Hi

০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার অনন্য উদ্যোগ বাংলাদেশের

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রিভেনশন সামিট ২০২৬’-এর সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় নেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) আয়োজনে এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সম্মেলনের সমাপ্তিতে ‘ফেইথ বেজড প্রিভেনশন’ বা বিশ্বাসভিত্তিক প্রতিরোধ শীর্ষক ঐতিহাসিক ‘ঢাকা ঘোষণা’ গৃহীত হয়। এই ঘোষণায় ডায়াবেটিস প্রতিরোধের লড়াইয়ে প্রথাগত স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কমিউনিটি এবং ধর্মীয় গুরুদের যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বক্তারা মত দেন যে, চিকিৎসকদের নির্দেশনার চেয়ে সাধারণ মানুষ অনেক সময় ধর্মীয় নেতাদের উপদেশ বা পরামর্শ অধিক গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে থাকে। ফলে ইমাম বা পুরোহিতরা যদি জুম্মার খুতবা বা ধর্মীয় ভাষণের সময় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, তবে তা জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান। তিনি জানান, বাডাসের গ্লোবাল হেলথ রিসার্চ সেন্টারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি বিশেষ ট্রায়ালে ‘ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ’ মডেলের কার্যকারিতা ইতিমধ্যে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই সফল মডেলটিকে দেশব্যাপী সম্প্রসারিত করা গেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে অভাবনীয় সাফল্য আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন বিস্তারিত তুলে ধরে জানান যে, বর্তমানে দেশের ১০০টি মসজিদে পরীক্ষামূলকভাবে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি মসজিদের ইমাম এবং একজন করে নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক মসজিদে এই কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে জুম্মার খুতবার মাধ্যমে একযোগে কোটি মানুষের কাছে স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছে দেওয়া যাবে, যা প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা গ্রহণে সহায়ক হবে।

আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) সভাপতি অধ্যাপক পিটার শোয়ার্জ বাংলাদেশের এই উদ্যোগকে বিশ্বমঞ্চে একটি নতুন ও বৈপ্লবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, আধুনিক বিজ্ঞান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করার এই টেকসই মডেলটি অন্যান্য দেশের জন্যও অনুসরণযোগ্য। বিশ্ব ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশনের (ডব্লিউডিএফ) বোর্ড চেয়ার সোবিয়া আকরামও এই মতের সঙ্গে একমত পোষণ করে জানান যে, ‘ঢাকা ঘোষণা’ বিশ্ববাসীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দিকনির্দেশনা দিচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বহু মানুষকে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে আরও বক্তব্য রাখেন ডায়াবেটিস ইন এশিয়া স্টাডি গ্রুপের (ডিএএসজি) সভাপতি আবদুল বাসিত এবং ওআইসি-কমস্টেকের কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক এম ইকবাল চৌধুরীসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের উপস্থিতিতে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্পৃক্ততার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

জনপ্রিয়

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার অনন্য উদ্যোগ বাংলাদেশের

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার অনন্য উদ্যোগ বাংলাদেশের

আপডেট : ০২:২২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রিভেনশন সামিট ২০২৬’-এর সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় নেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) আয়োজনে এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সম্মেলনের সমাপ্তিতে ‘ফেইথ বেজড প্রিভেনশন’ বা বিশ্বাসভিত্তিক প্রতিরোধ শীর্ষক ঐতিহাসিক ‘ঢাকা ঘোষণা’ গৃহীত হয়। এই ঘোষণায় ডায়াবেটিস প্রতিরোধের লড়াইয়ে প্রথাগত স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কমিউনিটি এবং ধর্মীয় গুরুদের যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বক্তারা মত দেন যে, চিকিৎসকদের নির্দেশনার চেয়ে সাধারণ মানুষ অনেক সময় ধর্মীয় নেতাদের উপদেশ বা পরামর্শ অধিক গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে থাকে। ফলে ইমাম বা পুরোহিতরা যদি জুম্মার খুতবা বা ধর্মীয় ভাষণের সময় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, তবে তা জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান। তিনি জানান, বাডাসের গ্লোবাল হেলথ রিসার্চ সেন্টারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি বিশেষ ট্রায়ালে ‘ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ’ মডেলের কার্যকারিতা ইতিমধ্যে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই সফল মডেলটিকে দেশব্যাপী সম্প্রসারিত করা গেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে অভাবনীয় সাফল্য আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন বিস্তারিত তুলে ধরে জানান যে, বর্তমানে দেশের ১০০টি মসজিদে পরীক্ষামূলকভাবে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি মসজিদের ইমাম এবং একজন করে নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক মসজিদে এই কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে জুম্মার খুতবার মাধ্যমে একযোগে কোটি মানুষের কাছে স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছে দেওয়া যাবে, যা প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা গ্রহণে সহায়ক হবে।

আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) সভাপতি অধ্যাপক পিটার শোয়ার্জ বাংলাদেশের এই উদ্যোগকে বিশ্বমঞ্চে একটি নতুন ও বৈপ্লবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, আধুনিক বিজ্ঞান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করার এই টেকসই মডেলটি অন্যান্য দেশের জন্যও অনুসরণযোগ্য। বিশ্ব ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশনের (ডব্লিউডিএফ) বোর্ড চেয়ার সোবিয়া আকরামও এই মতের সঙ্গে একমত পোষণ করে জানান যে, ‘ঢাকা ঘোষণা’ বিশ্ববাসীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দিকনির্দেশনা দিচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বহু মানুষকে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে আরও বক্তব্য রাখেন ডায়াবেটিস ইন এশিয়া স্টাডি গ্রুপের (ডিএএসজি) সভাপতি আবদুল বাসিত এবং ওআইসি-কমস্টেকের কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক এম ইকবাল চৌধুরীসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের উপস্থিতিতে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্পৃক্ততার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।