Hi

১১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি জাতীয় নাগরিক পার্টির

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সম্প্রতি ইস্তফা দেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তারের জোরালো দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অন্যতম সহযোগী ছিলেন এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডের নীরব সমর্থন যুগিয়েছিলেন।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলটির পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এ সময় তিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করতে এবং দেশে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার যেকোনো ধরনের পুনরুত্থান রোধ করতে মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আখতার হোসেন তার বক্তব্যে দাবি করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি অসুস্থতার কথা বলে পদত্যাগ করলেও তাঁর পদত্যাগপত্রে কিছু মনগড়া ও অপ্রাসঙ্গিক ঐতিহাসিক বয়ান যুক্ত করা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজেকে নিরাপদ রাখা বা ‘সেফ এক্সিট’ নিশ্চিত করা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে ঘটে যাওয়া গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের পেছনে ফ্যাসিবাদের বৈধতা প্রদানকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

প্রধান বিরোধী দল বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, মো. সাহাবুদ্দিনের সাংবিধানিক পদে থাকার নৈতিক ও আইনি যোগ্যতা নেই—এ বিষয়টি অনেক আগেই বিএনপিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সময়ে বিএনপি তাঁকে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ না করে উল্টো বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত রেখে তাঁর অবস্থানকে সুসংহত করতে সহায়তা করেছিল। এখন যদি বিএনপি জুলাই অভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা ধারণ করে থাকে, তবে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের এগিয়ে আসা উচিত।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, বিএনপি আগামীতে একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী সুবিধা পেতে তাদের পছন্দমতো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতির আসনে বসাতে চায়। এর অংশ হিসেবেই সরকার গঠনের বেশ কিছুদিন পর রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতেও সুবিধাজনক ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপ্রধান বানিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার এমন অনেক নজির রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ক্ষমতার সমীকরণ সেই পুরোনো কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি মাত্র বলে মনে করে এনসিপি।

উল্লেখ্য, সাংবিধানিক পদাধিকার বলে এত দিন মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ ছিল না। তবে পদত্যাগের পর তাঁর সেই আইনি সুরক্ষা আর বহাল নেই বিধায় তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জোরালো হচ্ছে। আজকের এই সংবাদ ব্রিফিংয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ এবং নেত্রী মনিরা শারমিনসহ দলের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই দাবির পর নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

জনপ্রিয়

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের নির্ভীক কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করার তাগিদ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি জাতীয় নাগরিক পার্টির

আপডেট : ০৯:৪১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সম্প্রতি ইস্তফা দেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তারের জোরালো দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অন্যতম সহযোগী ছিলেন এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডের নীরব সমর্থন যুগিয়েছিলেন।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলটির পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এ সময় তিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করতে এবং দেশে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার যেকোনো ধরনের পুনরুত্থান রোধ করতে মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আখতার হোসেন তার বক্তব্যে দাবি করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি অসুস্থতার কথা বলে পদত্যাগ করলেও তাঁর পদত্যাগপত্রে কিছু মনগড়া ও অপ্রাসঙ্গিক ঐতিহাসিক বয়ান যুক্ত করা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজেকে নিরাপদ রাখা বা ‘সেফ এক্সিট’ নিশ্চিত করা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে ঘটে যাওয়া গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের পেছনে ফ্যাসিবাদের বৈধতা প্রদানকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

প্রধান বিরোধী দল বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, মো. সাহাবুদ্দিনের সাংবিধানিক পদে থাকার নৈতিক ও আইনি যোগ্যতা নেই—এ বিষয়টি অনেক আগেই বিএনপিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সময়ে বিএনপি তাঁকে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ না করে উল্টো বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত রেখে তাঁর অবস্থানকে সুসংহত করতে সহায়তা করেছিল। এখন যদি বিএনপি জুলাই অভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা ধারণ করে থাকে, তবে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের এগিয়ে আসা উচিত।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, বিএনপি আগামীতে একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী সুবিধা পেতে তাদের পছন্দমতো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতির আসনে বসাতে চায়। এর অংশ হিসেবেই সরকার গঠনের বেশ কিছুদিন পর রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতেও সুবিধাজনক ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপ্রধান বানিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার এমন অনেক নজির রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ক্ষমতার সমীকরণ সেই পুরোনো কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি মাত্র বলে মনে করে এনসিপি।

উল্লেখ্য, সাংবিধানিক পদাধিকার বলে এত দিন মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ ছিল না। তবে পদত্যাগের পর তাঁর সেই আইনি সুরক্ষা আর বহাল নেই বিধায় তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জোরালো হচ্ছে। আজকের এই সংবাদ ব্রিফিংয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ এবং নেত্রী মনিরা শারমিনসহ দলের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই দাবির পর নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।