Hi

০৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করল জামায়াতে ইসলামী, প্রধানমন্ত্রী ডা. শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, বিকল্প নীতি প্রণয়ন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করেছে। এই নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্যোগের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং খুব দ্রুতই তাদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

দলীয় সূত্র ও নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দলের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে এই ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। এতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনকে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের প্রধান আইনজীবী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সংসদ সদস্য ছাড়াও দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও বিশেষজ্ঞ এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

জামায়াতের এই পরিকল্পনায় সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ছায়া মন্ত্রী রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে উপমন্ত্রী পর্যায়েও দায়িত্ব বণ্টন করা হতে পারে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে, যারা সংশ্লিষ্ট খাতের নীতি, সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করবে। ইতিমধ্যে সদস্যরা সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রম এবং বাজেট পর্যালোচনা শুরু করেছেন। আগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে যৌথভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের চিন্তা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত জামায়াত নিজস্ব দলীয় কাঠামোর মাধ্যমেই এটি বাস্তবায়ন করেছে। এতে দলের শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সাবেক ছাত্রশিবির নেতারাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

দলটির নেতাদের দাবি, প্রথাগত বিরোধী রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে শুধু সরকারের সমালোচনা করাই তাদের লক্ষ্য নয়। বরং সরকারের নীতির বিকল্প প্রস্তাব তৈরি এবং মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কার্যক্রমের ওপর নিয়মিত নজরদারি করার মাধ্যমে সংসদ ও সংসদের বাইরে একটি সংগঠিত ও কাঠামোবদ্ধ ভূমিকা রাখতে চায় জামায়াত। এর মাধ্যমে তারা সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপকে জবাবদিহির আওতায় আনতে চায় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মূলত সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এই কাঠামো গঠন করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

চাঁদপুরে সপরিবার স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের রহস্যজনক অন্তর্ধান, তদন্তে পুলিশ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করল জামায়াতে ইসলামী, প্রধানমন্ত্রী ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট : ০৫:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, বিকল্প নীতি প্রণয়ন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করেছে। এই নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্যোগের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং খুব দ্রুতই তাদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

দলীয় সূত্র ও নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দলের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে এই ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। এতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনকে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের প্রধান আইনজীবী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সংসদ সদস্য ছাড়াও দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও বিশেষজ্ঞ এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

জামায়াতের এই পরিকল্পনায় সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ছায়া মন্ত্রী রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে উপমন্ত্রী পর্যায়েও দায়িত্ব বণ্টন করা হতে পারে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে, যারা সংশ্লিষ্ট খাতের নীতি, সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করবে। ইতিমধ্যে সদস্যরা সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রম এবং বাজেট পর্যালোচনা শুরু করেছেন। আগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে যৌথভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের চিন্তা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত জামায়াত নিজস্ব দলীয় কাঠামোর মাধ্যমেই এটি বাস্তবায়ন করেছে। এতে দলের শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সাবেক ছাত্রশিবির নেতারাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

দলটির নেতাদের দাবি, প্রথাগত বিরোধী রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে শুধু সরকারের সমালোচনা করাই তাদের লক্ষ্য নয়। বরং সরকারের নীতির বিকল্প প্রস্তাব তৈরি এবং মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কার্যক্রমের ওপর নিয়মিত নজরদারি করার মাধ্যমে সংসদ ও সংসদের বাইরে একটি সংগঠিত ও কাঠামোবদ্ধ ভূমিকা রাখতে চায় জামায়াত। এর মাধ্যমে তারা সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপকে জবাবদিহির আওতায় আনতে চায় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মূলত সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এই কাঠামো গঠন করা হয়েছে।