, যেখানে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব আঞ্চলিক ফুটবলের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার ও ট্রাম্পের চাপ: রাজনৈতিক সংকটে নেতানিয়াহু

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের সাফ সভাপতি নির্বাচিত কাজী সালাহউদ্দিন

আপডেট : ০৪:২৩:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কংগ্রেসে বাংলাদেশের কিংবদন্তি ফুটবলার কাজী সালাহউদ্দিন আবারও সংস্থাটির সভাপতি হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এই নিয়ে তিনি টানা অষ্টমবারের মতো সাফের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হলেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে তার দীর্ঘস্থায়ী কর্তৃত্বের ইঙ্গিত বহন করে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) থেকে ১৬ বছরের দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালেও আঞ্চলিক ফুটবলে তার নেতৃত্ব অক্ষুণ্ণ থাকল।

কাজী সালাহউদ্দিনের পুনঃনির্বাচিত হওয়ার পথ সুগম হয়েছিল মূলত সাফের গঠনতন্ত্রে আনা সংশোধনের মাধ্যমে। পূর্বে সাফের সংবিধানে ৭০ বছরের বয়সসীমা এবং সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের বাধ্যবাধকতা ছিল। এই দুটি বিধান তুলে নেওয়ার ফলেই সালাহউদ্দিনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ২০০৯ সাল থেকে টানা ১৭ বছর তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করছেন, এবং নতুন মেয়াদেও তার নেতৃত্ব বজায় থাকল। এই সংশোধনী আঞ্চলিক ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামোতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে, যা ব্যক্তিগত নেতৃত্বকে দীর্ঘায়িত করার সুযোগ করে দিয়েছে।

যদিও দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাফুফের বর্তমান কমিটি কাজী সালাহউদ্দিনকে সমর্থন দিতে আগ্রহী ছিল না, তিনি বাফুফের সমর্থনের উপর নির্ভর না করে নিজস্ব কৌশল অবলম্বন করেন। নেপাল ও ভুটান ফুটবল ফেডারেশনের প্রস্তাব ও অকুণ্ঠ সমর্থনে তিনি তার প্রার্থিতা নিশ্চিত করেন। একক প্রার্থী হওয়ায় তার জয় আগেই নিশ্চিত ছিল এবং থিম্পুর কংগ্রেস ছিল কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা। এই ঘটনা আঞ্চলিক ফুটবলে ব্যক্তিগত প্রভাব ও আন্তঃদেশীয় সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরে।

নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থিম্পু থেকে কাজী সালাহউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, নেপাল ও ভুটানের সমর্থন তার প্রার্থিতার মূল ভিত্তি ছিল। তিনি বলেন, “অন্যদের আমার ওপর আস্থা ছিল বলেই আর কোনো মনোনয়ন পত্র জমা পড়েনি। তাই আবারও নির্বাচিত হতে পেরেছি। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।” সাফের কার্যক্রমের পরিধি গত কয়েক বছরে অনেকটাই বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার প্রধান কাজ হবে এই গতি ধরে রাখা এবং সাফকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তার লক্ষ্য, আঞ্চলিক ফুটবলের মানোন্নয়ন, যুব ফুটবলের প্রসার এবং বাণিজ্যিক দিক থেকে সাফকে আরও শক্তিশালী করা।

একই কংগ্রেসে বাফুফের বর্তমান সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরেফকে সাফের নতুন নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক ফুটবলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে। দিনের শেষের দিকে সাফের আসন্ন চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে নেপালকে এই ড্র থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। কংগ্রেসে নেপালকে আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার জন্য। যদি এই সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়, তবে নেপাল টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাবে এবং স্বাগতিক বাংলাদেশের গ্রুপে যুক্ত হবে বলে নিয়ম রয়েছে।

কাজী সালাহউদ্দিন আশাবাদী, নেপাল যথাসময়ে নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হবে এবং আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সাফের আসরে অংশ নিতে পারবে। এর আগে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি বাফুফে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। এটি স্পষ্ট করে যে, তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের উন্নয়নে মনোনিবেশ করতে চান, যেখানে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব আঞ্চলিক ফুটবলের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।