Hi

০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হ্যারি কেইনের বীরত্বে নাটকীয় জয় ইংল্যান্ডের: কঙ্গোকে হারিয়ে শেষ আটের পথে থ্রি লায়নরা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১২:৪৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৪ জন দেখেছে

আটলান্টা স্টেডিয়ামে যেন এক মহাকাব্য রচিত হলো। হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। এই জয় কেবল মাঠের লড়াইয়ে সাফল্য নয়, বরং টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে ইংলিশদের জন্য এক বিশাল স্বস্তি। ম্যাচের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। সপ্তম মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলে ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে পিছিয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে কঙ্গো যখন লিড নেয়, তখন ডাগআউটে টমাস টুখেলের কপালে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। প্রথমার্ধে জুড বেলিংহাম ও মার্কাস রাশফোর্ডরা চেষ্টা করেও কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির বাধা টপকাতে পারেননি।

বিরতির পর ম্যাচের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। টমাস টুখেলের কৌশলী পরিবর্তনের সুবাদে ৬১ মিনিটে মাঠে নামেন অ্যান্থনি গর্ডন, যিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ৭৫ মিনিটে ডেকলান রাইসের ক্রস থেকে গর্ডনের নিখুঁত ডেলিভারিতে দুর্দান্ত হেডে গোল করে সমতা ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এই গোলটি যেন ইংলিশ শিবিরে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। এরপর শুরু হয় আসল লড়াই। ৮৬ মিনিটে বেলিংহামের দুর্দান্ত দৌড় এবং গর্ডনের লড়াইয়ের পর বল পেয়ে যান কেইন। বক্সে নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ডান পায়ের এক বুলেট গতির শটে বল জালে জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।

এই জয়ে ইংল্যান্ড কেবল পরবর্তী রাউন্ডের পথই সুগম করেনি, বরং দলের ভেঙে পড়া আত্মবিশ্বাসকেও ফিরিয়ে এনেছে। কেইনের এই পারফরম্যান্স তাকে বিশ্বকাপে গোলদাতার তালিকায় আরও উঁচুতে নিয়ে গেল। টুর্নামেন্টে নিজের পঞ্চম এবং সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ১৩তম গোল করে তিনি প্রমাণ করলেন কেন তাকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার বলা হয়। ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে সমর্থকদের সঙ্গে খেলোয়াড়দের উদযাপনে ছিল বহু প্রতীক্ষিত জয়ের আনন্দ, যা ইংলিশ ফুটবলের জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয়

২০২৬ বিশ্বকাপ: স্টেডিয়ামের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্নাইপাররা আসলে কী করেন?

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

হ্যারি কেইনের বীরত্বে নাটকীয় জয় ইংল্যান্ডের: কঙ্গোকে হারিয়ে শেষ আটের পথে থ্রি লায়নরা

আপডেট : ১২:৪৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

আটলান্টা স্টেডিয়ামে যেন এক মহাকাব্য রচিত হলো। হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। এই জয় কেবল মাঠের লড়াইয়ে সাফল্য নয়, বরং টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে ইংলিশদের জন্য এক বিশাল স্বস্তি। ম্যাচের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। সপ্তম মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলে ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে পিছিয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে কঙ্গো যখন লিড নেয়, তখন ডাগআউটে টমাস টুখেলের কপালে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। প্রথমার্ধে জুড বেলিংহাম ও মার্কাস রাশফোর্ডরা চেষ্টা করেও কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির বাধা টপকাতে পারেননি।

বিরতির পর ম্যাচের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। টমাস টুখেলের কৌশলী পরিবর্তনের সুবাদে ৬১ মিনিটে মাঠে নামেন অ্যান্থনি গর্ডন, যিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ৭৫ মিনিটে ডেকলান রাইসের ক্রস থেকে গর্ডনের নিখুঁত ডেলিভারিতে দুর্দান্ত হেডে গোল করে সমতা ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এই গোলটি যেন ইংলিশ শিবিরে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। এরপর শুরু হয় আসল লড়াই। ৮৬ মিনিটে বেলিংহামের দুর্দান্ত দৌড় এবং গর্ডনের লড়াইয়ের পর বল পেয়ে যান কেইন। বক্সে নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ডান পায়ের এক বুলেট গতির শটে বল জালে জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।

এই জয়ে ইংল্যান্ড কেবল পরবর্তী রাউন্ডের পথই সুগম করেনি, বরং দলের ভেঙে পড়া আত্মবিশ্বাসকেও ফিরিয়ে এনেছে। কেইনের এই পারফরম্যান্স তাকে বিশ্বকাপে গোলদাতার তালিকায় আরও উঁচুতে নিয়ে গেল। টুর্নামেন্টে নিজের পঞ্চম এবং সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ১৩তম গোল করে তিনি প্রমাণ করলেন কেন তাকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার বলা হয়। ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে সমর্থকদের সঙ্গে খেলোয়াড়দের উদযাপনে ছিল বহু প্রতীক্ষিত জয়ের আনন্দ, যা ইংলিশ ফুটবলের জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।