Hi

০৬:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জর্ডানে ভিক্ষা করার সময় নারী গ্রেপ্তার, ব্যাগে মিলল ৫৭ লাখ টাকার বিদেশি মুদ্রা

জর্ডানের রাজধানী আম্মানের রাস্তায় ভিক্ষা করার সময় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারের পর তার কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে ৪৬ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৭ লাখ ৩১ হাজার ৮০০ টাকা। জর্ডানের সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই নারী পেশাদার ভিক্ষুক এবং তিনি নিয়মিত ভিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করতেন। তবে ওই নারীর জাতীয়তা বা কতদিন ধরে তিনি এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জর্ডানের সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষকে রাস্তায় ভিক্ষুকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, অনেক সময় ভিক্ষুকরা অসুস্থতা বা চরম দারিদ্র্যের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মানুষের সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা করে। যদি কেউ অসহায় মানুষকে সাহায্য করতে আগ্রহী হন, তবে তাদের অনুমোদিত ও নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে দান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সন্দেহজনক ভিক্ষাবৃত্তির কোনো ঘটনা নজরে এলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশজুড়ে ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে সমাজ মন্ত্রণালয় নিয়মিত পরিদর্শন ও অভিযান পরিচালনা করছে।

জর্ডানে ভিক্ষাবৃত্তি একটি দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। জর্ডান টাইমসের ২০২৫ সালের মার্চ মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির দণ্ডবিধির ৩৮৯ ধারার অধীনে জনসমক্ষে ভিক্ষা চাওয়া বা অর্থ সংগ্রহ করা আইনত নিষিদ্ধ। ২০২২ সালে এই আইনটি আরও কঠোর করা হয়েছে। সংশোধিত আইনে ভিক্ষাবৃত্তির বিভিন্ন ধরন ও শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শারীরিক অক্ষমতার ভান করা, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ভিক্ষায় ব্যবহার করা, জীবিকার উৎস নয় এমন সামগ্রী প্রদর্শন করা এবং প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করা। মিথ্যা দাবির ভিত্তিতে অনুদান সংগ্রহকেও এই আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি আরবভিত্তিক গণমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ বিষয়টি জানা গেছে।

জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেত্রার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী আগে থেকেই ‘পেশাদার ভিক্ষাবৃত্তির’ সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

জর্ডান টাইমসের ২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশটিতে ভিক্ষাবৃত্তিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জনপ্রিয়

আগামী ৫ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস, কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের আশঙ্কা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জর্ডানে ভিক্ষা করার সময় নারী গ্রেপ্তার, ব্যাগে মিলল ৫৭ লাখ টাকার বিদেশি মুদ্রা

আপডেট : ০২:৩১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

জর্ডানের রাজধানী আম্মানের রাস্তায় ভিক্ষা করার সময় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারের পর তার কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে ৪৬ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৭ লাখ ৩১ হাজার ৮০০ টাকা। জর্ডানের সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই নারী পেশাদার ভিক্ষুক এবং তিনি নিয়মিত ভিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করতেন। তবে ওই নারীর জাতীয়তা বা কতদিন ধরে তিনি এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জর্ডানের সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষকে রাস্তায় ভিক্ষুকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, অনেক সময় ভিক্ষুকরা অসুস্থতা বা চরম দারিদ্র্যের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মানুষের সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা করে। যদি কেউ অসহায় মানুষকে সাহায্য করতে আগ্রহী হন, তবে তাদের অনুমোদিত ও নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে দান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সন্দেহজনক ভিক্ষাবৃত্তির কোনো ঘটনা নজরে এলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশজুড়ে ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে সমাজ মন্ত্রণালয় নিয়মিত পরিদর্শন ও অভিযান পরিচালনা করছে।

জর্ডানে ভিক্ষাবৃত্তি একটি দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। জর্ডান টাইমসের ২০২৫ সালের মার্চ মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির দণ্ডবিধির ৩৮৯ ধারার অধীনে জনসমক্ষে ভিক্ষা চাওয়া বা অর্থ সংগ্রহ করা আইনত নিষিদ্ধ। ২০২২ সালে এই আইনটি আরও কঠোর করা হয়েছে। সংশোধিত আইনে ভিক্ষাবৃত্তির বিভিন্ন ধরন ও শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শারীরিক অক্ষমতার ভান করা, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ভিক্ষায় ব্যবহার করা, জীবিকার উৎস নয় এমন সামগ্রী প্রদর্শন করা এবং প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করা। মিথ্যা দাবির ভিত্তিতে অনুদান সংগ্রহকেও এই আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি আরবভিত্তিক গণমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ বিষয়টি জানা গেছে।

জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেত্রার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী আগে থেকেই ‘পেশাদার ভিক্ষাবৃত্তির’ সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

জর্ডান টাইমসের ২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশটিতে ভিক্ষাবৃত্তিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।