Hi

০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রেসিডেন্ট মিলেইর

ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার পারদ ফাইনাল ম্যাচের পর কেটে যাওয়ার কথা থাকলেও আর্জেন্টিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে তা ভিন্ন রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি স্পেনের কাছে ফাইনালে শিরোপা হারানোর পর থেকেই দেশটির কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এক বিস্ফোরক দাবি করে আসছেন। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনা জাতীয় দল, সমর্থক গোষ্ঠী এবং মহাতারকা লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে একটি সুসংগঠিত ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা’ চালানো হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল এবং মেক্সিকোর মতো দেশের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

গত সপ্তাহে স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লিবার্টারিয়ান বা মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবক্তা হাভিয়ের মিলেই দাবি করেন, প্রগতিশীল গোষ্ঠী এবং বামপন্থী সরকারগুলো মুক্তচিন্তার এই সাফল্য মেনে নিতে পারেনি। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রশাসন এই कथित প্রচারণায় সবচেয়ে বড় অংকের অর্থায়ন করেছে। এর পাশাপাশি মার্কিন ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং মেক্সিকো সরকারও এই বৈরী কার্যক্রমে যুক্ত ছিল বলে তাঁর দাবি। সম্প্রতি ব্রাজিলে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নিয়ে মিলেই লুলা দা সিলভাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং এই প্রচারণার উৎস হিসেবে ব্রাজিলের ভূমিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তবে প্রেসিডেন্টের এই দাবির পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নানা কেলেঙ্কারির কারণে যখন মিলেইর জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে, ঠিক তখনই জনগণের নজর ভিন্ন দিকে ঘোটাতে এই বহিরাগত শত্রুর বয়ান সামনে আনা হয়েছে। ১৯৭০-এর দশকের সামরিক স্বৈরশাসনের আমলেও রাজনৈতিক সংকট ঢাকতে এমন ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণার’ তত্ত্ব ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ইতিহাসবিদরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন ডিজিটাল গবেষণা ও বিশ্লেষণে মিলেইর এই সুসংগঠিত অর্থায়নের দাবির পক্ষে কোনো শক্ত প্রমাণ মেলেনি। গবেষকরা বলছেন, অনলাইনে যে আলোচনা বা সমালোচনা দেখা গেছে, তা বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ার ফল, কোনো কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত ষড়যন্ত্র নয়। তা সত্ত্বেও, এই বয়ানটি সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে, যা মিelей-এর ‘সাংস্কৃতিক যুদ্ধ’ এবং রাজনৈতিক এজেন্ডাকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে।

জনপ্রিয়

কল্লোল লাহিড়ীর ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ নিয়ে সিলেট বন্ধুসভার মননশীল পাঠচক্র

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রেসিডেন্ট মিলেইর

আপডেট : ০৬:২২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার পারদ ফাইনাল ম্যাচের পর কেটে যাওয়ার কথা থাকলেও আর্জেন্টিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে তা ভিন্ন রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি স্পেনের কাছে ফাইনালে শিরোপা হারানোর পর থেকেই দেশটির কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এক বিস্ফোরক দাবি করে আসছেন। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনা জাতীয় দল, সমর্থক গোষ্ঠী এবং মহাতারকা লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে একটি সুসংগঠিত ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা’ চালানো হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল এবং মেক্সিকোর মতো দেশের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

গত সপ্তাহে স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লিবার্টারিয়ান বা মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবক্তা হাভিয়ের মিলেই দাবি করেন, প্রগতিশীল গোষ্ঠী এবং বামপন্থী সরকারগুলো মুক্তচিন্তার এই সাফল্য মেনে নিতে পারেনি। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রশাসন এই कथित প্রচারণায় সবচেয়ে বড় অংকের অর্থায়ন করেছে। এর পাশাপাশি মার্কিন ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং মেক্সিকো সরকারও এই বৈরী কার্যক্রমে যুক্ত ছিল বলে তাঁর দাবি। সম্প্রতি ব্রাজিলে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নিয়ে মিলেই লুলা দা সিলভাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং এই প্রচারণার উৎস হিসেবে ব্রাজিলের ভূমিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তবে প্রেসিডেন্টের এই দাবির পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নানা কেলেঙ্কারির কারণে যখন মিলেইর জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে, ঠিক তখনই জনগণের নজর ভিন্ন দিকে ঘোটাতে এই বহিরাগত শত্রুর বয়ান সামনে আনা হয়েছে। ১৯৭০-এর দশকের সামরিক স্বৈরশাসনের আমলেও রাজনৈতিক সংকট ঢাকতে এমন ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণার’ তত্ত্ব ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ইতিহাসবিদরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন ডিজিটাল গবেষণা ও বিশ্লেষণে মিলেইর এই সুসংগঠিত অর্থায়নের দাবির পক্ষে কোনো শক্ত প্রমাণ মেলেনি। গবেষকরা বলছেন, অনলাইনে যে আলোচনা বা সমালোচনা দেখা গেছে, তা বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ার ফল, কোনো কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত ষড়যন্ত্র নয়। তা সত্ত্বেও, এই বয়ানটি সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে, যা মিelей-এর ‘সাংস্কৃতিক যুদ্ধ’ এবং রাজনৈতিক এজেন্ডাকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে।