Hi

০৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি বিলে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়: অর্থমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানির বিল পরিশোধে সরকারকে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার গুনতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধন এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে সৌরশক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং বাজেটে এ খাতে বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার জ্বালানি খাতে তিন মাসের মজুত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। আর্থিক খাত সংস্কারের বিষয়ে তিনি জানান, সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এই সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। এছাড়া কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ তৈরির কাজ চলছে। স্থানীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না উল্লেখ করে তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাধাগুলো দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে তা মাত্র ৫ শতাংশ, যা বিনিয়োগের জন্য উদ্বেগের বিষয়। দীর্ঘমেয়াদী ঋণের জন্য ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারকে কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতি বর্তমানে এক যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। সঠিক সিদ্ধান্ত ও সংস্কারের অভাবে অর্থনীতি পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি হয়রানি কমাতে করজাল সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমের তদারকির জন্য একটি বিশেষ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব দেন। এছাড়া খেলাপি ঋণ কমানো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বিনিয়োগ স্থবিরতার কথা উল্লেখ করে বলেন, উচ্চ সুদের হার, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ব্যবসার খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান জায়েদি সাত্তার নীতিমালার সাথে বাস্তবায়নের ফারাক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, উচ্চ শুল্কহারের কারণে স্থানীয়ভাবে পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়ছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন। মুদ্রানীতি ও বাজেটের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, যা মোকাবিলায় মুদ্রানীতি সংস্কার জরুরি। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক বলেন, প্রবাসী আয়নির্ভর অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ মূল্যস্ফীতি খুবই উদ্বেগজনক। তাই ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান বলেন, বাজেটে ব্যবসাবান্ধব নীতি থাকলেও বেসরকারি খাতে গতি আসেনি। উচ্চ সুদহার, মূল্যস্ফীতি এবং আর্থিক খাত থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ এর জন্য দায়ী। তিনি বন্দর ও শুল্ক সেবার দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। ব্যাংকার সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, জ্বালানি প্রাপ্তি ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত না করলে কেবল সুদহার কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব নয়। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের মাহবুবুর রহমান এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জায়েদি সাত্তারসহ বিশিষ্টজনেরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, আবুল কাসেম খান, বেনজীর আহমেদ ও রিজওয়ান রাহমান। চাকরির আরও তথ্য: বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা যত গভীরেই থাকুক, সেগুলো নিরসন করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানো বলা যতটা সহজ, বাস্তবায়ন ততটা কঠিন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যারা প্রণোদনার শর্ত পূরণ করতে পারবে, তারা ঋণ সহায়তা পাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে হয়রানি বিষয়টি একটা নেতিবাচক কাঠামোতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে সংস্কার কার্যক্রম কাজে আসছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে আমরা যতটা উদার, পণ্য আমদানিতে যতটাই কঠিন।’ উচ্চ শুল্কহার থাকায় স্থানীয়ভাবে মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের মূল্য বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।’’।

জনপ্রিয়

সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে পুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি বিলে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়: অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ০৯:২৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানির বিল পরিশোধে সরকারকে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার গুনতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধন এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে সৌরশক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং বাজেটে এ খাতে বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার জ্বালানি খাতে তিন মাসের মজুত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। আর্থিক খাত সংস্কারের বিষয়ে তিনি জানান, সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এই সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। এছাড়া কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ তৈরির কাজ চলছে। স্থানীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না উল্লেখ করে তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাধাগুলো দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে তা মাত্র ৫ শতাংশ, যা বিনিয়োগের জন্য উদ্বেগের বিষয়। দীর্ঘমেয়াদী ঋণের জন্য ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারকে কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতি বর্তমানে এক যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। সঠিক সিদ্ধান্ত ও সংস্কারের অভাবে অর্থনীতি পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি হয়রানি কমাতে করজাল সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমের তদারকির জন্য একটি বিশেষ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব দেন। এছাড়া খেলাপি ঋণ কমানো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বিনিয়োগ স্থবিরতার কথা উল্লেখ করে বলেন, উচ্চ সুদের হার, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ব্যবসার খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান জায়েদি সাত্তার নীতিমালার সাথে বাস্তবায়নের ফারাক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, উচ্চ শুল্কহারের কারণে স্থানীয়ভাবে পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়ছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন। মুদ্রানীতি ও বাজেটের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, যা মোকাবিলায় মুদ্রানীতি সংস্কার জরুরি। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক বলেন, প্রবাসী আয়নির্ভর অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ মূল্যস্ফীতি খুবই উদ্বেগজনক। তাই ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান বলেন, বাজেটে ব্যবসাবান্ধব নীতি থাকলেও বেসরকারি খাতে গতি আসেনি। উচ্চ সুদহার, মূল্যস্ফীতি এবং আর্থিক খাত থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ এর জন্য দায়ী। তিনি বন্দর ও শুল্ক সেবার দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। ব্যাংকার সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, জ্বালানি প্রাপ্তি ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত না করলে কেবল সুদহার কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব নয়। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের মাহবুবুর রহমান এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জায়েদি সাত্তারসহ বিশিষ্টজনেরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, আবুল কাসেম খান, বেনজীর আহমেদ ও রিজওয়ান রাহমান। চাকরির আরও তথ্য: বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা যত গভীরেই থাকুক, সেগুলো নিরসন করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানো বলা যতটা সহজ, বাস্তবায়ন ততটা কঠিন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যারা প্রণোদনার শর্ত পূরণ করতে পারবে, তারা ঋণ সহায়তা পাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে হয়রানি বিষয়টি একটা নেতিবাচক কাঠামোতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে সংস্কার কার্যক্রম কাজে আসছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে আমরা যতটা উদার, পণ্য আমদানিতে যতটাই কঠিন।’ উচ্চ শুল্কহার থাকায় স্থানীয়ভাবে মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের মূল্য বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।’’।