Hi

০৭:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক এমপি গাজী নজরুলের সহযোগী রাকিবুল কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি রাকিবুল হাসানকে কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে উপস্থাপন করেছিলেন। তবে বিচারক শারীরিক অসুস্থতার দিকটি বিবেচনায় রেখে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং জেলগেটে বা কারাফটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ প্রদান করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমের কাছে এই আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুনানিকালে আসামির পক্ষে কোনো আইনগত প্রতিনিধিত্ব ছিল না।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, এই মামলার মূল সূত্রপাত ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সাতক্ষীরা-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর ভাগনির একটি সম্পর্ক এবং পরবর্তীতে সেই সম্পর্কের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বাদী ওবায়দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার রোজগার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন এবং পেশাগতভাবে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্পর্কের বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই তার ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর ভাষ্যমতে, আসামি আমিনুর রহমান কৌশলে তাকে ড্রয়িংরুমে ডেকে নিয়ে যান এবং সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারধর ও গলা টিপে হত্যার চেষ্টা চালান। পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যদের চিৎসকার ও প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে বাদী কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কারণে আত্মগোপনে চলে যান।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর থেকেই রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিও ফাঁসের ঘটনার পর গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন যে ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তাদের মধ্যে পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই যুক্তি ধোপে টেকেনি। নৈতিক স্খলন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। শুধু তাই নয়, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না জানিয়ে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশন (সিইসি)-এর কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায় জামায়াত নেতৃত্ব। এর আগে মামলার অপর অভিযুক্ত আসামি আমিনুর রহমানকেও আদালত জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচন, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং ভিডিও ফাঁসের মূল উৎস খুঁজে বের করতে রিমান্ড বা জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয়

ইলেকট্রন কি মার্বেলের মতো গোলাকার? কোয়ান্টাম জগতের রহস্যময় কণার স্বরূপ সন্ধান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক এমপি গাজী নজরুলের সহযোগী রাকিবুল কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

আপডেট : ০৫:৪২:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি রাকিবুল হাসানকে কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে উপস্থাপন করেছিলেন। তবে বিচারক শারীরিক অসুস্থতার দিকটি বিবেচনায় রেখে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং জেলগেটে বা কারাফটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ প্রদান করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমের কাছে এই আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুনানিকালে আসামির পক্ষে কোনো আইনগত প্রতিনিধিত্ব ছিল না।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, এই মামলার মূল সূত্রপাত ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সাতক্ষীরা-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর ভাগনির একটি সম্পর্ক এবং পরবর্তীতে সেই সম্পর্কের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বাদী ওবায়দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার রোজগার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন এবং পেশাগতভাবে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্পর্কের বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই তার ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর ভাষ্যমতে, আসামি আমিনুর রহমান কৌশলে তাকে ড্রয়িংরুমে ডেকে নিয়ে যান এবং সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারধর ও গলা টিপে হত্যার চেষ্টা চালান। পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যদের চিৎসকার ও প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে বাদী কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কারণে আত্মগোপনে চলে যান।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর থেকেই রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিও ফাঁসের ঘটনার পর গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন যে ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তাদের মধ্যে পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই যুক্তি ধোপে টেকেনি। নৈতিক স্খলন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। শুধু তাই নয়, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না জানিয়ে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশন (সিইসি)-এর কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায় জামায়াত নেতৃত্ব। এর আগে মামলার অপর অভিযুক্ত আসামি আমিনুর রহমানকেও আদালত জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচন, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং ভিডিও ফাঁসের মূল উৎস খুঁজে বের করতে রিমান্ড বা জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।