Hi

০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গবেষণা বরাদ্দ ইউজিসির বদলে সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়ার দাবি ছাত্রসংগঠনগুলোর

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিয়ন্ত্রণে না রেখে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে প্রদানের জোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ইউজিসির মাধ্যমে গবেষণার অর্থায়নের যে নতুন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার নামান্তর বলে অভিহিত করেছেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার পৃথক বিবৃতিতে ও সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রনেতারা উল্লেখ করেন, গত অর্থবছরে মাত্র ২১ কোটি টাকার সীমিত বাজেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যে পরিমাণ গবেষণা সম্পন্ন করেছেন, তা তাদের অসামান্য সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। কিন্তু বর্তমানে অনেক শিক্ষকই প্রয়োজনীয় গবেষণার অনুদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের নিজস্ব অর্থায়নে গবেষণার যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গবেষণার বরাদ্দ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে না দিয়ে ইউজিসির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করলে গবেষণার মান আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের মোট বাজেটের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ মৌলিক গবেষণার জন্য বরাদ্দ রাখে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই বরাদ্দ অত্যন্ত নগণ্য। তিনি আরও বলেন, কোন বিষয়ে গবেষণা হবে এবং কোন খাতে কত ব্যয় হবে, তা নির্ধারণের পূর্ণ অধিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের থাকা উচিত। ইউজিসির মাধ্যমে এই অর্থায়ন স্বাধীন গবেষণার পথে একটি বড় বাধা এবং স্বায়ত্তশাসনের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।

উল্লেখ্য যে, গত ৩০ জুন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট সভায় এবারের বাজেট পেশ করা হয়। ওই সভায় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শারমীনা নাসরীন জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার সব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বরাদ্দ ইউজিসির অধীনে রাখা হয়েছে। তবে ছাত্রনেতাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত গবেষণার আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণকে ত্বরান্বিত করবে, যা আধুনিক উচ্চশিক্ষার প্রসারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা অনতিবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে গবেষণার বরাদ্দ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

সিলেটের সাদাপাথরে পর্যটক নিখোঁজ: গোসলে নেমে তলিয়ে গেলেন চিকিৎসক

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গবেষণা বরাদ্দ ইউজিসির বদলে সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়ার দাবি ছাত্রসংগঠনগুলোর

আপডেট : ০২:৪৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিয়ন্ত্রণে না রেখে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে প্রদানের জোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ইউজিসির মাধ্যমে গবেষণার অর্থায়নের যে নতুন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার নামান্তর বলে অভিহিত করেছেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার পৃথক বিবৃতিতে ও সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রনেতারা উল্লেখ করেন, গত অর্থবছরে মাত্র ২১ কোটি টাকার সীমিত বাজেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যে পরিমাণ গবেষণা সম্পন্ন করেছেন, তা তাদের অসামান্য সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। কিন্তু বর্তমানে অনেক শিক্ষকই প্রয়োজনীয় গবেষণার অনুদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের নিজস্ব অর্থায়নে গবেষণার যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গবেষণার বরাদ্দ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে না দিয়ে ইউজিসির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করলে গবেষণার মান আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের মোট বাজেটের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ মৌলিক গবেষণার জন্য বরাদ্দ রাখে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই বরাদ্দ অত্যন্ত নগণ্য। তিনি আরও বলেন, কোন বিষয়ে গবেষণা হবে এবং কোন খাতে কত ব্যয় হবে, তা নির্ধারণের পূর্ণ অধিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের থাকা উচিত। ইউজিসির মাধ্যমে এই অর্থায়ন স্বাধীন গবেষণার পথে একটি বড় বাধা এবং স্বায়ত্তশাসনের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।

উল্লেখ্য যে, গত ৩০ জুন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট সভায় এবারের বাজেট পেশ করা হয়। ওই সভায় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শারমীনা নাসরীন জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার সব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বরাদ্দ ইউজিসির অধীনে রাখা হয়েছে। তবে ছাত্রনেতাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত গবেষণার আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণকে ত্বরান্বিত করবে, যা আধুনিক উচ্চশিক্ষার প্রসারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা অনতিবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে গবেষণার বরাদ্দ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন।