Hi

০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে ২০০ বছরের পুরোনো কটনউড গাছ বাঁচাতে পরিবেশবাদীদের জোরদার আন্দোলন

যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্ত সংলগ্ন অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের সান রাফায়েল উপত্যকায় একটি দুইশ বছরের পুরোনো কটনউড গাছ রক্ষায় তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলেছেন স্থানীয় অধিবাসী ও পরিবেশবাদীরা। মার্কিন সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত ৩০ ফুট উঁচু সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের জন্য গাছটি কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এই ক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে। ঐতিহ্যবাহী এবং প্রাকৃতির দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রাকৃতিক স্মারকটি রক্ষা করতে বিক্ষোভকারীরা গাছটি ঘিরে তাঁবু খাটিয়ে পাহারা দিচ্ছেন এবং গাছে উঠে ব্যানার টাঙিয়ে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সান রাফায়েল উপত্যকার সীমান্ত ঘেঁষা ক্ষুদ্র শহর লোকিয়েলে সীমান্ত প্রাচীর সম্প্রসারণের কাজ চলছে। গত জুলাই মাসের ২৭ তারিখে প্রাচীর নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ওই এলাকার তিনটি বিশালাকার কটনউড গাছ কেটে ফেলে। এরপর থেকেই বাকি থাকা একমাত্র মূল কটনউড গাছটি বাঁচাতে সংগঠিত হন পরিবেশ সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের দাবি, শতবর্ষী এই কটনউড কেবল একটি সাধারণ বৃক্ষ নয়, বরং এটি স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জীববৈচিত্র্যের এক অন্যতম প্রতীক। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এটির গুরুত্ব অনেকটা আমেরিকার ঐতিহাসিক ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’র মতোই অপরিসীম।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ম্যাড্রিয়ান আর্কিপেলাগো ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার’-এর প্রতিষ্ঠাতা কেট স্কটের নেতৃত্বে এই অবস্থান কর্মসূচি তীব্র গতি লাভ করেছে। আন্দোলনকারীরা ক্রমাগত যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন যাতে অবিলম্বে এই ঐতিহাসিক বৃক্ষটি কাটার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। পরিবেশবাদীদের মতে, শতাব্দীপ্রাচীন এই বৃক্ষ নিধন ওই অঞ্চলের সার্বিক বাস্তুসংস্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এক বড় ধরণের বিপর্যয় নিয়ে আসবে।

গাছ কাটার পাশাপাশি এই বিশাল সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সান রাফায়েল উপত্যকাটি ভালুক, শজারুসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণের জন্য পরিচিত। পূর্বে নিচু কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও বন্যপ্রাণীরা সহজে সীমান্ত অতিক্রম করে তাঁদের স্বাভাবিক আবাসে চলাচল করতে পারত। কিন্তু নতুন করে নির্মিত ৩০ ফুট উঁচু কংক্রিটের দেয়াল এই প্রাণীগুলোর চলাচলের প্রাকৃতিক পথ স্থায়ীভাবে অবরুদ্ধ করে দেবে। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চায়নের উদ্দেশ্যে গৃহীত এ প্রকল্প ওই অঞ্চলের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করছেন আন্দোলনকারীরা।

জনপ্রিয়

পাবনায় যুবদল কর্মীর গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে চুরি হওয়া গরু উদ্ধার, আটক ১

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে ২০০ বছরের পুরোনো কটনউড গাছ বাঁচাতে পরিবেশবাদীদের জোরদার আন্দোলন

আপডেট : ০৪:২২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্ত সংলগ্ন অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের সান রাফায়েল উপত্যকায় একটি দুইশ বছরের পুরোনো কটনউড গাছ রক্ষায় তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলেছেন স্থানীয় অধিবাসী ও পরিবেশবাদীরা। মার্কিন সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত ৩০ ফুট উঁচু সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের জন্য গাছটি কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এই ক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে। ঐতিহ্যবাহী এবং প্রাকৃতির দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রাকৃতিক স্মারকটি রক্ষা করতে বিক্ষোভকারীরা গাছটি ঘিরে তাঁবু খাটিয়ে পাহারা দিচ্ছেন এবং গাছে উঠে ব্যানার টাঙিয়ে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সান রাফায়েল উপত্যকার সীমান্ত ঘেঁষা ক্ষুদ্র শহর লোকিয়েলে সীমান্ত প্রাচীর সম্প্রসারণের কাজ চলছে। গত জুলাই মাসের ২৭ তারিখে প্রাচীর নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ওই এলাকার তিনটি বিশালাকার কটনউড গাছ কেটে ফেলে। এরপর থেকেই বাকি থাকা একমাত্র মূল কটনউড গাছটি বাঁচাতে সংগঠিত হন পরিবেশ সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের দাবি, শতবর্ষী এই কটনউড কেবল একটি সাধারণ বৃক্ষ নয়, বরং এটি স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জীববৈচিত্র্যের এক অন্যতম প্রতীক। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এটির গুরুত্ব অনেকটা আমেরিকার ঐতিহাসিক ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’র মতোই অপরিসীম।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ম্যাড্রিয়ান আর্কিপেলাগো ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার’-এর প্রতিষ্ঠাতা কেট স্কটের নেতৃত্বে এই অবস্থান কর্মসূচি তীব্র গতি লাভ করেছে। আন্দোলনকারীরা ক্রমাগত যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন যাতে অবিলম্বে এই ঐতিহাসিক বৃক্ষটি কাটার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। পরিবেশবাদীদের মতে, শতাব্দীপ্রাচীন এই বৃক্ষ নিধন ওই অঞ্চলের সার্বিক বাস্তুসংস্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এক বড় ধরণের বিপর্যয় নিয়ে আসবে।

গাছ কাটার পাশাপাশি এই বিশাল সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সান রাফায়েল উপত্যকাটি ভালুক, শজারুসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণের জন্য পরিচিত। পূর্বে নিচু কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও বন্যপ্রাণীরা সহজে সীমান্ত অতিক্রম করে তাঁদের স্বাভাবিক আবাসে চলাচল করতে পারত। কিন্তু নতুন করে নির্মিত ৩০ ফুট উঁচু কংক্রিটের দেয়াল এই প্রাণীগুলোর চলাচলের প্রাকৃতিক পথ স্থায়ীভাবে অবরুদ্ধ করে দেবে। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চায়নের উদ্দেশ্যে গৃহীত এ প্রকল্প ওই অঞ্চলের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করছেন আন্দোলনকারীরা।