Hi

০৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার বার্তা জামায়াত আমিরের, আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও নেতাদের কঠোর নৈতিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অনিয়ম থেকে দূরে থাকার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইডিইবি) মিলনায়তনে ঢাকা জেলা জামায়াত আয়োজিত এক রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সাদা কাপড়ে ছোট দাগও যেমন স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তেমনি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে নিজেদের পরিষ্কার ভাবমূর্তি ধরে রাখতে চরম সতর্ক থাকতে হবে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, জামায়াতে ইসলামীর নীতিতে কোনো ধরনের অপরাধ বা অসদুপায় অবলম্বনের জায়গা নেই। দলের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যায় প্রমাণিত হলে ক্ষমা না করে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত প্রধান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি মন্তব্য করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত অন্যান্য সরকারি দফতর বা উচ্চপর্যায়ের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে নিজের ওপর অর্পিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে শতভাগ মনোনিবেশ করা। নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ দূরীকরণে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে যার নির্দিষ্ট দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে দেশে শান্তি ফিরে আসবে।

অর্থনৈতিক নৈরাজ্য, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। রাজনৈতিক অঙ্গনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো সময় চাঁদাবাজি ও অবৈধ অর্থ লেনদেন বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের অনিচ্ছার কারণেই অর্থনৈতিক খাতে এ ধরনের শৃঙ্খলাহীনতা বিরাজ করছে। জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির শিকড় উপড়ে ফেলার জোর দাবি জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও জামায়াত কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে নাক গলানো সমর্থন করে না। একইভাবে, বিদেশি কোনো শক্তিরও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও রাজনীতিতে অহেতুক হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রতিবেশী দেশকে সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে তার প্রভাব পুরো অঞ্চলেই বিস্তৃত হবে।

অতীত ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেন কর্মকর্তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন প্রশাসন ভুয়া বিচারের নাটকের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য ধামাচাপা দিয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত বর্তমান কমিশনের মাধ্যমে ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রভাবশালী চক্রান্তকারীদের মুখ উন্মোচিত হচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, সংবিধান নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, গণভোট কিংবা গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে অহেতুক অজুহাত তৈরি করলে গোটা রাষ্ট্রকাঠামোর ধারাবাহিকতাই প্রশ্নের মুখে পড়বে। জনগণ কোনো রাজনৈতিক চালচালের সংশোধন নয়, বরং প্রকৃত সংস্কারের পক্ষেই রায় দিয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের সঠিক হিসাব নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুনর্বাসনে অন্তর্বর্তী সরকারের তৎপরতার সমালোচনা করেন জামায়াত প্রধান। তিনি জানান, জামায়াত নিজ উদ্যোগে ইতোমধ্যে শহীদদের জীবনবৃত্তান্ত সম্বলিত ১২টি খণ্ড প্রস্তুত করেছে এবং পরবর্তী খণ্ডের কাজ এগিয়ে চলেছে। সরকারি উদ্যোগে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, থাইল্যান্ডসহ বিদেশে চিকিৎসাধীন বিপ্লবীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং বাজেটে যথাযথ অর্থ বরাদ্দের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি। সম্মেলনে ঢাকা জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

কমলগঞ্জে ফলন্ত কমলাবাগান ধ্বংসের ঘটনা: সরেজমিন তদন্ত করল উচ্চপর্যায়ের কমিটি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার বার্তা জামায়াত আমিরের, আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা

আপডেট : ০৫:৪৩:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও নেতাদের কঠোর নৈতিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অনিয়ম থেকে দূরে থাকার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইডিইবি) মিলনায়তনে ঢাকা জেলা জামায়াত আয়োজিত এক রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সাদা কাপড়ে ছোট দাগও যেমন স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তেমনি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে নিজেদের পরিষ্কার ভাবমূর্তি ধরে রাখতে চরম সতর্ক থাকতে হবে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, জামায়াতে ইসলামীর নীতিতে কোনো ধরনের অপরাধ বা অসদুপায় অবলম্বনের জায়গা নেই। দলের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যায় প্রমাণিত হলে ক্ষমা না করে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত প্রধান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি মন্তব্য করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত অন্যান্য সরকারি দফতর বা উচ্চপর্যায়ের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে নিজের ওপর অর্পিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে শতভাগ মনোনিবেশ করা। নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ দূরীকরণে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে যার নির্দিষ্ট দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে দেশে শান্তি ফিরে আসবে।

অর্থনৈতিক নৈরাজ্য, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। রাজনৈতিক অঙ্গনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো সময় চাঁদাবাজি ও অবৈধ অর্থ লেনদেন বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের অনিচ্ছার কারণেই অর্থনৈতিক খাতে এ ধরনের শৃঙ্খলাহীনতা বিরাজ করছে। জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির শিকড় উপড়ে ফেলার জোর দাবি জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও জামায়াত কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে নাক গলানো সমর্থন করে না। একইভাবে, বিদেশি কোনো শক্তিরও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও রাজনীতিতে অহেতুক হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রতিবেশী দেশকে সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে তার প্রভাব পুরো অঞ্চলেই বিস্তৃত হবে।

অতীত ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেন কর্মকর্তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন প্রশাসন ভুয়া বিচারের নাটকের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য ধামাচাপা দিয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত বর্তমান কমিশনের মাধ্যমে ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রভাবশালী চক্রান্তকারীদের মুখ উন্মোচিত হচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, সংবিধান নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, গণভোট কিংবা গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে অহেতুক অজুহাত তৈরি করলে গোটা রাষ্ট্রকাঠামোর ধারাবাহিকতাই প্রশ্নের মুখে পড়বে। জনগণ কোনো রাজনৈতিক চালচালের সংশোধন নয়, বরং প্রকৃত সংস্কারের পক্ষেই রায় দিয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের সঠিক হিসাব নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুনর্বাসনে অন্তর্বর্তী সরকারের তৎপরতার সমালোচনা করেন জামায়াত প্রধান। তিনি জানান, জামায়াত নিজ উদ্যোগে ইতোমধ্যে শহীদদের জীবনবৃত্তান্ত সম্বলিত ১২টি খণ্ড প্রস্তুত করেছে এবং পরবর্তী খণ্ডের কাজ এগিয়ে চলেছে। সরকারি উদ্যোগে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, থাইল্যান্ডসহ বিদেশে চিকিৎসাধীন বিপ্লবীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং বাজেটে যথাযথ অর্থ বরাদ্দের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি। সম্মেলনে ঢাকা জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।