Hi

১১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোলাপ মিয়ার সংসার

গ্রামের নাম রসুলপুর। গ্রামে গোলাপ মিয়া নামে এক গরীব কৃষক বাস করে। স্ত্রী মালতী আর দুই মেয়ে জুঁই এবং জবাকে নিয়ে গোলাপ মিয়ার সংসার। বড় মেয়ে জবা কলেজে পড়ে। পড়ালেখায় জবা খুবই ভালো। কলেজে তার অনেক সুনাম আছে। কিন্তু ছোট মেয়ে জুঁই বেশি পড়ালেখা করতে পারেনি। অভাব অনটনের সংসারে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত তার পড়ালেখা থেমে যায়। গোলাপ মিয়া দিন আনে দিন খায়। নুন আনতে পান্তা পোরায় অবস্থা। পরের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে। দিন মজুরের কাজ করে। এভাবেই চলে গোলাপ মিয়ার সংসার। গরীব হলেও গোলাপ মিয়া স্বপ্ন দেখে। বড় মেয়ে জবা পড়ালেখা করে ডাক্তার হবে। তাঁদের ঘরে সুখ আসবে। হঠাৎ একদিন গোলাপ মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্ত্রী মালতী এবং দুই মেয়ে গোলাপ মিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার জানায় গোলাপ মিয়া স্ট্রোক করেছে।

এই কথা শোনার পর মালতীর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। মালতী চিন্তায় পড়ে গেলো। কি করবে? কোথায় যাবে? গোলাপ মিয়ার মা-বাবা, ভাই-বোন আপন বলতে কেউ নেই। একমাত্র বসতবাড়ি ছাড়া গোলাপ মিয়ার আর কোন সম্বলও নেই। বাবাকে বাঁচাতে জবা এবং জুঁই মা’কে বসতবাড়ি বিক্রি করতে বলে। মালতী আর কোন উপায় না পেয়ে রাজি হয়ে যায়। গ্রামের গনি মাতব্বরের কাছে বাড়িটি বিক্রি করে দেয়। তারপর মালতী তার স্বামীকে ভালো একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। জুঁই এবং জবা তাদের বাবার পাশে বসে কাঁদতে থাকে।

ডাক্তার তাদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে দোয়া করো, তোমাদের বাবা ভালো হয়ে যাবে। দেখতে দেখতে ছয় মাস কেটে যায়। কিন্তু গোলাপ মিয়া ভালো হওয়ার কোন লক্ষ্মণ নেই। হঠাৎ একদিন গোলাপ মিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। বাবার মৃত্যুতে জবার কলেজ যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। স্বামী হারা মালতী দুই মেয়েকে নিয়ে জীবিকার তাগিদে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়। ঢাকায় গোলাপ মিয়ার এক প্রতিবেশী থাকতো। মালতী তাদের প্রতিবেশীর পাশেই একটি ভাড়া বাসায় উঠলো। জুঁই এবং জবা ভালো বেতনে গার্মেন্টসে চাকরি নিলো। স্বামীর শোকে মালতীও কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়লো। বাবা হারানো দুই মেয়ে মা’কে বড়ো এক ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলো। ধীরে ধীরে মালতী সুস্থ হয়ে উঠলো। জুঁই এবং জবা তাঁদের মা’কে আর অভাব বুঝতে দেইনি। গোলাপ মিয়ার রেখে যাওয়া সংসার এভাবেই সুখে শান্তিতে দিনযাপন করতে লাগলো।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

গোলাপ মিয়ার সংসার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গোলাপ মিয়ার সংসার

আপডেট : ১০:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

গ্রামের নাম রসুলপুর। গ্রামে গোলাপ মিয়া নামে এক গরীব কৃষক বাস করে। স্ত্রী মালতী আর দুই মেয়ে জুঁই এবং জবাকে নিয়ে গোলাপ মিয়ার সংসার। বড় মেয়ে জবা কলেজে পড়ে। পড়ালেখায় জবা খুবই ভালো। কলেজে তার অনেক সুনাম আছে। কিন্তু ছোট মেয়ে জুঁই বেশি পড়ালেখা করতে পারেনি। অভাব অনটনের সংসারে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত তার পড়ালেখা থেমে যায়। গোলাপ মিয়া দিন আনে দিন খায়। নুন আনতে পান্তা পোরায় অবস্থা। পরের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে। দিন মজুরের কাজ করে। এভাবেই চলে গোলাপ মিয়ার সংসার। গরীব হলেও গোলাপ মিয়া স্বপ্ন দেখে। বড় মেয়ে জবা পড়ালেখা করে ডাক্তার হবে। তাঁদের ঘরে সুখ আসবে। হঠাৎ একদিন গোলাপ মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্ত্রী মালতী এবং দুই মেয়ে গোলাপ মিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার জানায় গোলাপ মিয়া স্ট্রোক করেছে।

এই কথা শোনার পর মালতীর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। মালতী চিন্তায় পড়ে গেলো। কি করবে? কোথায় যাবে? গোলাপ মিয়ার মা-বাবা, ভাই-বোন আপন বলতে কেউ নেই। একমাত্র বসতবাড়ি ছাড়া গোলাপ মিয়ার আর কোন সম্বলও নেই। বাবাকে বাঁচাতে জবা এবং জুঁই মা’কে বসতবাড়ি বিক্রি করতে বলে। মালতী আর কোন উপায় না পেয়ে রাজি হয়ে যায়। গ্রামের গনি মাতব্বরের কাছে বাড়িটি বিক্রি করে দেয়। তারপর মালতী তার স্বামীকে ভালো একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। জুঁই এবং জবা তাদের বাবার পাশে বসে কাঁদতে থাকে।

ডাক্তার তাদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে দোয়া করো, তোমাদের বাবা ভালো হয়ে যাবে। দেখতে দেখতে ছয় মাস কেটে যায়। কিন্তু গোলাপ মিয়া ভালো হওয়ার কোন লক্ষ্মণ নেই। হঠাৎ একদিন গোলাপ মিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। বাবার মৃত্যুতে জবার কলেজ যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। স্বামী হারা মালতী দুই মেয়েকে নিয়ে জীবিকার তাগিদে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়। ঢাকায় গোলাপ মিয়ার এক প্রতিবেশী থাকতো। মালতী তাদের প্রতিবেশীর পাশেই একটি ভাড়া বাসায় উঠলো। জুঁই এবং জবা ভালো বেতনে গার্মেন্টসে চাকরি নিলো। স্বামীর শোকে মালতীও কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়লো। বাবা হারানো দুই মেয়ে মা’কে বড়ো এক ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলো। ধীরে ধীরে মালতী সুস্থ হয়ে উঠলো। জুঁই এবং জবা তাঁদের মা’কে আর অভাব বুঝতে দেইনি। গোলাপ মিয়ার রেখে যাওয়া সংসার এভাবেই সুখে শান্তিতে দিনযাপন করতে লাগলো।