Hi

০৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জয়পুরহাটে চিরকুটে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তিন পুকুরে বিষ প্রয়োগ, মাছ নিধন

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক মৎস্যচাষির তিনটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ নিধন করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে ওই পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে চিরকুট ফেলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। শুক্রবার দুপুরে আক্কেলপুর থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের হরিসারা চাপাগাছি গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মৎস্যচাষি কামরুজ্জামান বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে ৬০ হাজার টাকায় তিনটি পুকুর বর্গা নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। তার ভাই নুরুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। শুক্রবার ভোরে কামরুজ্জামান তার পুকুরে মাছের খাবার দিতে গিয়ে দেখতে পান রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প ও পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মরা মাছ পানিতে ভেসে উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি কামরুজ্জামান জানান, মাছ বিক্রির আয় দিয়েই তার পরিবারের মূল সংসার খরচ চলত। আকস্মিকভাবে এই সর্বনাশা ঘটনায় তার প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি ও তার পরিবার চরম আর্থিক সংকটের পাশাপাশি গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুধু পুকুরে বিষ প্রয়োগই নয়, গত চার মাস ধরে ওই পরিবারটিকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছিল। এর আগে গভীর রাতে তাদের বাড়ির খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সম্প্রতি অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা তাদের বাড়ির দেয়ালে এবং বিভিন্ন স্থানে হত্যার হুমকি দিয়ে হাতে লেখা কয়েকটি চিরকুট ফেলে যায়। একটি চিরকুটে লেখা ছিল, ‘সাবধানে থাকিস। তোর হাতে দুই বছর টাইম আছে। তোর একটা ভুলের কারণে তুই মরবু।’ এছাড়া সম্প্রতি পুকুরের পানিতেও বেশ কয়েকটি চিরকুট পাওয়া যায়, যাতে লেখা ছিল ‘তোদের আর ছাড়ব না’ এবং ‘যেমন করেছিস, তেমন ফল পাবি’। একটি চিরকুটে আঁকা ছিল চাকুর ছবিও।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বায়োজীদ হোসেন জানান, সকালে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পুকুরে প্রচুর মরা মাছ ভেসে থাকতে দেখেন। এর আগে পরিবারটির খড়ের পালায় আগুন দেওয়া ও চিরকুটে হত্যার হুমকির বিষয়টিও তিনি শুনেছেন। তবে কারা এই নৃশংসতার সাথে জড়িত, তা পুলিশি তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মৎস্যচাষির পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয়

সবুজের আড়ালে অন্য এক নরওয়ে: কেন বিদেশ থেকে বর্জ্য আমদানি করছে ইউরোপের পরিবেশবান্ধব শীর্ষ দেশ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জয়পুরহাটে চিরকুটে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তিন পুকুরে বিষ প্রয়োগ, মাছ নিধন

আপডেট : ০৭:৪২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক মৎস্যচাষির তিনটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ নিধন করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে ওই পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে চিরকুট ফেলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। শুক্রবার দুপুরে আক্কেলপুর থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের হরিসারা চাপাগাছি গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মৎস্যচাষি কামরুজ্জামান বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে ৬০ হাজার টাকায় তিনটি পুকুর বর্গা নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। তার ভাই নুরুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। শুক্রবার ভোরে কামরুজ্জামান তার পুকুরে মাছের খাবার দিতে গিয়ে দেখতে পান রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প ও পাঙাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মরা মাছ পানিতে ভেসে উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি কামরুজ্জামান জানান, মাছ বিক্রির আয় দিয়েই তার পরিবারের মূল সংসার খরচ চলত। আকস্মিকভাবে এই সর্বনাশা ঘটনায় তার প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি ও তার পরিবার চরম আর্থিক সংকটের পাশাপাশি গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুধু পুকুরে বিষ প্রয়োগই নয়, গত চার মাস ধরে ওই পরিবারটিকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছিল। এর আগে গভীর রাতে তাদের বাড়ির খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সম্প্রতি অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা তাদের বাড়ির দেয়ালে এবং বিভিন্ন স্থানে হত্যার হুমকি দিয়ে হাতে লেখা কয়েকটি চিরকুট ফেলে যায়। একটি চিরকুটে লেখা ছিল, ‘সাবধানে থাকিস। তোর হাতে দুই বছর টাইম আছে। তোর একটা ভুলের কারণে তুই মরবু।’ এছাড়া সম্প্রতি পুকুরের পানিতেও বেশ কয়েকটি চিরকুট পাওয়া যায়, যাতে লেখা ছিল ‘তোদের আর ছাড়ব না’ এবং ‘যেমন করেছিস, তেমন ফল পাবি’। একটি চিরকুটে আঁকা ছিল চাকুর ছবিও।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বায়োজীদ হোসেন জানান, সকালে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পুকুরে প্রচুর মরা মাছ ভেসে থাকতে দেখেন। এর আগে পরিবারটির খড়ের পালায় আগুন দেওয়া ও চিরকুটে হত্যার হুমকির বিষয়টিও তিনি শুনেছেন। তবে কারা এই নৃশংসতার সাথে জড়িত, তা পুলিশি তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মৎস্যচাষির পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।