Hi

১০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ও স্বত্বাধিকারীকে বেধড়ক মারধর করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল, এবং সেই দাবির অর্থ না দেওয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের রাঙাদিয়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এফএম এন্টারপ্রাইজ’ দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করে আসছে। হামলার শিকার ব্যক্তিরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেন এবং প্রকৌশলী শাহরিয়ার আমির।

আহত প্রকৌশলী শাহরিয়ার আমির সংবাদমাধ্যমকে জানান, আলী হোসেন নামের এক ব্যক্তি স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এলাকায় ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে লাভের ৫০ শতাংশ তাঁকে দিতে হবে। এই অস্বাভাবিক ও অবৈধ দাবির প্রতিবাদ করায় এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আলী হোসেনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের পথরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চালানো এই হামলায় শাহরিয়ার আমির ও মো. দেলোয়ার হোসেন গুরুতর জখম হন।

এদিকে, এই ঘটনার পর অভিযুক্ত আলী হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আনোয়ারা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হারেছ আহমদ গণমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত আলী হোসেন যুবদলের কোনো পদ-পদবিতে নেই। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধ করলে তার দায় দল নেবে না এবং তাঁর চাঁদা দাবির বিষয়েও তাদের কোনো ধারণা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো. দেলোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আলী হোসেনের বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও হুমকির কারণে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে তটস্থ ছিলেন। আজ তারা চূড়ান্তভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এছাড়া অভিযুক্ত আলী হোসেনের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়, তবে ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং খুব দ্রুতই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ আশ্বস্ত করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

এসএসসিতে তিন বোনের তাক লাগানো সাফল্য: সবাই পেল জিপিএ-৫

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ

আপডেট : ০৭:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ও স্বত্বাধিকারীকে বেধড়ক মারধর করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল, এবং সেই দাবির অর্থ না দেওয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের রাঙাদিয়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এফএম এন্টারপ্রাইজ’ দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করে আসছে। হামলার শিকার ব্যক্তিরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেন এবং প্রকৌশলী শাহরিয়ার আমির।

আহত প্রকৌশলী শাহরিয়ার আমির সংবাদমাধ্যমকে জানান, আলী হোসেন নামের এক ব্যক্তি স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এলাকায় ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে লাভের ৫০ শতাংশ তাঁকে দিতে হবে। এই অস্বাভাবিক ও অবৈধ দাবির প্রতিবাদ করায় এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আলী হোসেনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের পথরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চালানো এই হামলায় শাহরিয়ার আমির ও মো. দেলোয়ার হোসেন গুরুতর জখম হন।

এদিকে, এই ঘটনার পর অভিযুক্ত আলী হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আনোয়ারা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হারেছ আহমদ গণমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত আলী হোসেন যুবদলের কোনো পদ-পদবিতে নেই। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধ করলে তার দায় দল নেবে না এবং তাঁর চাঁদা দাবির বিষয়েও তাদের কোনো ধারণা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো. দেলোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আলী হোসেনের বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও হুমকির কারণে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে তটস্থ ছিলেন। আজ তারা চূড়ান্তভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এছাড়া অভিযুক্ত আলী হোসেনের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়, তবে ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং খুব দ্রুতই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ আশ্বস্ত করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।