Hi

১২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেঙ্গালুরুতে ডে কেয়ার সেন্টারে শিশুদের ওপর অমানবিক নির্যাতন: ওয়াশিং মেশিনে বন্দি করে চলত পৈশাচিক শাস্তি

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি নগরী বেঙ্গালুরুতে একটি স্বনামধন্য করপোরেট অফিসের ভেতরে অবস্থিত ডে কেয়ার সেন্টারে শিশুদের ওপর চালানো অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় পুরো ভারতজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ক্যাপজেমিনি কোম্পানির হ্যাল ক্যাম্পাসের ভেতরে পরিচালিত এই শিশু যত্ন কেন্দ্রটিতে কর্মজীবী বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের নিশ্চিন্তে রেখে যেতেন, কিন্তু সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সেখানে চলত অবর্ণনীয় নৃশংসতা। ভুক্তভোগী শিশুরা মূলত দুই থেকে তিন বছর বয়সী, যারা নিজেদের ওপর চলা এই নির্যাতনের বর্ণনা দেওয়ার মতো বয়সেও পৌঁছায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শিশুরা যখন কান্নাকাটি করত, তখন শান্ত করার পরিবর্তে তাদের ফ্রন্ট-লোডিং ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের ভেতর ঢুকিয়ে আটকে রাখা হতো। এটি ছিল তাদের জন্য এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা। শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই বর্বরতা; কান্না থামাতে শিশুদের মুখে টয়লেট জেট স্প্রে দিয়ে সরাসরি পানি ছিটানো হতো, যা শ্বাসরোধকারী পরিস্থিতির সৃষ্টি করত। এছাড়া, বাথরুমের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শিশুদের আটকে রাখার মতো মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর অভিভাবক মহলে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভিডিও ফুটেজগুলো ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে আসে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ডে কেয়ার সেন্টারের পাঁচজন নারী পরিচর্যাকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি কর্ণাটক রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনেও পৃথকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে। অভিযুক্তদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে যাতে এই পৈশাচিক ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল কারণ ও অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত করা যায়।

এই ঘটনা করপোরেট অফিসগুলোর ভেতরে গড়ে ওঠা ডে কেয়ার সেন্টারগুলোর নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মজীবী মা-বাবাদের সুবিধার্থে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যে শিশু যত্ন কেন্দ্র স্থাপন করে, সেখানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা ও সিসিটিভি নজরদারি থাকা জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকে করপোরেট ডে কেয়ার সেন্টারগুলোর পরিচালনার মানদণ্ড পুনর্মূল্যায়নের দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে।

জনপ্রিয়

শিল্প ও একাডেমিয়ার মেলবন্ধনে ইউআইইউতে যাত্রা শুরু ‘নেক্সাস সেমিনার সিরিজ’

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বেঙ্গালুরুতে ডে কেয়ার সেন্টারে শিশুদের ওপর অমানবিক নির্যাতন: ওয়াশিং মেশিনে বন্দি করে চলত পৈশাচিক শাস্তি

আপডেট : ০৯:৪৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি নগরী বেঙ্গালুরুতে একটি স্বনামধন্য করপোরেট অফিসের ভেতরে অবস্থিত ডে কেয়ার সেন্টারে শিশুদের ওপর চালানো অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় পুরো ভারতজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ক্যাপজেমিনি কোম্পানির হ্যাল ক্যাম্পাসের ভেতরে পরিচালিত এই শিশু যত্ন কেন্দ্রটিতে কর্মজীবী বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের নিশ্চিন্তে রেখে যেতেন, কিন্তু সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সেখানে চলত অবর্ণনীয় নৃশংসতা। ভুক্তভোগী শিশুরা মূলত দুই থেকে তিন বছর বয়সী, যারা নিজেদের ওপর চলা এই নির্যাতনের বর্ণনা দেওয়ার মতো বয়সেও পৌঁছায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শিশুরা যখন কান্নাকাটি করত, তখন শান্ত করার পরিবর্তে তাদের ফ্রন্ট-লোডিং ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের ভেতর ঢুকিয়ে আটকে রাখা হতো। এটি ছিল তাদের জন্য এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা। শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই বর্বরতা; কান্না থামাতে শিশুদের মুখে টয়লেট জেট স্প্রে দিয়ে সরাসরি পানি ছিটানো হতো, যা শ্বাসরোধকারী পরিস্থিতির সৃষ্টি করত। এছাড়া, বাথরুমের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শিশুদের আটকে রাখার মতো মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর অভিভাবক মহলে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভিডিও ফুটেজগুলো ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে আসে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ডে কেয়ার সেন্টারের পাঁচজন নারী পরিচর্যাকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি কর্ণাটক রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনেও পৃথকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে। অভিযুক্তদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে যাতে এই পৈশাচিক ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল কারণ ও অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত করা যায়।

এই ঘটনা করপোরেট অফিসগুলোর ভেতরে গড়ে ওঠা ডে কেয়ার সেন্টারগুলোর নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মজীবী মা-বাবাদের সুবিধার্থে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যে শিশু যত্ন কেন্দ্র স্থাপন করে, সেখানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা ও সিসিটিভি নজরদারি থাকা জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকে করপোরেট ডে কেয়ার সেন্টারগুলোর পরিচালনার মানদণ্ড পুনর্মূল্যায়নের দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে।