Hi

০৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষায় এআই দিয়ে নকলের অভিনব কৌশল, পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

প্রযুক্তি ব্যবহারের নানা সুবিধার পাশাপাশি এর অপব্যবহারের প্রবণতাও দিন দিন বাড়ছে। এবার উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে উত্তর লেখার এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষার হলে স্মার্টফোন লুকিয়ে প্রবেশ করিয়ে এবং সেই ফোনের মাধ্যমে এআই অ্যাপের সাহায্য নিয়ে উত্তর লেখার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক পরীক্ষার্থী। পরে পরীক্ষা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপে ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয় এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়।

সোমবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ কেন্দ্রে এই ঘটনাটি ঘটে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার এই কেন্দ্রটিতে পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর পরীক্ষা চলছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর ওই পরীক্ষার্থী অত্যন্ত কৌশলে সেটির ছবি তুলে নেন। এরপর মুঠোফোনে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট বা নির্দিষ্ট কোনো এআই অ্যাপে সেই প্রশ্ন ইনপুট করে মুহূর্তের মধ্যে উত্তর জেনে নেন। হলের ভেতরে বসে অত্যন্ত ধূর্ততার সঙ্গে সেই উত্তর খাতায় টুকে নেওয়ার সময় কক্ষ পরিদর্শকদের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে তাঁর আসন ঘেঁষে তল্লাশি চালানো হলে বিষয়টি উন্মোচিত হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নগরীর একটি বেসরকারি বা অন্য কোনো কলেজের মানবিক বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। পরীক্ষা চলাকালীন নিয়মবহির্ভূতভাবে মুঠোফোন সাথে রাখা এবং সেই ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতি রোধে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে কড়া নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বেশ কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাস্তব প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি, দুর্গম এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরীক্ষার্থীদের সার্বিক শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন বেশ কিছু পরীক্ষা স্থগিত ও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছিল। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বোর্ডের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার মোট ১১৪টি কেন্দ্রে এবার পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে প্রথম দিকের পরীক্ষাগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির খবরও পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম জেলায় যেখানে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন, তেমনি পাহাড়ি জেলাগুলোতেও যাতায়াত সমস্যার কারণে উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল।

শিক্ষাবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরীক্ষার হলে ডিজিটাল ডিভাইসের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির এমন অপব্যবহার রোধে কেবল সাধারণ তল্লাশি যথেষ্ট নয়, বরং কেন্দ্রগুলোতে আরও কঠোর জালিয়াতি প্রতিরোধক ব্যবস্থা বা সিগন্যাল জ্যামার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা পরীক্ষার পবিত্রতা ও মেধার মূল্যায়নকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম কঠোর হাতে দমনের হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

র রংপুরের পীরগঞ্জে পরিত্যক্ত পুকুর থেকে নারীর অর্ধগলিত বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষায় এআই দিয়ে নকলের অভিনব কৌশল, পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

আপডেট : ০৭:২৩:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

প্রযুক্তি ব্যবহারের নানা সুবিধার পাশাপাশি এর অপব্যবহারের প্রবণতাও দিন দিন বাড়ছে। এবার উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে উত্তর লেখার এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষার হলে স্মার্টফোন লুকিয়ে প্রবেশ করিয়ে এবং সেই ফোনের মাধ্যমে এআই অ্যাপের সাহায্য নিয়ে উত্তর লেখার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক পরীক্ষার্থী। পরে পরীক্ষা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপে ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয় এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়।

সোমবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ কেন্দ্রে এই ঘটনাটি ঘটে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার এই কেন্দ্রটিতে পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর পরীক্ষা চলছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর ওই পরীক্ষার্থী অত্যন্ত কৌশলে সেটির ছবি তুলে নেন। এরপর মুঠোফোনে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট বা নির্দিষ্ট কোনো এআই অ্যাপে সেই প্রশ্ন ইনপুট করে মুহূর্তের মধ্যে উত্তর জেনে নেন। হলের ভেতরে বসে অত্যন্ত ধূর্ততার সঙ্গে সেই উত্তর খাতায় টুকে নেওয়ার সময় কক্ষ পরিদর্শকদের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে তাঁর আসন ঘেঁষে তল্লাশি চালানো হলে বিষয়টি উন্মোচিত হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নগরীর একটি বেসরকারি বা অন্য কোনো কলেজের মানবিক বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। পরীক্ষা চলাকালীন নিয়মবহির্ভূতভাবে মুঠোফোন সাথে রাখা এবং সেই ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতি রোধে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে কড়া নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বেশ কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাস্তব প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি, দুর্গম এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরীক্ষার্থীদের সার্বিক শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন বেশ কিছু পরীক্ষা স্থগিত ও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছিল। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বোর্ডের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার মোট ১১৪টি কেন্দ্রে এবার পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে প্রথম দিকের পরীক্ষাগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির খবরও পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম জেলায় যেখানে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন, তেমনি পাহাড়ি জেলাগুলোতেও যাতায়াত সমস্যার কারণে উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল।

শিক্ষাবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরীক্ষার হলে ডিজিটাল ডিভাইসের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির এমন অপব্যবহার রোধে কেবল সাধারণ তল্লাশি যথেষ্ট নয়, বরং কেন্দ্রগুলোতে আরও কঠোর জালিয়াতি প্রতিরোধক ব্যবস্থা বা সিগন্যাল জ্যামার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা পরীক্ষার পবিত্রতা ও মেধার মূল্যায়নকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম কঠোর হাতে দমনের হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।