Hi

০৪:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ল শত শত ইয়াবা বড়ি, চাঞ্চল্য

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর রহস্যজনকভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বড়ি। ব্যস্ততম এই মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে শত শত ইয়াবা পড়ে থাকার দৃশ্য স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। চলন্ত গাড়ি ও যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে অধিকাংশ ইয়াবা বড়ি গুঁড়ো হয়ে যাওয়ায় সড়কের ওই অংশের পিচ রঙের ওপর হলুদাভ আস্তরণ পড়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের তৎপরতায় কিছু ইয়াবা উদ্ধার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের নুনাছড়া বটতলা এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামমুখী লেনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট লালচে বা গোলাপি রঙের বড়িগুলো最初は সাধারণ পথচারীদের নজরে আসে। সাধারণ মাদক পাচারের রুট সাধারণত ঢাকা বা অন্যান্য অঞ্চলের দিকে হলেও, এ ধরনের ঘটনা সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী লেনে ঘটার ফলে জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। নুনাছড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ সালাউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, মহাসড়কে যানবাহনের নিচে ইয়াবা পিষ্ট হওয়ার দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় এবং পরে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবার ওজন আনুমানিক ২২০ গ্রামের মতো। যার বড় একটি অংশই ভাঙাচোরা এবং গুঁড়ো অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, সেখানে প্রায় তিন হাজার পিস ইয়াবা বড়ি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কে বা কারা, কোন উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য দেশের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ত এই মহাসড়কে ফেলে গেল, তা নিয়ে গভীর রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া তল্লাশি বা চেকপোস্টের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় কোনো মাদক কারবারি দল তাড়াহুড়ো করে বা ভয় পেয়ে এই মাদকগুলো রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যেতে পারে। বিকল্প আরেকটি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে পুলিশ বলছে, চলন্ত কোনো পণ্যবাহী বা যাত্রীবাহী যানবাহন থেকে কোনো গোপন চালান অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। মহাসড়কের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও পাহারাধীন এলাকায় এ ধরনের মাদকের চালান ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা দেশের সার্বিক মাদক পাচার নেটওয়ার্ক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি এক নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের গ্রেফতারে যৌথভাবে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

জনপ্রিয়

খাবারের সঠিক সময় ও হজম প্রক্রিয়া: কোন খাবার হজম হতে কতক্ষণ সময় লাগে?

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ল শত শত ইয়াবা বড়ি, চাঞ্চল্য

আপডেট : ০৯:১২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর রহস্যজনকভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বড়ি। ব্যস্ততম এই মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে শত শত ইয়াবা পড়ে থাকার দৃশ্য স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। চলন্ত গাড়ি ও যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে অধিকাংশ ইয়াবা বড়ি গুঁড়ো হয়ে যাওয়ায় সড়কের ওই অংশের পিচ রঙের ওপর হলুদাভ আস্তরণ পড়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের তৎপরতায় কিছু ইয়াবা উদ্ধার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের নুনাছড়া বটতলা এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামমুখী লেনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট লালচে বা গোলাপি রঙের বড়িগুলো最初は সাধারণ পথচারীদের নজরে আসে। সাধারণ মাদক পাচারের রুট সাধারণত ঢাকা বা অন্যান্য অঞ্চলের দিকে হলেও, এ ধরনের ঘটনা সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী লেনে ঘটার ফলে জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। নুনাছড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ সালাউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, মহাসড়কে যানবাহনের নিচে ইয়াবা পিষ্ট হওয়ার দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় এবং পরে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবার ওজন আনুমানিক ২২০ গ্রামের মতো। যার বড় একটি অংশই ভাঙাচোরা এবং গুঁড়ো অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, সেখানে প্রায় তিন হাজার পিস ইয়াবা বড়ি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কে বা কারা, কোন উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য দেশের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ত এই মহাসড়কে ফেলে গেল, তা নিয়ে গভীর রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া তল্লাশি বা চেকপোস্টের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় কোনো মাদক কারবারি দল তাড়াহুড়ো করে বা ভয় পেয়ে এই মাদকগুলো রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যেতে পারে। বিকল্প আরেকটি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে পুলিশ বলছে, চলন্ত কোনো পণ্যবাহী বা যাত্রীবাহী যানবাহন থেকে কোনো গোপন চালান অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। মহাসড়কের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও পাহারাধীন এলাকায় এ ধরনের মাদকের চালান ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা দেশের সার্বিক মাদক পাচার নেটওয়ার্ক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি এক নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের গ্রেফতারে যৌথভাবে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।