ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে না পারলে তা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য আত্মঘাতী হিসেবে গণ্য হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত ‘খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’ বিষয়ক এক অধিপরামর্শ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় টিআইবি এবং হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) যৌথভাবে মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অতীতে বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় থেকেছেন, তারা প্রায়ই ক্ষণস্থায়ী রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের অনেক দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা থাকলেও, বাংলাদেশের মতো এতটা নগ্নভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার নজির বিরল। যদি বর্তমান সরকারও একই পথে হেঁটে একটি অকার্যকর ও সরকারনিয়ন্ত্রিত মানবাধিকার কমিশন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তা শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের জন্যই ‘ফ্র্যাঙ্কস্টাইন’ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, ক্ষমতার চিরস্থায়ী কোনো ভিত্তি নেই এবং প্রাতিষ্ঠানিক অকার্যকারিতার নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত নীতিনির্ধারকদের ওপরই বর্তাবে।
টিআইবি প্রধান আরও সতর্ক করেন যে, সরকারের ভেতরে এক ধরনের ‘পরিবর্তনবিরোধী শক্তি’ সক্রিয় রয়েছে। এই শক্তি রাজনৈতিক হতে পারে, তবে আমলাতান্ত্রিক বাধা অনেক ক্ষেত্রে আরও বেশি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী। প্রস্তাবিত মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়ায় এই আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের প্রতিফলন দেখা গেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যদি সরকার উত্থাপিত ১৯টি সুপারিশ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন না করে, তবে এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, দেশে একটি প্রকৃত স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠায় সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে।
বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্রসংস্কার কর্মসূচি, নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট বা ‘জুলাই সনদ’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হলে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠন করা সম্ভব। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাব থেকে মুক্ত করে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া। মানবাধিকার সুরক্ষায় কমিশনকে কেবল নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে না রেখে, তাকে আইনি ও কাঠামোগত স্বাধীনতা প্রদানের মাধ্যমেই প্রকৃত গণতন্ত্রের পথ সুগম করা সম্ভব।
রিপোর্টার নাম: 





















