Hi

১০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের আহ্বান ড. ইউনূসের, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুযোগ

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৯:১২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ জন দেখেছে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীনের শতাধিক শীর্ষ উদ্যোক্তা ও সিইওদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৮ মার্চ) আয়োজিত এই সংলাপে তিনি বাংলাদেশকে একটি প্রতিশ্রুতিশীল উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তর করলে চীনা বিনিয়োগকারীরা বিশেষ সুবিধা পাবেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে কোনো ধরনের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা নেই এবং এটি বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করে। এছাড়া ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশ নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করতে পারে।

বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বিইজেডএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ‘বাংলাদেশ ২.০: গেটওয়ে টু গ্রোথ’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিআইডিএ ও বিইজেডএ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

চীনের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিপিআইটি) ভাইস চেয়ারপারসন লি কিংশুয়ং জানান, চীনা বিনিয়োগকারীরা বৈশ্বিক পরিসরে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী এবং বাংলাদেশ তাদের জন্য অন্যতম সেরা গন্তব্য হতে পারে। তিনি বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন এবং আরও বেশি প্রচারমূলক ইভেন্ট আয়োজনের পরামর্শ দেন।

বিনিয়োগ সংলাপের পরবর্তী পর্যায়ে লঙ্গি, অপ্পো, চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি, চায়না বায়োটেক অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস ভ্যালি এবং চায়না রেলওয়ে ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনটি রাউন্ড টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আশিক চৌধুরী জানান, ঢাকায় আসন্ন বিনিয়োগ সম্মেলনে চীনা প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বড় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ড. ইউনূস তার ‘নতুন বাংলাদেশ’ ভিশন ও তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক ব্যবসা ও ‘থ্রি জিরোজ’ বা তিন শূন্যের বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানান। তিনি এমন এক নতুন সভ্যতা গড়ার কথা বলেন, যেখানে সম্পদ কেন্দ্রীকরণ, কার্বন নিঃসরণ, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব থাকবে না।

এই আয়োজনে চীনের পেকিং, রেনমিন ও চিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ অধ্যাপক ও যুব নেতারা অংশ নেন। চিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন লি দাওকুই ড. ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তার হাত ধরে বাংলাদেশ দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। তিনি বাংলাদেশের আমলাদের জন্য চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ‘ডে-লং ডিপ ডাইভ’ আয়োজনের প্রস্তাব দেন। চাকরির আরও তথ্য: এটাই বাংলাদেশে বিনিয়োগের উপযুক্ত সময়। চাকরির আরও তথ্য: তিনি বাংলাদেশের বিনিয়োগ খাতের বর্তমান অবস্থা, চাহিদার পরিপ্রেক্ষিত এবং প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাগুলো তুলে ধরেন। চাকরির আরও তথ্য: তিনি বলেন, এটাই সঠিক সময়, যা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের দরজা উন্মুক্ত করার বার্তা বহন করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে অংশ নেয় বিশ্বের বৃহত্তম সৌর প্যানেল নির্মাতা লঙ্গি, মোবাইলফোন নির্মাতা অপ্পো, চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি হিসেনসি ইন্টারন্যাশনাল, চায়না বায়োটেক অ্যান্ড ফার্মাসিটিক্যালস ভ্যালি, চায়না ইন্টারনেট, চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং।

জনপ্রিয়

হরমুজ প্রণালি থেকে আমিরাত সংশ্লিষ্ট তেলবাহী ট্যাংকার আটক করল ইরান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের আহ্বান ড. ইউনূসের, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুযোগ

আপডেট : ০৯:১২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীনের শতাধিক শীর্ষ উদ্যোক্তা ও সিইওদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৮ মার্চ) আয়োজিত এই সংলাপে তিনি বাংলাদেশকে একটি প্রতিশ্রুতিশীল উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তর করলে চীনা বিনিয়োগকারীরা বিশেষ সুবিধা পাবেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে কোনো ধরনের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা নেই এবং এটি বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করে। এছাড়া ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশ নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করতে পারে।

বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বিইজেডএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ‘বাংলাদেশ ২.০: গেটওয়ে টু গ্রোথ’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিআইডিএ ও বিইজেডএ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

চীনের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিপিআইটি) ভাইস চেয়ারপারসন লি কিংশুয়ং জানান, চীনা বিনিয়োগকারীরা বৈশ্বিক পরিসরে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী এবং বাংলাদেশ তাদের জন্য অন্যতম সেরা গন্তব্য হতে পারে। তিনি বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন এবং আরও বেশি প্রচারমূলক ইভেন্ট আয়োজনের পরামর্শ দেন।

বিনিয়োগ সংলাপের পরবর্তী পর্যায়ে লঙ্গি, অপ্পো, চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি, চায়না বায়োটেক অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস ভ্যালি এবং চায়না রেলওয়ে ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনটি রাউন্ড টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আশিক চৌধুরী জানান, ঢাকায় আসন্ন বিনিয়োগ সম্মেলনে চীনা প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বড় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ড. ইউনূস তার ‘নতুন বাংলাদেশ’ ভিশন ও তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক ব্যবসা ও ‘থ্রি জিরোজ’ বা তিন শূন্যের বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানান। তিনি এমন এক নতুন সভ্যতা গড়ার কথা বলেন, যেখানে সম্পদ কেন্দ্রীকরণ, কার্বন নিঃসরণ, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব থাকবে না।

এই আয়োজনে চীনের পেকিং, রেনমিন ও চিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ অধ্যাপক ও যুব নেতারা অংশ নেন। চিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন লি দাওকুই ড. ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তার হাত ধরে বাংলাদেশ দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। তিনি বাংলাদেশের আমলাদের জন্য চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ‘ডে-লং ডিপ ডাইভ’ আয়োজনের প্রস্তাব দেন। চাকরির আরও তথ্য: এটাই বাংলাদেশে বিনিয়োগের উপযুক্ত সময়। চাকরির আরও তথ্য: তিনি বাংলাদেশের বিনিয়োগ খাতের বর্তমান অবস্থা, চাহিদার পরিপ্রেক্ষিত এবং প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাগুলো তুলে ধরেন। চাকরির আরও তথ্য: তিনি বলেন, এটাই সঠিক সময়, যা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের দরজা উন্মুক্ত করার বার্তা বহন করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে অংশ নেয় বিশ্বের বৃহত্তম সৌর প্যানেল নির্মাতা লঙ্গি, মোবাইলফোন নির্মাতা অপ্পো, চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি হিসেনসি ইন্টারন্যাশনাল, চায়না বায়োটেক অ্যান্ড ফার্মাসিটিক্যালস ভ্যালি, চায়না ইন্টারনেট, চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং।