Hi

১১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি সিপিজের

সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) দাখিলকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অধিকার রক্ষা সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। নিউইয়র্কভিত্তিক এই সংগঠনটি জানিয়েছে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ আনা এবং মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি দাঁড় করানো সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত দমন-পীড়নের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। আলোচিত ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই চ্যানেলের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক ফারজানা রুপাও রয়েছেন। প্রসিকিউশন পক্ষের দাবি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ওই ঘটনার সময় মোজাম্মেল বাবুর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ফারজানা রুপা একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছিলেন, যেখানে শাপলা চত্বরের প্রাণহানির ঘটনাকে অস্বীকার করে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছিল।

সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কর্মসূচি সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার এক বিবৃতিতে মন্তব্য করেছেন যে, সংবাদকর্মীদের তাদের কাজের জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত করার এই সংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান যেন সংবাদমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার রাজনৈতিক ও প্রতিশোধমূলক এই চক্র ভেঙে ফেলা হয় এবং ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তাদের মুক্তি নিশ্চিত করা হয়। সিপিজে আরও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, এই বিচার প্রক্রিয়ায় দোষী প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত পৃথক হত্যা মামলায় গত বছরের আগস্ট মাস থেকেই কারাগারে বন্দি রয়েছেন এই দুই গণমাধ্যমকর্মী। যদিও এর আগে উচ্চ আদালত থেকে তারা জামিন লাভ করেছিলেন, পরবর্তীতে আপিল বিভাগ সেই জামিন আদেশ স্থগিত করে। আর বর্তমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই নতুন মামলার আইনি মারপ্যাঁচে তাদের কারাবাস আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সিপিজের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয় এবং চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয়

আর্জেন্টিনার জালে সিডনি কাবরালের চোখ জুড়ানো শট পেলো ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা গোল

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি সিপিজের

আপডেট : ০৯:১৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) দাখিলকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অধিকার রক্ষা সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। নিউইয়র্কভিত্তিক এই সংগঠনটি জানিয়েছে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ আনা এবং মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি দাঁড় করানো সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত দমন-পীড়নের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। আলোচিত ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই চ্যানেলের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক ফারজানা রুপাও রয়েছেন। প্রসিকিউশন পক্ষের দাবি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ওই ঘটনার সময় মোজাম্মেল বাবুর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ফারজানা রুপা একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছিলেন, যেখানে শাপলা চত্বরের প্রাণহানির ঘটনাকে অস্বীকার করে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছিল।

সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কর্মসূচি সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার এক বিবৃতিতে মন্তব্য করেছেন যে, সংবাদকর্মীদের তাদের কাজের জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত করার এই সংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান যেন সংবাদমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার রাজনৈতিক ও প্রতিশোধমূলক এই চক্র ভেঙে ফেলা হয় এবং ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তাদের মুক্তি নিশ্চিত করা হয়। সিপিজে আরও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, এই বিচার প্রক্রিয়ায় দোষী প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত পৃথক হত্যা মামলায় গত বছরের আগস্ট মাস থেকেই কারাগারে বন্দি রয়েছেন এই দুই গণমাধ্যমকর্মী। যদিও এর আগে উচ্চ আদালত থেকে তারা জামিন লাভ করেছিলেন, পরবর্তীতে আপিল বিভাগ সেই জামিন আদেশ স্থগিত করে। আর বর্তমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই নতুন মামলার আইনি মারপ্যাঁচে তাদের কারাবাস আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সিপিজের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয় এবং চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।