পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলাইমান ঈসা খান। টানা সাত মাস ধরে পরিবারের সদস্য, ব্যক্তিগত চিকিৎসক কিংবা আইনজীবীদের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেট তারকা ও তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের গ্রেপ্তারের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে তাঁর ছেলেরা এই অভিযোগ এনেছেন। একই সময়ে ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানজুড়ে বিশাল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ পরিচালনা করেছেন পিটিআই-এর হাজার হাজার নেতা-কর্মী।
যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাসিম ও সুলাইমান জানান, তাঁদের বাবার বর্তমান স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি নিয়ে পরিবার পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে কর্তৃপক্ষ কেবল তাঁদের বাবার সঙ্গেই নয়, পুরো পরিবারের সঙ্গেই এক ধরনের চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসরত দুই ভাই পাকিস্তানে গিয়ে বাবার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক জটিলতা ও ভিসা প্রদানে বিলম্বের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেন। অপরদিকে, পাকিস্তান সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, দুই ছেলের কাছে প্রবাসী পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইসিওপি) থাকায় আলাদা কোনো ভিসার প্রয়োজন নেই। তবে দুই ভাই স্পষ্ট করেছেন, ওই কার্ডগুলোর মেয়াদ বহু আগেই উত্তীর্ণ হয়েছে এবং সরকার তা নবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ইমরান খানের বর্তমান বন্দিদশা ও আইনি সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এক বিশেষ বিবৃতিতে সংস্থাটি ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির স্বাস্থ্যের যথাযথ তদারকি, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা এবং তাঁদের পরিবার ও আইনি দলের সঙ্গে অবাধ যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করার জোর আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, কোনো রাজনৈতিক বন্দীকে দীর্ঘকাল নির্জন কারাবাসে রাখা এবং তাঁদের যোগাযোগের মৌলিক অধিকার খর্ব করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একইসঙ্গে পিটিআই কর্মী ও রাজনৈতিক নেতাদের ওপর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার থামানোর আহ্বানও জানায় সংস্থাটি।
তবে পরিবার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এসব অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার। ইসলামাবাদ থেকে প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সম্পূর্ণ আলাদা বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রাখা হয়নি। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তাঁকে বিশেষ নিরাপত্তা সমৃদ্ধ একটি সাত কক্ষের কম্পাউন্ডে রাখা হয়েছে, যা সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ জন সাধারণ বন্দীর জন্য ব্যবহৃত হয়। সেখানে খোলা লন, করিডোর, ব্যায়ামের সরঞ্জাম, পর্যাপ্ত আসবাবপত্রসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। সরকারের দাবি অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশ ও কারাবিধি মেনে নিয়মিতভাবে তাঁর চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রয়েছে।
বাবার মুক্তির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো গোপন সমঝোতা বা আপস হতে পারে কি না—এমন সম্ভাবনা একবাক্যে উড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর দুই সন্তান। সুলাইমান খান জানান, দলের হাজার হাজার নিরপরাধ নেতা-কর্মীকে জেলে রেখে তাঁর বাবা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য কোনো চুক্তি করবেন না। বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কাসিম খান বলেন, পাকিস্তানের কোটি কোটি মানুষের দেওয়া রায়কে উপেক্ষা করে একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাকিস্তানের বর্তমান গণতান্ত্রিক সংকট সমাধানের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রিপোর্টার নাম: 




















