গাজীপুরের পর এবার চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে নতুন একটি সমরাস্ত্র কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ করপোরেশন-বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন জলিল টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড-জেটিএমএলের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি সেনাবাহিনীর কাছে প্রতীকী মূল্যে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দেয়।
বৃহস্পতিবার জমি হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদি এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বিটিএমসির সংশ্লিষ্ট সংস্থার চেয়ারম্যান এবং সেনাবাহিনীর পক্ষে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন সার্কেলের মিলিটারি এস্টেট অফিসার এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে ব্যক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত জলিল টেক্সটাইল মিলটি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জাতীয়করণ করা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘদিনের লোকসান ও অব্যবস্থাপনার কারণে ২০০৪ সালে মিলটির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সেই পরিত্যক্ত জমিতেই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন এই কারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর আগে ১৯৭০ সালে গাজীপুরের চতর এলাকায় তিন শতাধিক একর জায়গাজুড়ে দেশের একমাত্র সামরিক কারখানাটি স্থাপিত হয়েছিল।
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিদ্যমান সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবেই ভাটিয়ারিতে এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের একমাত্র অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আধুনিক সমরাস্ত্রের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, বৈদেশিক নির্ভরতা কমানো এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে সমরাস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এজন্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ করপোরেশন-বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন জলিল টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড-জেটিএমএলের প্রায় ৫৫ একর জায়গা সেনাবাহিনীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 





















