Hi

০৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েল ও পরাশক্তিগুলোর বিরোধিতাকে পাশ কাটিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হলেন ফলকার টুর্ক

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার জোরালো কূটনৈতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে আরও চার বছরের জন্য পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ফলকার টুর্ক। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিপুল ব্যবধানে এই প্রস্তাব পাস হয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার কাজের প্রতি বিশ্ববাসীর আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি সৃষ্টির পর থেকে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি টানা দ্বিতীয় মেয়াদে মানবাধিকার প্রধানের দায়িত্ব পালনের বিরল রেকর্ড গড়লেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি এই পদে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

গত শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির পক্ষে ১৪৪টি ভোট এবং বিপক্ষে মাত্র ১০টি ভোট পড়ে। অস্ট্রিয়ার প্রখ্যাত আইনজীবী ফলকার টুর্ক ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থায় (ইউএনএইচসিআর) যোগদানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি মালয়েশিয়া, কসোভো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংঘাতপীড়িত অঞ্চলে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা তাকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করতে সাহায্য করেছে।

প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে ফলকার টুর্ক বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও শক্তির চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে মানবাধিকার সুরক্ষায় আপসহীন অবস্থান নেন। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র সমালোচনা এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তার শক্ত অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এছাড়া আফগানিস্তান, সুদান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং নিকারাগুয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান রাজনৈতিক সংঘাত, দমনপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোতে তিনি নিয়মিত সরব ছিলেন। তার এই নিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকা পরাশক্তিগুলোর অস্বস্তির কারণ হলেও সাধারণ মানুষের কাছে তাকে এক বিশ্বস্ত কণ্ঠস্বরে পরিণত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূরাজনীতিতে যখন বিভিন্ন রাষ্ট্র মানবাধিকারের চেয়ে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ফলকার টুর্কের পুনর্নির্বাচন জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামোর নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো প্রভাবশালী দেশের প্রকাশ্য আপত্তি সত্ত্বেও সাধারণ পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর একটি বড় অংশ তার পক্ষে ভোট দেওয়ায় এটি প্রমাণিত হয় যে, বৈশ্বিক মানবাধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের নৈতিক সমর্থন এখনো অটুট রয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে তার সামনে গাজা, ইউক্রেনসহ বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতগুলোতে মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মতো বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

জনপ্রিয়

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে এআই-নির্ভর অপপ্রচারের তথ্যে দুদকের অভিযোগের মিল

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইসরায়েল ও পরাশক্তিগুলোর বিরোধিতাকে পাশ কাটিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হলেন ফলকার টুর্ক

আপডেট : ০৩:২২:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার জোরালো কূটনৈতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে আরও চার বছরের জন্য পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ফলকার টুর্ক। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিপুল ব্যবধানে এই প্রস্তাব পাস হয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার কাজের প্রতি বিশ্ববাসীর আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি সৃষ্টির পর থেকে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি টানা দ্বিতীয় মেয়াদে মানবাধিকার প্রধানের দায়িত্ব পালনের বিরল রেকর্ড গড়লেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি এই পদে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

গত শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির পক্ষে ১৪৪টি ভোট এবং বিপক্ষে মাত্র ১০টি ভোট পড়ে। অস্ট্রিয়ার প্রখ্যাত আইনজীবী ফলকার টুর্ক ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থায় (ইউএনএইচসিআর) যোগদানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি মালয়েশিয়া, কসোভো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংঘাতপীড়িত অঞ্চলে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা তাকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করতে সাহায্য করেছে।

প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে ফলকার টুর্ক বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও শক্তির চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে মানবাধিকার সুরক্ষায় আপসহীন অবস্থান নেন। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র সমালোচনা এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তার শক্ত অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এছাড়া আফগানিস্তান, সুদান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং নিকারাগুয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান রাজনৈতিক সংঘাত, দমনপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোতে তিনি নিয়মিত সরব ছিলেন। তার এই নিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকা পরাশক্তিগুলোর অস্বস্তির কারণ হলেও সাধারণ মানুষের কাছে তাকে এক বিশ্বস্ত কণ্ঠস্বরে পরিণত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূরাজনীতিতে যখন বিভিন্ন রাষ্ট্র মানবাধিকারের চেয়ে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ফলকার টুর্কের পুনর্নির্বাচন জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামোর নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো প্রভাবশালী দেশের প্রকাশ্য আপত্তি সত্ত্বেও সাধারণ পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর একটি বড় অংশ তার পক্ষে ভোট দেওয়ায় এটি প্রমাণিত হয় যে, বৈশ্বিক মানবাধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের নৈতিক সমর্থন এখনো অটুট রয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে তার সামনে গাজা, ইউক্রেনসহ বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতগুলোতে মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মতো বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।