Hi

০৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় এমপির গাড়িতে হামলার ঘটনায় মামলা, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার ওপর হামলার ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মোমিন বিশ্বাস বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় এই এজাহার জমা দেন। এতে গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানিয়েছেন, এজাহারটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এর আগে রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আমির হামজা অভিযোগ করেন, শান্ত কুষ্টিয়াকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গণ অধিকার পরিষদের ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা’ তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এছাড়া বিকেলে শহরে দলের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য আমির হামজা প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। তাঁর দাবির মধ্যে রয়েছে—হামলায় জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করা। এ সময় তিনি বর্তমান জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, জেলা প্রশাসন ব্যর্থ এবং তাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

গাড়িতে লাঠি রাখার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমির হামজা বলেন, সরকারিভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স বা দেহরক্ষী না থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি গাড়িতে দুটি লাঠি রাখেন। ঘটনার সময় হামলা হলে তাঁর চালক লাঠি নিয়ে নেমেছিলেন এবং তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে সরে যান। সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার সময় আপনার (আমির হামজার) গাড়ির ভেতর থেকে লাঠি বের করা হয়েছিল-এক সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমার গাড়িতে সব সময় দুটি লাঠি রেখে দিই।

এই জেলার যারা দায়িত্বে আছে, প্রশাসনে যে যেখানে দায়িত্বে আছে, সব ব্যর্থ।

এদের দ্বারা নিরাপত্তা পাবার কোনো সম্ভাবনা আমাদের নেই।’

সরকার এখনো বডিগার্ড দেয়নি বা নিইনি।

সেই হিসাবে আমার নিজের সিকিউরিটির জন্য হেফাজতে (লাঠি) রাখি।

যখন আমার ওপর হামলা হয়, তখন আমার চালক লাঠি হাতে নেমে যায়।

জনপ্রিয়

কিম জং উনের সঙ্গে পুরোনো ছবি শেয়ার করে সুসম্পর্কের বার্তা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কুষ্টিয়ায় এমপির গাড়িতে হামলার ঘটনায় মামলা, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

আপডেট : ০৩:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার ওপর হামলার ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মোমিন বিশ্বাস বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় এই এজাহার জমা দেন। এতে গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানিয়েছেন, এজাহারটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এর আগে রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আমির হামজা অভিযোগ করেন, শান্ত কুষ্টিয়াকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গণ অধিকার পরিষদের ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা’ তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এছাড়া বিকেলে শহরে দলের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য আমির হামজা প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। তাঁর দাবির মধ্যে রয়েছে—হামলায় জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করা। এ সময় তিনি বর্তমান জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, জেলা প্রশাসন ব্যর্থ এবং তাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

গাড়িতে লাঠি রাখার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমির হামজা বলেন, সরকারিভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স বা দেহরক্ষী না থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি গাড়িতে দুটি লাঠি রাখেন। ঘটনার সময় হামলা হলে তাঁর চালক লাঠি নিয়ে নেমেছিলেন এবং তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে সরে যান। সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার সময় আপনার (আমির হামজার) গাড়ির ভেতর থেকে লাঠি বের করা হয়েছিল-এক সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমার গাড়িতে সব সময় দুটি লাঠি রেখে দিই।

এই জেলার যারা দায়িত্বে আছে, প্রশাসনে যে যেখানে দায়িত্বে আছে, সব ব্যর্থ।

এদের দ্বারা নিরাপত্তা পাবার কোনো সম্ভাবনা আমাদের নেই।’

সরকার এখনো বডিগার্ড দেয়নি বা নিইনি।

সেই হিসাবে আমার নিজের সিকিউরিটির জন্য হেফাজতে (লাঠি) রাখি।

যখন আমার ওপর হামলা হয়, তখন আমার চালক লাঠি হাতে নেমে যায়।