Hi

০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলন মাস্কের স্টারলিংককে টেক্কা দিতে ইউরোপের নতুন উচ্চাভিলাষী স্যাটেলাইট প্রজেক্ট ‘আইরিস-২’

বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সেবার বাজারে আধিপত্য বিস্তারকারী মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের স্টারলিংকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। নিজস্ব উপগ্রহভিত্তিক ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অংশ হিসেবে ‘আইরিস-২’ (IRIS²) নামক উচ্চাভিলাষী স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইউরোপীয় কমিশন। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) সার্বিক সহযোগিতায় গত ৭ আগস্ট ‘স্পেসরাইজ’ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে এই আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর ফলে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা থেকে প্রকল্পটি এখন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণের পর্যায়ে প্রবেশ করল।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আইরিস-২ স্যাটেলাইট বহরে নতুন করে ৬৬টি কৃত্রিম উপগ্রহ যুক্ত করা হবে। এর ফলে মহাকাশে এই প্রকল্পের মোট কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩৪৮টিতে। মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে গঠিত নেটওয়ার্ক বৈশ্বিক ইন্টারনেট ও টেলিকমিউনিকেশন বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে স্টারলিংক এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি একটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

প্রকল্পের রূপরেখা অনুযায়ী, আইরিস-২-এর ৩৪৮টি স্যাটেলাইটের মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ ৩৩০টি কৃত্রিম উপগ্রহ থাকবে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে বা লো আর্থ অরবিটে (LEO)। বাকি ১৮টি স্যাটেলাইট স্থাপন করা হবে মধ্য কক্ষপথে বা মিডিয়াম আর্থ অরবিটে (MEO)। এই ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথের সমন্বয়ে তৈরি বহরটি কেবল সাধারণ ইন্টারনেট সেবা প্রদানই করবে না, বরং নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ মিশনের জন্য এতে অতিরিক্ত ও উন্নত প্রযুক্তিগত সুবিধাও যুক্ত করা হবে। এর ফলে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির সংযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই ফ্ল্যাগশিপ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কটি কেবল বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য নয়, বরং কৌশলগত ও নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জাতীয় সরকার, প্রতিরক্ষা খাত, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিভিন্ন জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাকে একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ, সুরক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই আইরিস-২ ডিজাইন করা হয়েছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের সাইবার ও যোগাযোগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ থেকেই ইউরোপ এই স্বাবলম্বী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মহাশূন্যে স্টারলিংকের একক আধিপত্য খর্ব করতে ইউরোপের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী। ভবিষ্যতের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো জরুরি বা সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে আইরিস-২ নেটওয়ার্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এক অনন্য কৌশলগত সুবিধা দেবে। আগামী দিনে এই প্রকল্পের কাজ আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো স্যাটেলাইট বহর মহাকাশে স্থাপন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয়

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ: প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইলন মাস্কের স্টারলিংককে টেক্কা দিতে ইউরোপের নতুন উচ্চাভিলাষী স্যাটেলাইট প্রজেক্ট ‘আইরিস-২’

আপডেট : ০২:৫০:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সেবার বাজারে আধিপত্য বিস্তারকারী মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের স্টারলিংকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। নিজস্ব উপগ্রহভিত্তিক ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অংশ হিসেবে ‘আইরিস-২’ (IRIS²) নামক উচ্চাভিলাষী স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইউরোপীয় কমিশন। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) সার্বিক সহযোগিতায় গত ৭ আগস্ট ‘স্পেসরাইজ’ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে এই আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর ফলে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা থেকে প্রকল্পটি এখন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণের পর্যায়ে প্রবেশ করল।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আইরিস-২ স্যাটেলাইট বহরে নতুন করে ৬৬টি কৃত্রিম উপগ্রহ যুক্ত করা হবে। এর ফলে মহাকাশে এই প্রকল্পের মোট কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩৪৮টিতে। মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে গঠিত নেটওয়ার্ক বৈশ্বিক ইন্টারনেট ও টেলিকমিউনিকেশন বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে স্টারলিংক এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি একটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

প্রকল্পের রূপরেখা অনুযায়ী, আইরিস-২-এর ৩৪৮টি স্যাটেলাইটের মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ ৩৩০টি কৃত্রিম উপগ্রহ থাকবে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে বা লো আর্থ অরবিটে (LEO)। বাকি ১৮টি স্যাটেলাইট স্থাপন করা হবে মধ্য কক্ষপথে বা মিডিয়াম আর্থ অরবিটে (MEO)। এই ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথের সমন্বয়ে তৈরি বহরটি কেবল সাধারণ ইন্টারনেট সেবা প্রদানই করবে না, বরং নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ মিশনের জন্য এতে অতিরিক্ত ও উন্নত প্রযুক্তিগত সুবিধাও যুক্ত করা হবে। এর ফলে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির সংযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই ফ্ল্যাগশিপ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কটি কেবল বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য নয়, বরং কৌশলগত ও নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জাতীয় সরকার, প্রতিরক্ষা খাত, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিভিন্ন জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাকে একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ, সুরক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই আইরিস-২ ডিজাইন করা হয়েছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের সাইবার ও যোগাযোগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ থেকেই ইউরোপ এই স্বাবলম্বী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মহাশূন্যে স্টারলিংকের একক আধিপত্য খর্ব করতে ইউরোপের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী। ভবিষ্যতের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো জরুরি বা সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে আইরিস-২ নেটওয়ার্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এক অনন্য কৌশলগত সুবিধা দেবে। আগামী দিনে এই প্রকল্পের কাজ আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো স্যাটেলাইট বহর মহাকাশে স্থাপন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।