Hi

১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিউ-ক্যাশে রক্ষণাবেক্ষণ: ৩০ ব্যাংকের গ্রাহক ভোগান্তিতে

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ জন দেখেছে

আইটি কনসালট্যান্টস বা আইটিসির নেটওয়ার্কভিত্তিক পেমেন্ট সুইচ ‘কিউ-ক্যাশ’ তাদের সিস্টেম মাইগ্রেশন এবং কারিগরি উন্নয়নের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য গত রোববার রাত ৯টা থেকে সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যা ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্থায়ী হবে। এই দীর্ঘ সময়ের জন্য সেবা বন্ধ থাকায় কিউ-ক্যাশের সঙ্গে যুক্ত ৩০টি ব্যাংকের কার্ডভিত্তিক লেনদেন ও ডিজিটাল পরিষেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রায় ৩০টি ব্যাংক এটিএম সেবার জন্য এই সুইচ ব্যবহার করে থাকে। যে সব ব্যাংকের নিজস্ব বিকল্প সুইচ ব্যবস্থা রয়েছে, তারা কিছুটা সামাল দিতে পারলেও যাদের অন্য কোনো পথ নেই, সেই ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথ, ই-কমার্স পেমেন্ট, অনলাইন ফান্ড ট্রান্সফার, কার্ড চেক, বাংলা কিউআর এবং এমএফএস ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে অনেক গ্রাহক টাকা তুলতে পারছেন না এবং ই-কমার্স লেনদেনেও ব্যর্থ হচ্ছেন। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাদের কার্ডের মাধ্যমে বেতন তুলতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

পূর্বঘোষণা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন একাধিক ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা। শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ জানিয়েছেন, তাদের ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন গ্রহণকারী গ্রাহক ও বিদেশে অবস্থানরত গ্রাহকরা কার্ড ব্যবহার করতে না পারায় তারা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। তবে সব ব্যাংকের অবস্থা এক নয়; ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান জানিয়েছেন, তাদের কার্ডে কিছু ই-কমার্স সমস্যা থাকলেও টাকা তোলার সেবা স্বাভাবিক রয়েছে। একইভাবে ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, তাদের ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্য সব সেবা অন্য সুইচ ব্যবহারের মাধ্যমে চালু রাখা হয়েছে।

আইটিসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সেবা আরও দ্রুত, নিরাপদ ও দক্ষ করার লক্ষ্যেই এই মাইগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য প্রতিষ্ঠানটি সদস্য ব্যাংক ও গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। যে ৩০টি ব্যাংকের সঙ্গে আইটিসির সুইচ ব্যবহারের চুক্তি রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ, কমিউনিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও উরি ব্যাংক। আইটিসির তথ্য অনুযায়ী, ৩০ ব্যাংকের সঙ্গে তাদের সুইচ ব্যবহারের চুক্তি রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একটানা ছয় দিন এমন গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় সাধারণ গ্রাহকরা ব্যাপক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকগুলোকে বিকল্প হিসেবে কাউন্টার বা সরাসরি শাখা থেকে জরুরি লেনদেন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে আইটিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

জনপ্রিয়

ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে বাংলাদেশে এল ৫৪০ টন মিথানল

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কিউ-ক্যাশে রক্ষণাবেক্ষণ: ৩০ ব্যাংকের গ্রাহক ভোগান্তিতে

আপডেট : ১০:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

আইটি কনসালট্যান্টস বা আইটিসির নেটওয়ার্কভিত্তিক পেমেন্ট সুইচ ‘কিউ-ক্যাশ’ তাদের সিস্টেম মাইগ্রেশন এবং কারিগরি উন্নয়নের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য গত রোববার রাত ৯টা থেকে সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যা ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্থায়ী হবে। এই দীর্ঘ সময়ের জন্য সেবা বন্ধ থাকায় কিউ-ক্যাশের সঙ্গে যুক্ত ৩০টি ব্যাংকের কার্ডভিত্তিক লেনদেন ও ডিজিটাল পরিষেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রায় ৩০টি ব্যাংক এটিএম সেবার জন্য এই সুইচ ব্যবহার করে থাকে। যে সব ব্যাংকের নিজস্ব বিকল্প সুইচ ব্যবস্থা রয়েছে, তারা কিছুটা সামাল দিতে পারলেও যাদের অন্য কোনো পথ নেই, সেই ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথ, ই-কমার্স পেমেন্ট, অনলাইন ফান্ড ট্রান্সফার, কার্ড চেক, বাংলা কিউআর এবং এমএফএস ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে অনেক গ্রাহক টাকা তুলতে পারছেন না এবং ই-কমার্স লেনদেনেও ব্যর্থ হচ্ছেন। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাদের কার্ডের মাধ্যমে বেতন তুলতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়েছেন।

পূর্বঘোষণা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন একাধিক ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা। শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ জানিয়েছেন, তাদের ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন গ্রহণকারী গ্রাহক ও বিদেশে অবস্থানরত গ্রাহকরা কার্ড ব্যবহার করতে না পারায় তারা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। তবে সব ব্যাংকের অবস্থা এক নয়; ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান জানিয়েছেন, তাদের কার্ডে কিছু ই-কমার্স সমস্যা থাকলেও টাকা তোলার সেবা স্বাভাবিক রয়েছে। একইভাবে ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, তাদের ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্য সব সেবা অন্য সুইচ ব্যবহারের মাধ্যমে চালু রাখা হয়েছে।

আইটিসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সেবা আরও দ্রুত, নিরাপদ ও দক্ষ করার লক্ষ্যেই এই মাইগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য প্রতিষ্ঠানটি সদস্য ব্যাংক ও গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। যে ৩০টি ব্যাংকের সঙ্গে আইটিসির সুইচ ব্যবহারের চুক্তি রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ, কমিউনিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও উরি ব্যাংক। আইটিসির তথ্য অনুযায়ী, ৩০ ব্যাংকের সঙ্গে তাদের সুইচ ব্যবহারের চুক্তি রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একটানা ছয় দিন এমন গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় সাধারণ গ্রাহকরা ব্যাপক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকগুলোকে বিকল্প হিসেবে কাউন্টার বা সরাসরি শাখা থেকে জরুরি লেনদেন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে আইটিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।