চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব। শুক্রবার বিকেলে নগরের ডিসি হিল থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন হাজারো পুণ্যার্থী ও ভক্ত। ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির এবং নন্দনকানন ইসকন রাধামাধব মন্দিরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, রথযাত্রা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক। দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে পারে, সেজন্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দিতে সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দুর্গাপূজাসহ দেশের প্রতিটি বড় ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ সমন্বয় টিম গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্টো রথযাত্রার এই বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসকন নন্দনকানন মন্দিরের অধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্পাদক শ্রীপাদ পণ্ডিত গদাধর দাস ব্রহ্মচারী। স্বাগত বক্তব্য দেন ইসকন প্রবর্তক মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ দারুব্রহ্ম জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী এবং পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী। এছাড়া বিশেষ আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের শ্রীধাম মায়াপুরের সিনিয়র ভক্ত শ্রীপাদ কমলাপতি দাস ব্রহ্মচারী ও মায়াপুর একাডেমির সহ-পরিচালক শ্রীপাদ তারক কৃষ্ণনাম দাস ব্রহ্মচারী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত, ইসকন কমিউনিকেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হৃষীকেশ গৌরাঙ্গ দাস, সাবেক কাউন্সিলর এম এ মালেক, মুকুন্দ ভক্তি দাস এবং সুমন চৌধুরীসহ বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অতিথিরা সম্মিলিতভাবে প্রদীপ প্রজ্বলন, আরতি নিবেদন এবং বেলুন ও শান্তির পায়রা উড়িয়ে উল্টো রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
ডিসি হিল থেকে শুরু হওয়া বিশাল এই শোভাযাত্রাটি নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে গিয়ে সমাপ্ত হয়। আয়োজক কমিটির দাবি অনুযায়ী, এবারের উল্টো রথযাত্রায় প্রায় অর্ধলক্ষাধিক ভক্ত অংশ নেন, যা নগরীর জনপদে এক অন্যরকম আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করে। শোভাযাত্রা শেষে প্রায় ৩০ হাজার পুণ্যার্থীর মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যবস্থাপনায় পুরো উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 



















