কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা বেআইনি বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ৫৯ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক রিটা লিন স্পষ্ট করেছেন যে, জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সরকারি সমালোচকদের শাস্তি দেওয়া বা প্রতিশোধ নেওয়ার কোনো অবাধ সুযোগ নেই। আদালত বিবাদী ফেডারেল সংস্থাগুলোকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই আদেশ কার্যকর করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
মূলত পেন্টাগনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করায় অ্যানথ্রোপিককে প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। বিচারক রিটা লিন তার রায়ে উল্লেখ করেন, অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে নেওয়া এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে কোনো প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলার উদ্দেশ্য ছিল না। বরং সরকারের সমালোচনা করায় প্রতিষ্ঠানটির ‘ঔদ্ধত্যের’ জন্য তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছা থেকেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
আদালত প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দেওয়া সেই ঘোষণাটিও বাতিল করেছেন, যার মাধ্যমে অ্যানথ্রোপিককে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সাধারণত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই ধরনের তকমা ব্যবহার করা হয়। মার্চ মাসে বিচারকের দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞাটি বৃহস্পতিবারের রায়ের মাধ্যমে স্থায়ী করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন সরকার চাইলে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে।
অ্যানথ্রোপিকের একজন মুখপাত্র আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্তটি আইনগত ভিত্তিহীন ছিল। তিনি আরও জানান, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে সাধারণ আমেরিকানরা এর সুফল ভোগ করতে পারেন।
এই বিরোধের সূত্রপাত হয় যখন অ্যানথ্রোপিক মার্কিন সামরিক বাহিনীকে তাদের ‘ক্লড’ এআই মডেল ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্র পরিচালনা কিংবা নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নজরদারি চালানোর অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এই সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘চরম বামপন্থী’ এবং ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে আক্রমণ করেছিলেন। এর আগে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানেও ক্লড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল।
তবে এই রায় অ্যানথ্রোপিকের জন্য পুরোপুরি বিজয় নয়। একই দিনে পেন্টাগন সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধিমালার ভিত্তিতে আরেকটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। ওয়াশিংটনের আরেকটি আদালতে এ বিষয়ে মামলা চলমান রয়েছে এবং এপ্রিল মাসে ওই আদালতের বিচারক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
এছাড়া হোয়াইট হাউস অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদেইয়ের ওপরও অসন্তুষ্ট। কর্মসংস্থানের ওপর এআইয়ের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে তিনি বারবার সতর্কবার্তা দেওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মার্চ মাসে অ্যানথ্রোপিককে সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করার পর তাদের সঙ্গে সামরিক চুক্তিগুলো বাতিল করা হয়েছিল এবং পেন্টাগনের অন্যান্য ঠিকাদারদেরও তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন সামরিক বাহিনী বিভিন্ন গোপনীয় ও স্পর্শকাতর ব্যবস্থায় ক্লড ব্যবহার করছিল।
রিপোর্টার নাম: 






















