Hi

১১:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা মেডিকেলে দুই রাজনৈতিক দলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, জড়িত শান্তা ও আয়াস

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র জাতীয় প্রেসক্লাব এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে দুটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারির ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। নতুন ধারা বাংলাদেশ (এনডিবি) এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের মধ্যকার পূর্ববিরোধ ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। গত শনিবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের অবমূল্যায়ন করার অভিযোগে এনডিবির নেত্রীকে মারধরের জেরে মঙ্গলবারের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় এনডিবি এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম পৃথক পৃথক রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছিল। দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের অবস্থান কাছাকাছি থাকায় একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত শারীরিক সংঘাতে রূপ নেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যাতে বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দৃশ্যমান হলেও উত্তেজনা প্রশমিত হতে সময় লাগে।

সংঘর্ষের এই অপ্রীতিকর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এনডিবির নেত্রী শান্তা ফারজানা ও তাঁর সঙ্গীরা রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসকে ঘিরে ধরে মারধর করছেন। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাঁকে আঘাত করার দৃশ্য জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও এই ধরনের রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে।

প্রেসক্লাবের ঘটনার পর আহত অবস্থায় উভয় পক্ষের লোকজন চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। কিন্তু হাসপাতালের অভ্যন্তরেও শান্তি বজায় থাকেনি। সেখানে ‘মঞ্চ-২৪’ নামের আরেকটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং তাদের কর্মীরা আয়াসের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী ও শান্তা ফারজানার ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ উঠেছে। এনডিবি পক্ষের দাবি, প্রতিপক্ষ ও তাদের সমর্থক গোষ্ঠী হাসপাতালের ভেতরে তাদের আটকে রেখে শারীরিক হেনস্তা করেছে। পরবর্তী সময়ে শাহবাগ থানা থেকে পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে জানান যে, দুই পক্ষই প্রেসক্লাব এলাকায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনকালে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে গিয়েও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায়। তবে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি এবং পুলিশ কাউকে আটক করেছে কি না, তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার নেপথ্যের কারণ এবং জড়িতদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাভাবিক হলেও প্রকাশ্য রাজপথ ও চিকিৎসাকেন্দ্রে এ ধরনের সহিংসতা আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করছে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ জাতীয় অপ্রীতিকর ঘটনা রোধ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

জনপ্রিয়

নামাজিদের জন্য কোরআনের তিনটি বিশেষ সতর্কবার্তা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা মেডিকেলে দুই রাজনৈতিক দলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, জড়িত শান্তা ও আয়াস

আপডেট : ০২:২৩:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র জাতীয় প্রেসক্লাব এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে দুটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারির ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। নতুন ধারা বাংলাদেশ (এনডিবি) এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের মধ্যকার পূর্ববিরোধ ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। গত শনিবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের অবমূল্যায়ন করার অভিযোগে এনডিবির নেত্রীকে মারধরের জেরে মঙ্গলবারের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় এনডিবি এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম পৃথক পৃথক রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছিল। দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের অবস্থান কাছাকাছি থাকায় একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত শারীরিক সংঘাতে রূপ নেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যাতে বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দৃশ্যমান হলেও উত্তেজনা প্রশমিত হতে সময় লাগে।

সংঘর্ষের এই অপ্রীতিকর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এনডিবির নেত্রী শান্তা ফারজানা ও তাঁর সঙ্গীরা রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসকে ঘিরে ধরে মারধর করছেন। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাঁকে আঘাত করার দৃশ্য জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও এই ধরনের রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে।

প্রেসক্লাবের ঘটনার পর আহত অবস্থায় উভয় পক্ষের লোকজন চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। কিন্তু হাসপাতালের অভ্যন্তরেও শান্তি বজায় থাকেনি। সেখানে ‘মঞ্চ-২৪’ নামের আরেকটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং তাদের কর্মীরা আয়াসের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী ও শান্তা ফারজানার ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ উঠেছে। এনডিবি পক্ষের দাবি, প্রতিপক্ষ ও তাদের সমর্থক গোষ্ঠী হাসপাতালের ভেতরে তাদের আটকে রেখে শারীরিক হেনস্তা করেছে। পরবর্তী সময়ে শাহবাগ থানা থেকে পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে জানান যে, দুই পক্ষই প্রেসক্লাব এলাকায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনকালে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে গিয়েও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায়। তবে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি এবং পুলিশ কাউকে আটক করেছে কি না, তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার নেপথ্যের কারণ এবং জড়িতদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাভাবিক হলেও প্রকাশ্য রাজপথ ও চিকিৎসাকেন্দ্রে এ ধরনের সহিংসতা আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করছে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ জাতীয় অপ্রীতিকর ঘটনা রোধ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।