Hi

০১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরা শহরে যত্রতত্র সাইনবোর্ড ও ফেস্টুনের ছড়াছড়ি: নষ্ট হচ্ছে নগরসৌন্দর্য, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ক্ষোভ

মাগুরা জেলাজুড়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। তবে নিয়মনীতি ও আইনকে তোয়াক্কা না করে সরকারি স্থাপনা, আদালতের মূল ফটক, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর, পৌর ভবনের দেয়াল এবং মহাসড়কের সড়কবাতির খুঁটিতে যত্রতত্র সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন শহরের নান্দনিক সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মূল ফটকে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ‘সব ধরনের পোস্টার লাগানো নিষেধ’ সংবলিত সতর্কবার্তা ঝুললেও তার পাশেই বিভিন্ন প্রার্থীর একাধিক সাইনবোর্ড ও পোস্টার দৃশ্যমান রয়েছে। এসব প্রচারসামগ্রীর আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসংবলিত বিলবোর্ড। শুধু আদালত চত্বরই নয়, পারনান্দুয়ালী বাস টার্মিনাল, পুলিশ লাইনস, ভায়না মোড়, নোমানী ময়দান এবং ঢাকা রোড থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত প্রধান সড়কগুলোতে চারশতাধিক ছোট-বড় সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে। এর একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে সম্ভাব্য পৌর ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রার্থীদের শুভেচ্ছা এবং দোয়া চেয়ে তৈরি করা ফেস্টুন।

শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, বিশেষ করে চৌরঙ্গী মোড়ে একই স্থানে ১৭টি পর্যন্ত ভিন্ন আকারের সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। গাছপালা কেটে বা গাছে পেরেক ঠুকে এসব ব্যানার লাগানোর কারণে পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সম্প্রতি চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীর দুটি বিলবোর্ড অপসারণের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রার্থীরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় প্রচার থাকা স্বাভাবিক, তবে জোর করে প্রচারসামগ্রী সরিয়ে ফেলা অন্যায়। অন্যদিকে সচেতন নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, নির্ধারিত নিয়ম না মেনে যেখানে-সেখানে ব্যানার লাগানোর ফলে শহরের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে।

এই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে যত্রতত্র ব্যানার লাগানোর ঘটনাকে ‘দৃষ্টিকটু’ ও ‘বিব্রতকর’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। দলের নেতারা জানিয়েছেন, দলের সক্রিয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অনেক নতুন মুখও এই ধরনের বিশৃঙ্খল প্রচারণায় জড়িয়ে পড়েছেন, যা শহরের পরিচ্ছন্নতা নষ্ট করছে এবং চালক ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। দলীয় শৃঙ্খলা ও নাগরিক স্বস্তি বজায় রাখতে এ বিষয়ে দ্রুত উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেয়াললিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া যত্রতত্র দেয়াললিখন বা পোস্টার সাঁটানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। মাগুরা পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন বিষয়টি ইতিমধ্যে তাদের নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসকও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তফসিল ঘোষণার পূর্বে নির্বাচনী প্রচার চালানোর কোনো আইনি সুযোগ নেই এবং দ্রুত নোটিশের মাধ্যমে অবৈধ প্রচারসামগ্রী অপসারণ করা না হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে নির্বাচন কমিশনের বর্তমান বিধান অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার আগে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি কার্যকর না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত আইনের মাধ্যমেই এই বিশৃঙ্খলা রোধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা।

জনপ্রিয়

টিকার প্রতি অনীহা: যুক্তরাষ্ট্রে গত সাড়ে তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রকোপ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মাগুরা শহরে যত্রতত্র সাইনবোর্ড ও ফেস্টুনের ছড়াছড়ি: নষ্ট হচ্ছে নগরসৌন্দর্য, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ক্ষোভ

আপডেট : ০৯:৪৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

মাগুরা জেলাজুড়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। তবে নিয়মনীতি ও আইনকে তোয়াক্কা না করে সরকারি স্থাপনা, আদালতের মূল ফটক, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর, পৌর ভবনের দেয়াল এবং মহাসড়কের সড়কবাতির খুঁটিতে যত্রতত্র সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন শহরের নান্দনিক সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মূল ফটকে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ‘সব ধরনের পোস্টার লাগানো নিষেধ’ সংবলিত সতর্কবার্তা ঝুললেও তার পাশেই বিভিন্ন প্রার্থীর একাধিক সাইনবোর্ড ও পোস্টার দৃশ্যমান রয়েছে। এসব প্রচারসামগ্রীর আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসংবলিত বিলবোর্ড। শুধু আদালত চত্বরই নয়, পারনান্দুয়ালী বাস টার্মিনাল, পুলিশ লাইনস, ভায়না মোড়, নোমানী ময়দান এবং ঢাকা রোড থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত প্রধান সড়কগুলোতে চারশতাধিক ছোট-বড় সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে। এর একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে সম্ভাব্য পৌর ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রার্থীদের শুভেচ্ছা এবং দোয়া চেয়ে তৈরি করা ফেস্টুন।

শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, বিশেষ করে চৌরঙ্গী মোড়ে একই স্থানে ১৭টি পর্যন্ত ভিন্ন আকারের সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। গাছপালা কেটে বা গাছে পেরেক ঠুকে এসব ব্যানার লাগানোর কারণে পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সম্প্রতি চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীর দুটি বিলবোর্ড অপসারণের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রার্থীরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় প্রচার থাকা স্বাভাবিক, তবে জোর করে প্রচারসামগ্রী সরিয়ে ফেলা অন্যায়। অন্যদিকে সচেতন নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, নির্ধারিত নিয়ম না মেনে যেখানে-সেখানে ব্যানার লাগানোর ফলে শহরের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে।

এই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে যত্রতত্র ব্যানার লাগানোর ঘটনাকে ‘দৃষ্টিকটু’ ও ‘বিব্রতকর’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। দলের নেতারা জানিয়েছেন, দলের সক্রিয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অনেক নতুন মুখও এই ধরনের বিশৃঙ্খল প্রচারণায় জড়িয়ে পড়েছেন, যা শহরের পরিচ্ছন্নতা নষ্ট করছে এবং চালক ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। দলীয় শৃঙ্খলা ও নাগরিক স্বস্তি বজায় রাখতে এ বিষয়ে দ্রুত উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেয়াললিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া যত্রতত্র দেয়াললিখন বা পোস্টার সাঁটানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। মাগুরা পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন বিষয়টি ইতিমধ্যে তাদের নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসকও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তফসিল ঘোষণার পূর্বে নির্বাচনী প্রচার চালানোর কোনো আইনি সুযোগ নেই এবং দ্রুত নোটিশের মাধ্যমে অবৈধ প্রচারসামগ্রী অপসারণ করা না হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে নির্বাচন কমিশনের বর্তমান বিধান অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার আগে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি কার্যকর না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত আইনের মাধ্যমেই এই বিশৃঙ্খলা রোধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা।