Hi

০৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে মার্কিন হামলার ভিডিওতে ‘ফায়ারওয়ার্ক’ ব্যবহার, হোয়াইট হাউসের ওপর চরম ক্ষুব্ধ কেটি পেরি

ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রচারণা ও ভিডিওচিত্রে অনুমতি ছাড়া জনপ্রিয় গান ব্যবহারের অভিযোগে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা পপ তারকা কেটি পেরি। হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাঁর বিখ্যাত গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’ জুড়ে দেওয়ায় চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই সঙ্গীতশিল্পী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই ধরনের ব্যবহারের জন্য তাঁর কাছ থেকে কোনো প্রকার পূর্ব অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং যুদ্ধ কিংবা সামরিক হামলার মতো সহিংস ঘটনা প্রচারের উদ্দেশ্যে তাঁর গান তুলে ধরার বিষয়টিকে তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করেন না।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসের টিকটক পাতায় একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, ইরানের কৌশলগত ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালাচ্ছে। ভিডিওটির পটভূমিতে বাজছিল ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া কেটি পেরির সর্বকালের অন্যতম সেরা হিট গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’। বিশেষ করে গানের ‘বুম, বুম, বুম’ অংশটি বোমার ভয়াবহ বিস্ফোরণের দৃশ্যের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে নিখুঁতভাবে সম্পাদনা করা হয়। ভিডিওর ক্যাপশনে তেহরানের উদ্দেশে দেওয়া হয়েছিল কড়া হুঁশিয়ারি—’ইরানকে সতর্ক করা হয়েছে’।

এই স্পর্শকাতর ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে প্রবল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। নিজের সৃষ্টিকে এভাবে যুদ্ধের বিজ্ঞাপনে রূপান্তর করতে দেখে স্তব্ধ হয়ে যান কেটি পেরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া দীর্ঘ এক বিবৃতিতে পপ তারকা বলেন, হোয়াইট হাউসের টিকটক ভিডিওটি দেখে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষের মনে আশা, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তির সঞ্চার ঘটাতেই তিনি ‘ফায়ারওয়ার্ক’ গানটি রচনা করেছিলেন। ধ্বংসলীলা এবং সামরিক শক্তির কুচকাওয়াজে সেই গানকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করা তাঁর শিল্পকর্মের মূল চেতনার চরম লঙ্ঘন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁর সঙ্গীত তৈরি হয়েছে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য, কোনো ধরনের হিংস্রতা কিংবা যুদ্ধ উদযাপনের জন্য নয়।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। একদিকে মার্কিন প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, নৌ এবং পারমাণবিক গবেষণা সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থানে একের পর এক মার্কিন বিমান ও মিসাইল হামলা চালানো হচ্ছে। সামরিক অভিযানের সেই চিত্রকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করার জন্য এমন জনপ্রিয় গান ব্যবহারের ঘটনা হোয়াইট হাউসের ওপর তীব্র সমালোচনার ঝোড় বয়ে এনেছে।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে বা সরকারি ভিডিওতে শিল্পীদের না জানিয়ে গান ব্যবহারের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় তারকা শিল্পীরা নিজেদের গান রাজনীতি ও যুদ্ধের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। গত জুনে জনপ্রিয় গায়িকা আরিয়ানা গ্রান্দে মার্কিন অভিবাসন অভিযান সংক্রান্ত হোয়াইট হাউসের একটি ভিডিওতে তাঁর ‘বাই’ গানটি ব্যবহারের জন্য তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া অলিভিয়া রদ্রিগো, সাবরিনা কার্পেন্টার, সেলিন ডিওন, নিল ইয়ং এবং কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘দ্য রোলিং স্টোনস’-এর মতো বিখ্যাত শিল্পীরা বিভিন্ন সময় মার্কিন রাজনৈতিক প্রচারণা বা সরকারি ভিডিওতে অনুমতি ছাড়া তাঁদের গান বাজানোর বিরুদ্ধে আইনি হুমকি ও প্রকাশ্য আপত্তি প্রকাশ করেছেন।

কেটি পেরির এমন অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র Reactions তৈরি করেছে। পপ তারকার নীতিগত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন কোটি কোটি অনুরাগী ও শান্তিপ্রিয় নাগরিক। তবে অনেক আইনি ও সঙ্গীত বিশ্লেষক মনে করিয়ে দিয়েছেন গানটির স্বত্বাধিকারের জটিলতার কথা। তারা উল্লেখ করেন, কেটি পেরি আগেই নিজের সঙ্গীতের একটি বড় অংশের স্বত্ব বা ক্যাটালগ রাইটস ‘লিটমাস মিউজিক’-এর কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। তা ছাড়া টিকটকের সঙ্গে ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপের বৈশ্বিক লাইসেন্স চুক্তি থাকার কারণে হোয়াইট হাউস কৌশলগতভাবে এই গানটি ব্যবহার করতে পেরেছে। তবে এসব বিতর্কের মাঝেই কেটি পেরি তাঁর আসন্ন কনসার্টভিত্তিক সিনেমা ‘দ্য লাইফটাইমস ট্যুর ফ্রম প্যারিস’ মুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়েছেন, যা খুব শিগগিরই প্রেক্ষাগৃহে আসছে।

জনপ্রিয়

মানসিক চাপ সামলাতে ‘অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি’ গয়নায় ঝুঁকছে জেন-জি: ফ্যাশন নাকি মানসিক স্বস্তি?

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইরানে মার্কিন হামলার ভিডিওতে ‘ফায়ারওয়ার্ক’ ব্যবহার, হোয়াইট হাউসের ওপর চরম ক্ষুব্ধ কেটি পেরি

আপডেট : ০৩:২৩:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রচারণা ও ভিডিওচিত্রে অনুমতি ছাড়া জনপ্রিয় গান ব্যবহারের অভিযোগে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা পপ তারকা কেটি পেরি। হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাঁর বিখ্যাত গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’ জুড়ে দেওয়ায় চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই সঙ্গীতশিল্পী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই ধরনের ব্যবহারের জন্য তাঁর কাছ থেকে কোনো প্রকার পূর্ব অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং যুদ্ধ কিংবা সামরিক হামলার মতো সহিংস ঘটনা প্রচারের উদ্দেশ্যে তাঁর গান তুলে ধরার বিষয়টিকে তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করেন না।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসের টিকটক পাতায় একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, ইরানের কৌশলগত ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালাচ্ছে। ভিডিওটির পটভূমিতে বাজছিল ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া কেটি পেরির সর্বকালের অন্যতম সেরা হিট গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’। বিশেষ করে গানের ‘বুম, বুম, বুম’ অংশটি বোমার ভয়াবহ বিস্ফোরণের দৃশ্যের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে নিখুঁতভাবে সম্পাদনা করা হয়। ভিডিওর ক্যাপশনে তেহরানের উদ্দেশে দেওয়া হয়েছিল কড়া হুঁশিয়ারি—’ইরানকে সতর্ক করা হয়েছে’।

এই স্পর্শকাতর ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে প্রবল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। নিজের সৃষ্টিকে এভাবে যুদ্ধের বিজ্ঞাপনে রূপান্তর করতে দেখে স্তব্ধ হয়ে যান কেটি পেরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া দীর্ঘ এক বিবৃতিতে পপ তারকা বলেন, হোয়াইট হাউসের টিকটক ভিডিওটি দেখে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষের মনে আশা, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তির সঞ্চার ঘটাতেই তিনি ‘ফায়ারওয়ার্ক’ গানটি রচনা করেছিলেন। ধ্বংসলীলা এবং সামরিক শক্তির কুচকাওয়াজে সেই গানকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করা তাঁর শিল্পকর্মের মূল চেতনার চরম লঙ্ঘন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁর সঙ্গীত তৈরি হয়েছে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য, কোনো ধরনের হিংস্রতা কিংবা যুদ্ধ উদযাপনের জন্য নয়।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। একদিকে মার্কিন প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, নৌ এবং পারমাণবিক গবেষণা সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থানে একের পর এক মার্কিন বিমান ও মিসাইল হামলা চালানো হচ্ছে। সামরিক অভিযানের সেই চিত্রকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করার জন্য এমন জনপ্রিয় গান ব্যবহারের ঘটনা হোয়াইট হাউসের ওপর তীব্র সমালোচনার ঝোড় বয়ে এনেছে।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে বা সরকারি ভিডিওতে শিল্পীদের না জানিয়ে গান ব্যবহারের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় তারকা শিল্পীরা নিজেদের গান রাজনীতি ও যুদ্ধের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। গত জুনে জনপ্রিয় গায়িকা আরিয়ানা গ্রান্দে মার্কিন অভিবাসন অভিযান সংক্রান্ত হোয়াইট হাউসের একটি ভিডিওতে তাঁর ‘বাই’ গানটি ব্যবহারের জন্য তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া অলিভিয়া রদ্রিগো, সাবরিনা কার্পেন্টার, সেলিন ডিওন, নিল ইয়ং এবং কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘দ্য রোলিং স্টোনস’-এর মতো বিখ্যাত শিল্পীরা বিভিন্ন সময় মার্কিন রাজনৈতিক প্রচারণা বা সরকারি ভিডিওতে অনুমতি ছাড়া তাঁদের গান বাজানোর বিরুদ্ধে আইনি হুমকি ও প্রকাশ্য আপত্তি প্রকাশ করেছেন।

কেটি পেরির এমন অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র Reactions তৈরি করেছে। পপ তারকার নীতিগত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন কোটি কোটি অনুরাগী ও শান্তিপ্রিয় নাগরিক। তবে অনেক আইনি ও সঙ্গীত বিশ্লেষক মনে করিয়ে দিয়েছেন গানটির স্বত্বাধিকারের জটিলতার কথা। তারা উল্লেখ করেন, কেটি পেরি আগেই নিজের সঙ্গীতের একটি বড় অংশের স্বত্ব বা ক্যাটালগ রাইটস ‘লিটমাস মিউজিক’-এর কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। তা ছাড়া টিকটকের সঙ্গে ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপের বৈশ্বিক লাইসেন্স চুক্তি থাকার কারণে হোয়াইট হাউস কৌশলগতভাবে এই গানটি ব্যবহার করতে পেরেছে। তবে এসব বিতর্কের মাঝেই কেটি পেরি তাঁর আসন্ন কনসার্টভিত্তিক সিনেমা ‘দ্য লাইফটাইমস ট্যুর ফ্রম প্যারিস’ মুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়েছেন, যা খুব শিগগিরই প্রেক্ষাগৃহে আসছে।