বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নতুন ইউনিফর্মের ব্যবহার। বুধবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল প্রকল্পে ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের নতুন পোশাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের সংস্কার দাবির মুখে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে পুলিশ সদস্যদের পরনে থাকবে গাঢ় নীল রঙের শার্ট এবং খাকি রঙের প্যান্ট। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদকে স্বয়ং নতুন এই পোশাকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে পুলিশ বাহিনীতে আমূল সংস্কারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত বছরের ২৫ নভেম্বর লোহা-ধূসর রঙের শার্ট ও কফি-বাদামি প্যান্টের যে ইউনিফর্ম প্রবর্তন করা হয়েছিল, তা নিয়ে মাঠপর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর গত ১৮ জুন পুলিশ সদর দপ্তর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পোশাকের এই নতুন রূপরেখা চূড়ান্ত করে। বর্তমানে সব সদস্যের কাছে নতুন পোশাক পৌঁছানো না গেলেও পর্যায়ক্রমে সবার হাতে তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং যারা ইতিমধ্যে পেয়েছেন, তারা তা পরিধান করেই দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুলিশের শার্টের পাশাপাশি জার্সি, কার্ডিগান, পুলওভার, জ্যাকেট এবং নারীদের পোশাকের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে নীল রঙের শার্টের ওপর গাঢ় নীল রঙের ফুলহাতা জার্সি বা পুলওভার ব্যবহারের নিয়ম চালু করা হয়েছে। জেলা পুলিশ, এপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র্যাবসহ বিভিন্ন ইউনিটের জন্য খাকি রঙের ট্রাউজার এবং গাঢ় নীল টিসি প্লেইন ফেব্রিক কাপড়ের শার্ট নির্ধারিত হয়েছে।
নারী পুলিশ সদস্যদের পোশাকের ক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে বিশেষ নমনীয়তা। তারা চাইলে শাড়ি বা নির্ধারিত গাঢ় নীল পোশাক পরতে পারবেন। মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে হালকা জলপাই রঙের ব্লাউজ পরার নিয়ম রাখা হয়েছে। এছাড়া ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত নারী পুলিশ সদস্যদের সারা বছর পূর্ণ হাতা শার্ট বা ব্লাউজ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রীষ্মকালে অর্ধহাতা এবং শীতকালে পূর্ণ হাতা শার্ট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতাও প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পোশাকের এই পরিবর্তন কেবল নান্দনিক নয়, বরং পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা ফেরানো এবং একটি আধুনিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর সংস্কার প্রক্রিয়ারই বহিঃপ্রকাশ।
রিপোর্টার নাম: 



















