Hi

০৪:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৬ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন: ৪ বছরে সুবিধা পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৪:২৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ জন দেখেছে

দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। সরকারের এই সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগের আওতায় আগামী চার বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে মোট ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে নিয়ে আসার বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সফলভাবে পাইলট বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর এবার সারা দেশে পূর্ণাঙ্গভাবে এই সেবা প্রসারের প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তথ্যের নিয়মিত আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র ও অভাবী মানুষ যেন সহায়তা পায়, তা সুনিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঐতিহাসিক ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন। এর পর অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ দেশের সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে। সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ডসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভা শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, চার বছরের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে কার্ড প্রদানের প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে একটি আধুনিক ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বা গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন পদ্ধতির মাধ্যমে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ডেটাবেজ নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। এর ফলে কেউ দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জন করলে যেমন তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, তেমনি নতুন করে কেউ আর্থিক সংকটে পতিত হলে তাকেও দ্রুত সুরক্ষানেটে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে। যোগ্য সুবিধাভোগী যেন বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন তালিকায় ঢুকতে না পারেন, সে জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে কঠোর তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

এই কর্মসূচির মানবিক দিক তুলে ধরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া কিংবা বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ থাকবে না। একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকেই এই কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে এই আর্থিক সহায়তার অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের মতে, সহায়তার অর্থ নারীর হাতে পৌঁছালে তা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন, কুটির শিল্প, সেলাই ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির গতি চাঙ্গা করবে এবং নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করবে।

উল্লেখ্য, দেশের ৫৬টি নির্দিষ্ট এলাকায় বাস্তবায়িত পাইলট প্রকল্পে অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গেছে। যশোর ও নেত্রকোনার দুটি পরীক্ষামূলক এলাকায় ডেটা সংগ্রহের ক্ষেত্রে সামান্য কিছু কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলেও তা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় কোনো বড় সমস্যা পাওয়া যায়নি এবং সেখানে ত্রুটির হার ছিল ৩ শতাংশেরও কম। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও সম্পূর্ণ ডিজিটালি অনলাইনে উপাত্ত সংগ্রহের মূল কাজ শুরু হবে। মৃত্যুর তথ্য বা আর্থসামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তন দ্রুত নিবন্ধনে যুক্ত করতে প্রতি মাসেই এই তথ্য সংশোধন করা হবে।

কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সরকার তিন স্তরের নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তারা ডেটা সংগ্রহ পর্যবেক্ষণ করবেন। পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে তদারকি কমিটি সক্রিয় থাকবে। জাতীয় পর্যায়ে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও এর সার্বিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন। একই ব্যক্তি যাতে একাধিক সরকারি ভাতা বা সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন, সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি স্বাধীন গবেষণা সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমেও প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে।

জনপ্রিয়

১৬ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন: ৪ বছরে সুবিধা পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

১৬ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন: ৪ বছরে সুবিধা পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

আপডেট : ০৪:২৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। সরকারের এই সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগের আওতায় আগামী চার বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে মোট ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে নিয়ে আসার বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সফলভাবে পাইলট বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর এবার সারা দেশে পূর্ণাঙ্গভাবে এই সেবা প্রসারের প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তথ্যের নিয়মিত আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র ও অভাবী মানুষ যেন সহায়তা পায়, তা সুনিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঐতিহাসিক ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন। এর পর অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ দেশের সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে। সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ডসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভা শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, চার বছরের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে কার্ড প্রদানের প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে একটি আধুনিক ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বা গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন পদ্ধতির মাধ্যমে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ডেটাবেজ নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। এর ফলে কেউ দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জন করলে যেমন তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, তেমনি নতুন করে কেউ আর্থিক সংকটে পতিত হলে তাকেও দ্রুত সুরক্ষানেটে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে। যোগ্য সুবিধাভোগী যেন বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন তালিকায় ঢুকতে না পারেন, সে জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে কঠোর তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

এই কর্মসূচির মানবিক দিক তুলে ধরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া কিংবা বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ থাকবে না। একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকেই এই কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে এই আর্থিক সহায়তার অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের মতে, সহায়তার অর্থ নারীর হাতে পৌঁছালে তা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন, কুটির শিল্প, সেলাই ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির গতি চাঙ্গা করবে এবং নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করবে।

উল্লেখ্য, দেশের ৫৬টি নির্দিষ্ট এলাকায় বাস্তবায়িত পাইলট প্রকল্পে অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গেছে। যশোর ও নেত্রকোনার দুটি পরীক্ষামূলক এলাকায় ডেটা সংগ্রহের ক্ষেত্রে সামান্য কিছু কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলেও তা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় কোনো বড় সমস্যা পাওয়া যায়নি এবং সেখানে ত্রুটির হার ছিল ৩ শতাংশেরও কম। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও সম্পূর্ণ ডিজিটালি অনলাইনে উপাত্ত সংগ্রহের মূল কাজ শুরু হবে। মৃত্যুর তথ্য বা আর্থসামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তন দ্রুত নিবন্ধনে যুক্ত করতে প্রতি মাসেই এই তথ্য সংশোধন করা হবে।

কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সরকার তিন স্তরের নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তারা ডেটা সংগ্রহ পর্যবেক্ষণ করবেন। পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে তদারকি কমিটি সক্রিয় থাকবে। জাতীয় পর্যায়ে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও এর সার্বিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন। একই ব্যক্তি যাতে একাধিক সরকারি ভাতা বা সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন, সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি স্বাধীন গবেষণা সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমেও প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে।