নেত্রকোনার এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান তানভীর রহমান। প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে অভাব কখনো সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না। সম্প্রতি প্রকাশিত ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফলে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। জীবনের প্রথম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেই এমন ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করা যেকোনো শিক্ষার্থীর জন্য স্বপ্নের মতো।
তানভীরের শৈশব কেটেছে নেত্রকোনার এক অজপাড়াগাঁয়ে, যেখানে বিদ্যুৎ ছিল না বললেই চলে। সেই সময়ে হারিকেন আর মোমবাতির মৃদু আলোয় দীর্ঘ রাত জেগে পড়াশোনা করেছেন তিনি। অভাব-অনটনের সংসারে একজন স্কুলশিক্ষক বাবার পক্ষে সন্তানের পড়াশোনার সব চাহিদা পূরণ করা সহজ ছিল না। তবে বাবার আদর্শ আর নিজের অদম্য জেদ তাঁকে কখনো লক্ষ্যচ্যুত হতে দেয়নি। সংগ্রামের সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তানভীর জানান, কষ্টের প্রতিটি মুহূর্তই তাঁকে আরও বেশি মনোযোগী হতে সাহায্য করেছে।
পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়ার এই অর্জনের পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত পড়াশোনা এবং দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি। তিনি শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং সমসাময়িক বিশ্বরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিল সমীকরণগুলো নিয়মিত অধ্যয়ন করেছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কারমুখী কর্মকাণ্ডের এই সময়ে, তানভীরের মতো তরুণদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়াকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দক্ষ কূটনীতিক হিসেবে তিনি আগামীর বাংলাদেশে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
তানভীরের এই সাফল্যে তাঁর পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। নেত্রকোনার এই কৃতি সন্তানের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা গর্বিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর সাফল্যের গল্প ছড়িয়ে পড়েছে, যা অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে। তানভীরের এই অর্জন প্রমাণ করে যে, মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে প্রতিকূল পরিবেশেও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।
রিপোর্টার নাম: 






















