Hi

০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুন্সিগঞ্জে ৫২ দিন পর প্রতিবেশীর রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে মিলল নিখোঁজ আওলাদের মরদেহ

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। প্রায় ৫২ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা আওলাদ হোসেন (৬০) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার চাইনপাড়া গ্রামের একটি রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তাঁর কঙ্কালসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আওলাদ হোসেন ওই গ্রামেরই মৃত ফরিদ শেখের সন্তান। গত ৯ মে থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্পত্তি লিখে দেওয়া নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আওলাদ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী রানী বেগম এবং তাঁর সহযোগীরা এই ঘটনার মূল হোতা বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জানা যায়, কয়েক বছর আগে প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আওলাদ হোসেন প্রতিবেশী মানিক ব্যাপারীর শ্যালিকা রানী বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই রানী বেগম আওলাদ হোসেনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন।

আওলাদ হোসেন নিখোঁজ হওয়ার পর ১০ মে তাঁর ভাই বেলায়েত হোসেন সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ২৩ মে রানী বেগম ও মানিক ব্যাপারীকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়, যা এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাভারের একটি গরুর খামার থেকে সাইফুল ইসলাম (৪২) নামের একজনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সাইফুল হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং জানান যে, আওলাদ হোসেনকে হত্যার পর মানিক ব্যাপারীর রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে মরদেহ পুঁতে রাখা হয়েছিল।

ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্ত রানী বেগম এবং মানিক ব্যাপারী পলাতক রয়েছেন। পুলিশ এই ঘটনায় সাইফুল ইসলাম ছাড়াও বিন আমিন (৩৮) ও রিপন (৩৫) নামের আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আওলাদ হোসেন জানান, উদ্ধার করা মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে বর্তমানে জোরালো অভিযান পরিচালনা করছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।

জনপ্রিয়

বেনাপোল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালিত

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মুন্সিগঞ্জে ৫২ দিন পর প্রতিবেশীর রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে মিলল নিখোঁজ আওলাদের মরদেহ

আপডেট : ০৩:৩০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। প্রায় ৫২ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা আওলাদ হোসেন (৬০) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার চাইনপাড়া গ্রামের একটি রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তাঁর কঙ্কালসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আওলাদ হোসেন ওই গ্রামেরই মৃত ফরিদ শেখের সন্তান। গত ৯ মে থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্পত্তি লিখে দেওয়া নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আওলাদ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী রানী বেগম এবং তাঁর সহযোগীরা এই ঘটনার মূল হোতা বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জানা যায়, কয়েক বছর আগে প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আওলাদ হোসেন প্রতিবেশী মানিক ব্যাপারীর শ্যালিকা রানী বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই রানী বেগম আওলাদ হোসেনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন।

আওলাদ হোসেন নিখোঁজ হওয়ার পর ১০ মে তাঁর ভাই বেলায়েত হোসেন সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ২৩ মে রানী বেগম ও মানিক ব্যাপারীকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়, যা এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাভারের একটি গরুর খামার থেকে সাইফুল ইসলাম (৪২) নামের একজনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সাইফুল হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং জানান যে, আওলাদ হোসেনকে হত্যার পর মানিক ব্যাপারীর রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে মরদেহ পুঁতে রাখা হয়েছিল।

ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্ত রানী বেগম এবং মানিক ব্যাপারী পলাতক রয়েছেন। পুলিশ এই ঘটনায় সাইফুল ইসলাম ছাড়াও বিন আমিন (৩৮) ও রিপন (৩৫) নামের আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আওলাদ হোসেন জানান, উদ্ধার করা মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে বর্তমানে জোরালো অভিযান পরিচালনা করছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।